আন্তর্জাতিক বিরতি শেষে বুন্দেসলিগার রোমাঞ্চকর ফিরতি
আন্তর্জাতিক বিরতি শেষে বুন্দেসলিগা আবারও মাঠে গড়িয়েছে। বরুশিয়া ডর্টমুন্ড বনাম ওয়ের্ডার ব্রেমেনের ম্যাচে নিকো কোভাচের দল দুই গোলের লিড নিয়েও শেষ ১০ মিনিটে তা ধরে রাখতে পারেনি। ২-২ গোলে ড্র হওয়া এই ম্যাচের মাধ্যমে ডর্টমুন্ডের মৌসুমের শতভাগ জয়ের ধারার সমাপ্তি ঘটেছে।
শনিবার বিকেলে বাভারিয়ান ডার্বিতে অগসবার্গের মুখোমুখি হয়েছিল বায়ার্ন মিউনিখ। এছাড়া হফেনহেইমের বিপক্ষে হামবুর্গ, প্যাডারবর্নের বিপক্ষে স্টুটগার্ট, বায়ার লেভারকুসেনের বিপক্ষে মেইনজ এবং এলভেসবার্গের বিপক্ষে ইউনিয়ন বার্লিন মাঠে নামে।
ম্যাচগুলো থেকে প্রাপ্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিচে তুলে ধরা হলো:
ম্যানুয়েল নয়্যারের সময় কি ফুরিয়ে আসছে:
ম্যানুয়েল নয়্যারের ক্যারিয়ারের অর্জন এবং ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক হিসেবে তার মর্যাদা নিয়ে কোনো সংশয় নেই। তবে বর্তমানে তার ফর্ম বিবেচনায় এটি বলাই যায় যে, তিনি তার সেরা সময় পার করে এসেছেন।
ইউরো কাপে জার্মানির হয়ে তার পারফরম্যান্স প্রমাণ করেছিল যে তিনি ছন্দে নেই। বুন্দেসলিগার এবারের আসরেও তার পারফরম্যান্স খুব একটা আত্মবিশ্বাস জোগাতে পারছে না, যা আজকের ম্যাচে আরও স্পষ্ট হয়েছে।
ম্যাচের আট সেকেন্ডের মধ্যেই (বুন্দেসলিগার নতুন রেকর্ড) নয়্যারের দুর্বল পাস থেকে বল পেয়ে অগসবার্গকে গোল উপহার দেন রবিন ফেলহাউয়ার। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে তার ভুল শটে বল পেয়ে রদ্রিগো রিবেইরো ২-১ ব্যবধানে দলকে এগিয়ে দেন।
অবশ্য শেষ দিকে নাথানিয়েল ব্রাউনের গোলে বায়ার্ন মিউনিখ হারের লজ্জা থেকে রক্ষা পায়।
৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষকের এটিই পেশাদার ক্যারিয়ারের শেষ মৌসুম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই জোনাস উরবিগকে নিয়মিত সুযোগ দেওয়া বায়ার্নের জন্য যৌক্তিক হতে পারে, কারণ নয়্যারের বর্তমান পারফরম্যান্স দলের পয়েন্ট নষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
ঘুরে দাঁড়িয়েছে হামবুর্গ:
আন্তর্জাতিক বিরতির আগে দুই ম্যাচে ১০ গোল হজম করে রেলিগেশন জোনে থাকা হামবুর্গকে নিয়ে উদ্বেগের কারণ ছিল। তবে মার্লিন পোলজিনের চুক্তি নবায়নের পর দলটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বিরতির আগে তারা এফসি কোলেনকে হারায়, আর এবার হফেনহেইমের বিপক্ষে ২-১ গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়।
এই জয়ের ফলে হামবুর্গ এখন পয়েন্ট টেবিলের ১১তম স্থানে রয়েছে এবং সামনের ম্যাচগুলোর শিডিউলও তাদের অনুকূলে। এছাড়া এই ম্যাচে টেরেম মফির গোলটিও দলের জন্য ইতিবাচক, যা হামবুর্গের জার্সিতে বুন্দেসলিগায় তার প্রথম গোল। নতুন খেলোয়াড়রা মানিয়ে নিলে হামবুর্গের পারফরম্যান্স আরও উন্নত হবে।
অন্যদিকে, হফেনহেইমের অবস্থা ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। গ্রীষ্মে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করার পরও তারা ১৭তম স্থানে রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত মাত্র একটি জয় পেয়েছে। এর সঙ্গে ইউরোপা লিগের বাড়তি চাপ তাদের দুর্ভাবনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
আবারও ছন্দ ফিরে পেয়েছে বায়ার লেভারকুসেন:
গত মৌসুমে লেভারকুসেনের খেলা খুব একটা আকর্ষণীয় ছিল না। তবে কার্লেস মার্টিনেজের অধীনে দলটি আবারও উপভোগ্য ফুটবল উপহার দিচ্ছে, যার প্রমাণ মেইনজের বিপক্ষে তাদের ৪-৩ গোলের জয়।
ম্যাচের ১০ মিনিটের মধ্যেই রবার্ট আন্ডরিচ ও প্যাট্রিক শিকের গোলে দুই গোলে এগিয়ে যায় ‘ডি ওয়ের্কসেলফ’। তবে প্রথমার্ধেই মেইনজের অ্যান্থনি কাসি জোড়া গোল করে সমতায় ফেরান। দ্বিতীয়ার্ধে আবারও ১০ মিনিটের ঝড়ে জ্যারেল কোয়ানসাহ ও মুসা দিয়াবি (লেভারকুসেনে ফেরার পর প্রথম গোল) দলকে ৪-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
ম্যাচের ৯২তম মিনিটে বেনেডিক্ট হলারবাখ একটি গোল শোধ করলেও শেষ পর্যন্ত লেভারকুসেন জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে।
বর্তমানে বুন্দেসলিগার পয়েন্ট টেবিলে চতুর্থ স্থানে রয়েছে বায়ার লেভারকুসেন এবং লিগের দ্বিতীয় সেরা আক্রমণভাগ এখন তাদেরই দখলে।
