আর্জেন্টিনা ম্যাচে হারের দায় খেলোয়াড়দের ওপরই চাপালেন টমাস টুখেল
আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ইংল্যান্ডের বিদায়ের পর নিজের কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলোর পক্ষে সাফাই গাইলেন থমাস টুখেল। জার্মান এই কোচ দাবি করেছেন, তার করা খেলোয়াড় বদলের চেয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে খেলোয়াড়দের ব্যর্থতাই ইংল্যান্ডের পরাজয়ের মূল কারণ।
দ্বিতীয়ার্ধের ১০ মিনিটের মাথায় মর্গান রজার্সের নিচু ক্রস থেকে গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দিয়েছিলেন অ্যান্থনি গর্ডন।
থ্রি লায়নরা তখন বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল, কিন্তু শেষ দিকে লিওনেল মেসির দারুণ নৈপুণ্যে ঘুরে দাঁড়ায় আর্জেন্টিনা।
আট মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা নিজেদের ফাইনাল নিশ্চিত করে এবং ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের ইংল্যান্ডের স্বপ্ন ভেঙে দেয়।
ইংল্যান্ডের বিদায়ের পর থেকেই টুখেলের গেম-প্ল্যান ও কৌশল নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে।
ম্যাচ শেষ হওয়ার ২০ মিনিট আগে গর্ডনের পরিবর্তে এজরি কোনসাকে মাঠে নামিয়ে দলটিকে পাঁচ ডিফেন্ডারের কৌশলে সাজান টুখেল। এরপর আর্জেন্টিনার চাপ সামলাতে তিনি আরও দুই ডিফেন্ডারকে নামান।
তবে সেই সিদ্ধান্তগুলো কাজে আসেনি। বরং মেসি এঞ্জো ফার্নান্দেজ এবং লাউতারো মার্টিনেজকে দিয়ে গোল করিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন এবং ইংল্যান্ডকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে ফেলেন।
সমালোচনার মুখেও টুখেল মনে করেন, এই ফলাফলের জন্য তার কৌশলের চেয়ে দলের মানসিকতার অভাব বেশি দায়ী।
তিনি দাবি করেন, যখন দলের বল দখলে রেখে আর্জেন্টিনার গতি কমানো প্রয়োজন ছিল, তখন খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস ও শান্ত থাকার অভাব দেখা গেছে।
ডেইলি মেইলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টুখেল বলেন, “আমি মনে করি বল দখলের বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ।”
“স্প্যানিশ, আর্জেন্টাইন বা ব্রাজিলিয়ানদের ডিএনএ-তে যেমনটা থাকে, বল পায়ে রাখা এবং খেলা নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা আমাদের সেভাবে নেই। এটি আমাদের জন্য বড় একটি সমস্যা।”
“তবে যেকোনো কৌশলের মতোই, সক্রিয় থাকা এবং লড়াই চালিয়ে যাওয়া জরুরি ছিল।”
“আমরা তা পারিনি। আমার মনে হয়, সেই মুহূর্তে পৃথিবীর কোনো কৌশলই আমাদের বাঁচাতে পারত না, কারণ আমরা খুব বেশি নিষ্ক্রিয় ছিলাম। আমরা যথেষ্ট শারীরিক শক্তি দেখাতে পারিনি।”
এই হতাশাজনক ফলাফলের পরেও ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) টুখেলের ওপর আস্থা রেখেছে, যিনি বিশ্বকাপের আগেই নিজের চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়েছিলেন।
টুখেল বিশ্বাস করেন, বিশ্বের সেরা দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো টেকনিক্যাল দক্ষতা ইংল্যান্ডের আছে। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, উন্নতির জন্য দলটির এখনো অনেকটা পথ বাকি আছে।
