ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে রাজনৈতিক বার্তাসম্বলিত পতাকা প্রদর্শনের ঘটনায় আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ভাবছে ফিফা। দ্য স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা এই পতাকা নিয়ে উদযাপন করেন।
ম্যাচটিতে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেয়। ফাইনালে তারা স্পেনের মুখোমুখি হবে। তবে ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের উদযাপন নজর কেড়েছে এবং এর জন্য তারা শাস্তির মুখে পড়তে পারেন।
আর্জেন্টিনার বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে ‘লাস মালভিনাাস সন আর্জেন্টিনাস’ লেখা একটি পতাকা নিয়ে পোজ দিতে দেখা যায়, যার অর্থ ‘ফকল্যান্ডস আর্জেন্টিনার’। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, যা আর্জেন্টিনায় লাস মালভিনাস নামে পরিচিত, সেটি যুক্তরাজ্য এবং আর্জেন্টিনার মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সার্বভৌমত্বের বিরোধের বিষয়। টটেনহ্যাম হটস্পারের ক্রিস্টিয়ান রোমেরো এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের লিসান্দ্রো মার্টিনেজসহ দলের অন্যান্য খেলোয়াড়দের এই পতাকার সঙ্গে ছবি তুলতে দেখা গেছে। এছাড়া সমর্থক ও খেলোয়াড়রা ফকল্যান্ড সংঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত গানও গেয়েছেন এবং আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টেও একই ধরনের বিষয়বস্তু দেখা গেছে।
এই ঘটনাটি ফিফার নজরে এসেছে কারণ বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপের সময় যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া বা প্রদর্শন নিষিদ্ধ। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে, কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন আছে কি না, তা নির্ধারণের আগে তারা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
ফিফার একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাদের স্বাধীন ডিসিপ্লিনারি কমিটি বা শৃঙ্খলা কমিটি অফিসিয়াল ম্যাচ রিপোর্ট এবং প্রাসঙ্গিক সমস্ত পরিস্থিতি পরীক্ষা করে দেখছে। এরপরই ফিফার ডিসিপ্লিনারি কোড অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা ঠিক করা হবে। এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা বা কোনো খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
ফিফা যদি মনে করে তাদের নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে, তবে সম্ভাব্য শাস্তির তালিকায় আর্থিক জরিমানা থাকতে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে খেলোয়াড়দের নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
এদিকে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্যের সরকার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, “বিশ্বকাপ হয়তো আমাদের নয়, কিন্তু ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিশ্চিতভাবেই আমাদের। আমাদের অবস্থান অপরিবর্তিত। দ্বীপের বাসিন্দাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার রয়েছে এবং ফকল্যান্ডের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার অটুট থাকবে।” তিনি আরও বলেন, “সামগ্রিকভাবে, সম্ভাব্য ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি ফিফার এখতিয়ার। তবে বিশ্বকাপটি চমৎকার হচ্ছে এবং আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি যে, ফুটবলের বাইরে রাজনীতি থাকা উচিত।”
