প্রিয় দাদির মৃত্যুর শোক নিয়েও মাঠে নামলেন রিয়াল মাদ্রিদের তরুণ তারকা জোয়ান মার্তিনেজ
এএস (AS)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াল মাদ্রিদ কাস্তিলার তরুণ ডিফেন্ডার জোয়ান মার্তিনেজ গত শুক্রবার রাতে শোকার্ত হৃদয়ে ইবিজার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন। কারণ, ম্যাচটি শুরুর আগেই তিনি জানতে পেরেছিলেন যে তার দাদি মাটিল্ডে মারা গেছেন।
রিয়াল মাদ্রিদ কাস্তিলার একাডেমি থেকে উঠে আসা এই তরুণ ফুটবলার এই দুঃসংবাদটি প্রকাশ্যে আনতে চাননি। তিনি নিজের শোক গোপন রেখে কারো সাথে কোনো কথা না বলেই মাঠে নামেন। তার জীবনের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কঠিন এই ম্যাচটি তিনি খেলেছেন ভালোবাসা, শক্তি এবং তার প্রিয় দাদির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে।
দাদির প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধাঞ্জলি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্তিনেজ চেয়েছিলেন এই ম্যাচটি তার দাদির প্রতি একটি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে থাকুক। আলজিনেতে নিজেদের গ্রামে ফুটবল খেলা শুরুর দিন থেকেই তার দাদি সবসময় তার পাশে ছিলেন।
২০০৭ সালের ২০ আগস্ট জন্মগ্রহণ করা এই খেলোয়াড় তার ফুটবল জীবনের শুরু থেকেই দাদির সমর্থন পেয়ে বড় হয়েছেন। কোনো অজুহাত বা বিশ্রামের পথ না খুঁজে তিনি পেশাদারিত্বকেই বেছে নিয়েছেন। ক্লাব তার পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ছুটি দিলেও, তিনি নিজের দাদিকে গর্বিত করতে এবং তাকে সম্মান জানাতে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেন।
ইবিজার বিপক্ষে ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়, যা লিগের অন্যতম শক্তিশালী দলের বিপক্ষে কাস্তিলার জন্য একটি মূল্যবান পয়েন্ট ছিল। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মার্তিনেজ লড়াই চালিয়ে গেছেন।
মৌসুমজুড়ে উত্থান-পতনের মধ্যেও মার্তিনেজের কঠোর পরিশ্রম
চলতি মৌসুমে ব্যক্তিগত নানা চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও তরুণ এই ডিফেন্ডার নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
গত মৌসুমে নিয়মিত একাদশে খেলার পর, প্রি-সিজনে হোসে মরিনহোর অধীনে প্রথম দলের হয়েও মাঠ মাতিয়েছিলেন মার্তিনেজ। ফিওরেন্টিনা ও ফেরেনভারোসের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে তিনি শুরুর একাদশে ছিলেন। তবে এবার কাস্তিলার হয়ে তিনি কিছুটা কম সময় মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন। অস্কার নাসেই এবং মারিও রিভাসের পর তিনি এখন তৃতীয় পছন্দের সেন্টার-ব্যাক।
তবে খেলার সময় কম পেলেও মার্তিনেজ তার পারফরম্যান্সের মান বজায় রেখেছেন। রক্ষণভাগ এবং পাসিংয়ের বিভিন্ন পরিসংখ্যানে তিনি দলের অন্যদের চেয়ে এগিয়ে আছেন। প্রতি ৯০ মিনিটে গড়ে ১.৭৭টি ডিফেন্সিভ ডুয়েল জয়, ৬.২টি ইন্টারসেপশন, ১০.৩৩টি রিকভারি এবং ৫৩.৪১টি সফল পাস দিয়ে তিনি নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে চলেছেন।
