ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বকেয়া বেতন নিয়ে ইতালির শীর্ষ আদালতে জুভেন্টাস
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বকেয়া পাওনা বাবদ ৯.৮ মিলিয়ন ইউরো পরিশোধের যে নির্দেশ আদালত দিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে এবার ইতালির কোর্ট অফ ক্যাসেশনে আপিল করেছে জুভেন্টাস।
২০২১ সালে রোনালদো আলিয়াঞ্জ স্টেডিয়াম ছেড়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার পর থেকেই এই আইনি বিবাদের সূত্রপাত। কোভিড-১৯ অতিমারির সময়কার একটি চুক্তির ওপর ভিত্তি করে এই বিবাদটি দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে জুভেন্টাস বকেয়া বেতন হিসেবে ১৯.৫ মিলিয়ন ইউরো পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বলে জানা যায়।
ক্লাবের আর্থিক কার্যক্রম এবং তথাকথিত ‘স্যালারি ম্যানুভার’ বা বেতন সংক্রান্ত কৌশলের তদন্তের সময় ‘রোনালদো লেটার’ নামে একটি ব্যক্তিগত নথি সামনে আসে। এর মাধ্যমে খেলোয়াড়দের সঙ্গে বেতনের বিষয়ে করা সমঝোতাগুলো প্রকাশ্যে আসে।
রোনালদো এ পর্যন্ত এই মামলায় দুটি ইতিবাচক রায় পেয়েছেন। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে একটি আরবিট্রেশন প্যানেল সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে জানায় যে, জুভেন্টাসকে অবশ্যই রোনালদোকে ৯.৮ মিলিয়ন ইউরোসহ সুদ এবং মুদ্রাস্ফীতির সমন্বয় করে অর্থ প্রদান করতে হবে। এটি মূলত তার দাবিকৃত অর্থের অর্ধেক।
প্যানেল তাদের পর্যবেক্ষণে জানায় যে, জুভেন্টাস ইচ্ছাকৃতভাবে খেলোয়াড়কে বিভ্রান্ত করেনি। এছাড়া ২০২১ সালে রোনালদো ইতালি ছাড়ার সময় এই অর্থ দাবি করেননি বলেও প্যানেল উল্লেখ করে।
পরবর্তীতে জুভেন্টাস এই রায়ের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানালে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে তুরিন লেবার কোর্ট সেই আপিল খারিজ করে দেয় এবং মূল রায়টি বহাল রাখে।
গ্যাজেটা নিশ্চিত করেছে যে, বিয়াঙ্কোনেরিরা তাদের প্রাক্তন স্ট্রাইকারের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে ইতালির সর্বোচ্চ আদালত ‘কোর্ট অফ ক্যাসেশন’-এর দ্বারস্থ হয়েছে। ২০২৫-২৬ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে ক্লাবটি জানিয়েছে, তারা গত ২৭ মার্চ, ২০২৬ তারিখে আপিল দায়ের করেছে এবং এখন শুনানির তারিখের অপেক্ষায় আছে।
কোর্ট অফ ক্যাসেশন ইতালীয় বিচার ব্যবস্থার সর্বোচ্চ পর্যায় এবং আপিলের শেষ আদালত।
এদিকে, বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে জুভেন্টাস জানিয়েছে যে, এই রায়ের ফলে আর্থিক যে প্রভাব পড়বে তা ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকেই তাদের হিসেবে দেখানো হয়েছে। তাই বর্তমান বা ভবিষ্যতের আর্থিক বিবৃতিতে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে ক্লাবটি আশা করছে।
