বুন্দেসলিগার ইতিহাসে দ্রুততম গোল করে রেকর্ড গড়লেন রবিন ফেলহাওয়ার
শনিবার বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে বুন্দেসলিগার ইতিহাসে দ্রুততম গোল করেছেন এফসি অগসবার্গের মিডফিল্ডার রবিন ফেলহাওয়ার। গোলটি করতে ২৮ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়ের সময় লেগেছে মাত্র ৮.৪ সেকেন্ড। এর আগে কারিম বেল্লারাবি এবং কেভিন ভোল্যান্ড নয় সেকেন্ডে গোল করে এই রেকর্ডের অংশীদার ছিলেন।
স্কাই জার্মানি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পূর্বের রেকর্ডধারীদের নিয়ে মজা করে ফেলহাওয়ার বলেন, “হ্যাঁ, তারা খুব ধীরগতির ছিল। তবে সব রসিকতা বাদ দিয়ে বলছি, এত বড় একটি অর্জনের অংশ হওয়া অবর্ণনীয়। শীর্ষে থাকাটা এক অবিশ্বাস্য অনুভূতি।”
ফেলহাওয়ারের এই ঐতিহাসিক গোলটি এসেছে বায়ার্ন গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ারের একটি বড় ভুল থেকে। বায়ার্নের খেলোয়াড়রা খেলা শুরু করার পর লুইস ডিয়াজ বল সরাসরি নয়ারের দিকে বাড়িয়ে দেন। নয়ার বলটি নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন এবং তার ক্লিয়ার করার চেষ্টায় বলটি সামনে থাকা ফেলহাওয়ারের পিঠে লেগে জালে জড়ায়।
এর আগে ২০১৪ সালের আগস্টে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে বায়ার লেভারকুসেনের হয়ে নয় সেকেন্ডে গোল করে রেকর্ডটি গড়েছিলেন বেল্লারাবি। প্রায় এক বছর পর বায়ার্নের বিপক্ষেই হফেনহাইমের হয়ে সেই রেকর্ডে ভাগ বসান ভোল্যান্ড। ম্যাচ পরবর্তী সাক্ষাৎকারে ফেলহাওয়ারকে উভয় খেলোয়াড়ের অভিনন্দন বার্তাও দেখানো হয়। নতুন রেকর্ডধারী এর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “এটি খুবই চমৎকার। আমি তাদের দুজনের প্রতিই কৃতজ্ঞ।”
রবিন ফেলহাওয়ারের বুন্দেসলিগা যাত্রা
২৭ বছর বয়স পর্যন্ত বুন্দেসলিগায় অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা একজন খেলোয়াড়ের জন্য এই অর্জন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ফ্রাইবুর্গে পাঁচ বছর কাটিয়ে ২০১৯ সালে এসভি এলভারসবার্গে যোগ দেন ফেলহাওয়ার। ম্যানহাইমের বাসিন্দা এই ফুটবলার সারল্যান্ডে ছয় বছর কাটিয়েছেন এবং ক্লাবটিকে রিজিওনাল লিগা থেকে ৩. লিগা হয়ে ২. বুন্দেসলিগায় উন্নীত করতে সহায়তা করেছেন।
২০২৫ সালের গ্রীষ্মে প্রায় সাত লক্ষ ইউরোর বিনিময়ে অগসবার্গ এই প্রাক্তন এলভারসবার্গ অধিনায়ককে দলে ভেড়ায়। শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে নতুন হলেও, অভিষেকের প্রথম মৌসুমে বুন্দেসলিগার ৩৪টি ম্যাচেই খেলেছেন ফেলহাওয়ার। গত ৩০ সেপ্টেম্বর কিকার-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, শুরুতে বুন্দেসলিগার মান বুঝতে তার কিছুটা বেগ পেতে হয়েছিল।
“তারা সত্যিই খুব ভালো! এটা বিশ্বাস করা কঠিন ছিল যে আমি এতটা খারাপ হতে পারি না,” অগসবার্গের মূল দলের খেলোয়াড়দের সাথে অনুশীলনের অভিজ্ঞতার কথা এভাবেই স্মরণ করেন এই মিডফিল্ডার।
ফেলহাওয়ার আরও জানান, এখনো তিনি বুন্দেসলিগায় নিয়মিত খেলার বিষয়টি পুরোপুরি মেনে নিতে পারছেন না। গত মৌসুমে প্রতিটি লিগ ম্যাচে খেলার পরেও, যখনই তিনি মূল একাদশে জায়গা পান, তখনই পরিবারের গ্রুপ চ্যাটে হাসি ইমোজি দিয়ে তা জানান।
তার মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা অগসবার্গের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণিত হয়েছে। গেট জার্মান ফুটবল নিউজ-এর মূল্যায়ন অনুযায়ী, অক্লান্ত পরিশ্রম এবং ট্যাকটিক্যাল বহুমুখিতার মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি উইং-ব্যাক, ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার এবং অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
উদযাপনে নেই বাড়তি আয়োজন
বুন্দেসলিগার রেকর্ড বইয়ে নাম লিখিয়েও ফেলহাওয়ারের কোনো বড় সেলিব্রেশনের পরিকল্পনা নেই। তিনি বলেন, “পরিবার এসেছে, তাদের নিয়ে খাবার খেয়ে একটু সোফায় গা এলিয়ে আরাম করব।”
তার এই সোফায় বিশ্রামের পরিকল্পনার সাথে মজার এক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। অগসবার্গে আসার পর অ্যাপার্টমেন্টে আসবাবপত্র কিনতে গিয়ে তিনি সোফার পরিমাপ ভুল করেছিলেন। ২.৭০ মিটারের বিশাল সোফাটি দুই মিটারের জায়গায় আটকাতে গিয়ে তাকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছিল, পরে অবশ্য তিনি সেটি বদলে ফেলেন। এখন ইতিহাসের পাতায় নাম তোলার পর, নিজের সোফায় আরামে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ তার রয়েছে।
