কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণায় আর্সেনালে অস্বস্তি
দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আর্সেনাল ফুটবল ক্লাব তাদের প্রায় ৬০ জন কর্মীকে ছাঁটাইয়ের ঝুঁকিতে ফেলার ঘোষণা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের কারণে ক্লাবের অন্দরমহলের মনোবল অনেকটাই ভেঙে পড়েছে।
২০ বছরেরও বেশি সময় পর প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জয়ের কয়েক মাস পরেই এমন সিদ্ধান্তের কথা শুনে কর্মী ও সমর্থকরা হতবাক হয়েছেন। বিশেষ করে, কোচ মিকেল আরতেটা নতুন ও আকর্ষণীয় চুক্তিতে স্বাক্ষর করার কয়েক দিনের মধ্যেই এই খবর সামনে এল।
মাঠে দলের সাফল্য এবং গত বছর রেকর্ড পরিমাণ আয়ের পরেও ক্লাবের নেপথ্যের পরিবেশ ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠেছে। এমিরেটস স্টেডিয়ামে শুধু ছাঁটাই নয়, আরও বড় ধরনের পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী কর্মী ইতোমধ্যেই ক্লাব ছেড়েছেন অথবা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে তারা দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আর্সেনালে প্রায় ৮৫০ জন কর্মী কাজ করেন। তাদের মধ্যে অনেকেই বাণিজ্যিক, খুচরা এবং প্রশাসনিক শাখায় কর্মরত। যেখানে ক্লাবের সেরা ফুটবলাররা প্রতি বছর মিলিয়ন মিলিয়ন পাউন্ড আয় করেন, সেখানে অধিকাংশ সাধারণ কর্মীর বেতন সাধারণ মানের এবং চাকরি হারানোর মতো ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন তারা।
ক্লাবের শিরোপা জয়ের অভিযান শেষ হওয়ার আগে থেকেই এই পুনর্গঠনের পরিকল্পনা চলছিল। গত বছরের সেপ্টেম্বরে রিচার্ড গার্লিক প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্লাবের কার্যক্রম পর্যালোচনার উদ্যোগ নেন। এই প্রক্রিয়ায় ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপও যুক্ত ছিল।
ক্লাবের আর্থিক পরিস্থিতি এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে। আর্সেনাল টানা সাত বছর ধরে লোকসানে রয়েছে এবং তাদের সর্বশেষ হিসাব নিকাশেও একই ধারা বজায় থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রিমিয়ার লিগ জয় ক্লাবের খ্যাতি বাড়ালেও এটি তাৎক্ষণিক আর্থিক সমস্যার সমাধান করতে পারে না। এছাড়া সফল মৌসুমের পর পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে খেলোয়াড়দের বোনাস দেওয়ার ফলে খরচ আরও বেড়ে যায়।
আর্সেনাল তাদের সম্পদ আরও ভালোভাবে ব্যবহার করতে চায়, আয় বাড়াতে চায় এবং মূল দলের জন্য আরও বেশি বিনিয়োগ করতে চায়। আলোচনা প্রক্রিয়া চলাকালীন ছাঁটাইয়ের মুখে থাকা কিছু কর্মীকে বিকল্প পদের প্রস্তাবও দেওয়া হতে পারে।
কোচ আরতেটা বরাবরই আর্সেনালকে একটি পরিবার হিসেবে বর্ণনা করে এসেছেন এবং সেই চেতনা তুলে ধরতে প্রশিক্ষণ মাঠে ‘উইন’ নামের একটি কুকুরও নিয়ে এসেছিলেন। তবে বর্তমানের এই ছাঁটাইয়ের প্রস্তাব কর্মীদের মধ্যে ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। আরতেটা বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাই এখন ক্লাবের মালিক এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ওপরই নির্ভর করছে তারা কীভাবে এই পরিবর্তনগুলো ব্যাখ্যা করবেন এবং উদ্বিগ্ন কর্মীদের আশ্বস্ত করবেন।
