উয়েফা অনূর্ধ্ব-১৯ ইউরো ফাইনালের আগে আত্মবিশ্বাসী বার্সেলোনা তারকা জাভি এসপার্ট
বিশ্বের নজর যখন ফিফা বিশ্বকাপের দিকে, ঠিক তখনই ফুটবলের আরেকটি বড় মঞ্চ হিসেবে নজর কাড়ছে উয়েফা অনূর্ধ্ব-১৯ ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ। এই প্রতিযোগিতায় শুরু থেকেই দুর্দান্ত ফুটবল খেলে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। টুর্নামেন্টের প্রতিটি ধাপেই তারা নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে।
আজ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টুর্নামেন্টের ফাইনালে শিরোপার অন্যতম দাবিদার স্পেন। এই শক্তিশালী দলের অন্যতম সদস্য বার্সেলোনার উদীয়মান প্রতিভা জাভি এসপার্ট, যিনি দলের হয়ে প্রতিটি ম্যাচে শুরুর একাদশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
এসপার্টের খোলামেলা সাক্ষাৎকার
আজকের ফাইনালের আগে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কার সঙ্গে কথা বলেছেন বার্সেলোনার এই তরুণ তুর্কি। সেখানে তিনি তার ২০২৬ মৌসুমের অভিজ্ঞতা এবং বার্সেলোনায় নিজের শুরুর দিনগুলো নিয়ে আলোচনা করেন।
নিজের ক্যারিয়ারের বর্তমান সময় নিয়ে এসপার্ট বলেন, “এটা অনেকটা স্বপ্নের মতো। বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার পর থেকেই মূল দলে অভিষেক হওয়া আমার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে এবং সেখানে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “প্রতিদিন বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে অনুশীলন করলে নিজের খেলায় উন্নতি ঘটে। এখন আমার লক্ষ্য হলো ইউরোপীয় শিরোপা জিতে মৌসুম শেষ করা।”
নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে বার্সেলোনার হয়ে নিজের অভিষেকের মুহূর্তটির কথা স্মরণ করে এসপার্ট বলেন, “সবকিছু খুব দ্রুত ঘটেছিল। মাত্র ১৫-২০ সেকেন্ডের মধ্যে ওয়ার্ম-আপ থেকে সরাসরি মাঠে নামতে হয়েছিল, যা বোঝার সময়ও পাইনি। সেটি ছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং নিউক্যাসলের স্টেডিয়াম। সেই সময়ে অ্যাড্রেনালিনের মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে চিন্তা করার সুযোগ ছিল না। আট-দশ মিনিট আমি যেন বাতাসের গতিতে দৌড়াচ্ছিলাম। ওই মুহূর্তটি আমার জীবনের সেরা সময় ছিল।”
ড্রেসিংরুমে ফেরার পর সবার আগে তিনি তার বাবা-মাকে ফোন করেছিলেন। তিনি বলেন, “আমার বাবা-মা আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। আমার সাফল্যের বড় কৃতিত্ব তাদেরই।”
লা মাসিয়ায় বেড়ে ওঠা
বার্সেলোনার বিখ্যাত একাডেমি ‘লা মাসিয়া’ থেকে উঠে আসা এসপার্ট বলেন, “আমি আট বছর বয়সে বার্সেলোনায় যোগ দেই। তখন মূল দল আমার কাছে অসম্ভব দূরের কোনো স্বপ্ন মনে হতো। কিন্তু যখন সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিল, তখন তা অবিশ্বাস্য লেগেছে।”
মার্ক বার্নাল, লামিনে ইয়ামাল এবং পাউ কুবার্সির মতো সতীর্থদের সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, “তাদের সঙ্গে আমার বোঝাপড়াটা খুব ভালো। একই বয়সের খেলোয়াড়দের পাশে পেলে মূল দলে মানিয়ে নেওয়া অনেক সহজ হয়। আমরা একে অপরকে দারুণভাবে সাহায্য করি।”
হান্সি ফ্লিকের পরিকল্পনা ও আজকের ফাইনাল
বার্সেলোনার কোচ হান্সি ফ্লিক এসপার্টকে ফিলিপ লামের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এই বিষয়ে তিনি বলেন, “এটি আমার জন্য বড় সম্মানের। আমি রাইট-ব্যাক এবং মিডফিল্ডার—উভয় পজিশনেই খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। কোচ যেখানেই খেলাবেন, আমি শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করব।”
আজকের ফাইনাল নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা জার্মানির বিপক্ষে খেলার জন্য প্রস্তুত। ফেভারিট হওয়ার তকমা নিয়ে আমরা ভাবছি না। আমরা আমাদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে চাই। গ্রুপ পর্বে জার্মানিকে হারালেও, এই জার্মানি আগের মতো নয়। তবে আমরা নিজেদের খেলার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছি।”
দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমরা শুধু একটি দল নই, আমরা একটি পরিবারের মতো। আমাদের মধ্যে দারুণ বন্ধুত্বের সম্পর্ক রয়েছে, যা মাঠে আমাদের পারফরম্যান্সে প্রতিফলিত হয়। আমরা সবাই শিরোপা জয়ের জন্য মুখিয়ে আছি।”
