সংবাদ সম্মেলন এড়িয়ে শাস্তির মুখে পড়তে পারেন হোসে মরিনহো
ভিলারিয়ালের বিপক্ষে ১-০ গোলে জয়ের পর রিয়াল মাদ্রিদের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না কোচ হোসে মরিনহো। এই অনুপস্থিতির কারণে তিনি শাস্তির মুখে পড়তে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে কথা বললে আসন্ন লা লিগা ম্যাচগুলোতে ডাগআউটে থাকার সুযোগ হারাতে পারেন—এমন আশঙ্কায় তিনি সেখানে যাননি। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ভিনিসিউস জুনিয়রের লাল কার্ড পাওয়ার ঘটনাটিই ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ম্যানেজিং মাদ্রিদের তথ্যমতে, এই ঘটনায় রিয়াল মাদ্রিদ কোচ বেশ ক্ষুব্ধ ছিলেন। এল মুন্দোর বরাত দিয়ে ট্রিবিউনা জানিয়েছে, রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্য করলে নিষিদ্ধ হওয়ার ভয় থেকেই মরিনহো সংবাদ সম্মেলন এড়িয়ে গেছেন। মার্কাকে উদ্ধৃত করে আফ্রিকা সকারও একই কথা জানিয়েছে; কোচের লক্ষ্য ছিল নিজের ডাগআউটে থাকার সুযোগ রক্ষা করা।
ভিনিসিউসের লাল কার্ডের পর সংবাদ সম্মেলনে অনুপস্থিত মরিনহো
১০ অক্টোবর শনিবার সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ভিলারিয়ালকে হারানোর পর মরিনহো সংবাদ সম্মেলনে আসেননি, এ বিষয়ে সব পক্ষই একমত। প্রতিবেদনগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে সেভিয়া এবং বার্সেলোনার বিপক্ষে পরবর্তী দুটি লিগ ম্যাচে তার অংশগ্রহণ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কাই ছিল তার এই সিদ্ধান্তের কারণ। তবে এই নিষেধাজ্ঞা কেবলই একটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে শোনা যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না বা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। রিয়াল মাদ্রিদের ঘরোয়া ফুটবল সংক্রান্ত পূর্বের অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি আলোচনায় এলেও কোনো প্রত্যক্ষ যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।
পারফরম্যান্স ছাপিয়ে বড় হয়ে ওঠে লাল কার্ডের বিতর্ক
ম্যানেজিং মাদ্রিদ রিয়াল মাদ্রিদের পারফরম্যান্সকে সাদামাটা বলে অভিহিত করলেও, লাল কার্ডের ঘটনাই হয়ে ওঠে ম্যাচের আলোচনার মূল বিষয়। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও লাল কার্ড নিয়ে মরিনহোর ক্ষোভ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণেই তিনি সংবাদ সম্মেলনে কী বলবেন তা নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন বলে মনে করা হয়, যদিও তিনি শেষ পর্যন্ত কোনো মন্তব্যই করেননি।
রেফারিং নিয়ে মরিনহোর সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যার মধ্যে বার্সেলোনা সংক্রান্ত পেনাল্টির সিদ্ধান্তটিও ছিল। তবে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে এটি নিশ্চিত নয় যে, সংবাদ সম্মেলন বর্জন করা ক্লাবের কোনো প্রতিবাদের অংশ ছিল কি না, কিংবা ভিলারিয়ালের বিপক্ষে রেফারির সিদ্ধান্তের বিষয়ে রিয়াল মাদ্রিদ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ দায়ের করেছে কি না।
অনিশ্চিত পরিণতির দিকে রিয়াল মাদ্রিদ কোচ
বুধবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রোমার মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ। এরপর লিগে সেভিয়া ও বার্সেলোনার বিপক্ষে ম্যাচ রয়েছে দলটির। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘরোয়া লিগের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে ডাগআউটে উপস্থিত থাকাই ছিল মরিনহোর মূল লক্ষ্য।
সংবাদ সম্মেলনে দায়িত্ব পালন না করার ফলে তিনি কোনো শাস্তির মুখোমুখি হবেন কি না, তা এখনও অস্পষ্ট। বর্তমানে কেবল সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিই মরিনহোর এই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ হিসেবে উঠে আসছে, তবে এটি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।
