২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ: সেমিফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি স্পেন
আর্লিংটনের এটি অ্যান্ড টি স্টেডিয়ামে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফ্রান্স ও স্পেন। টানা তিনবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে ‘লেস ব্লুস’রা। চলতি আসরের প্রতিটি ম্যাচ নির্ধারিত সময়ে জিতে আত্মবিশ্বাসী ফ্রান্স এই লড়াইয়ে সামান্য এগিয়ে থেকেই মাঠে নামছে।
কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করে দিদিয়ে দেশমের দল। সেই ম্যাচে গোল পেয়েছিলেন উসমান দেম্বেলে এবং বিশ্বকাপের বর্তমান সর্বোচ্চ গোলদাতা কিলিয়ান এমবাপ্পে।
অন্যদিকে, বেলজিয়ামের বিপক্ষে নাটকীয় জয় নিয়ে সেমিফাইনালে এসেছে স্পেন। ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে ৮৮ মিনিটে মিকেল মেরিনোর গোল ‘লা ফুরিয়া রোখা’দের ২-১ ব্যবধানের জয় এনে দেয়। ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যদের ফ্রান্সের এই অপ্রতিরোধ্য গতি থামাতে হবে।
শক্তিশালী ফ্রান্সের চ্যালেঞ্জ
দেশমের অধীনে ফ্রান্স এবারের বিশ্বকাপে দারুণ ছন্দে রয়েছে। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচেই জয়ের পাশাপাশি ১০টি গোল করেছে তারা, হজম করেছে মাত্র ২টি। নকআউট পর্বেও এখন পর্যন্ত কোনো গোল হজম করেনি দলটি।
টুর্নামেন্টে এ পর্যন্ত ১৬ গোল করা ফ্রান্সই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আক্রমণাত্মক দল। এর বড় কৃতিত্ব কিলিয়ান এমবাপ্পের, যিনি দলের অর্ধেকের বেশি গোল করেছেন। তবে স্পেনের বিপক্ষে পরিসংখ্যান ফ্রান্সের জন্য কিছুটা উদ্বেগের। গত দশ দেখায় আটবারই স্পেনের কাছে হেরেছে দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। এই ম্যাচটি কোচ দেশমের জন্য একটি মাইলফলক হতে যাচ্ছে; এটি তার ২৬তম বিশ্বকাপ ম্যাচ, যা তাকে টুর্নামেন্টের ইতিহাসের সবচেয়ে অভিজ্ঞ কোচে পরিণত করবে।
স্পেনের পুনরুত্থান
২০১০ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে বড় মঞ্চে স্পেন ধুঁকছিল। তবে কোচ দে লা ফুয়েন্তে দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি বদলেছে। ইউরো ২০২৪ জয়ের পর থেকে বড় টুর্নামেন্টে তার রেকর্ড বেশ ঈর্ষণীয় (১২ জয়, ১ ড্র)। যদিও স্পেনের রক্ষণভাগ এবারের বিশ্বকাপে দারুণ খেলছে, তবে ফ্রান্সের আক্রমণভাগ তাদের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলবে।
স্পেন গত ৩৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে নির্ধারিত সময়ে কোনো পরাজয় বরণ করেনি। এছাড়া বড় টুর্নামেন্টে শেষ সাতটি সেমিফাইনালের ছয়টিতেই জয়ী হওয়ার পরিসংখ্যান স্পেনের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা। সবার নজর থাকবে তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামালের ওপর, যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা তার রয়েছে।
দলীয় সংবাদ ও একাদশ
মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন এমবাপ্পে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়লেও এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তার শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। স্পেনের জন্য সুখবর হলো, তাদের দলের সবাই ফিট আছেন। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচে ক্লান্তি দেখা দিলেও পেদ্রিও এই ম্যাচে খেলার জন্য প্রস্তুত।
ফ্রান্স (৪-২-৩-১): মাইগনান; কুন্দে, উপামেকানো, সালিবা, দিনিয়ে; কোনে, রাবিও; দেম্বেলে, ওলিসে, দুয়ে; এমবাপ্পে।
স্পেন (৪-২-৩-১): সিমন; পোরো, কুবারসি, লাপোর্তে, কুকুরেল্লা; রদ্রি, ফাবিয়ান; ইয়ামাল, ওলমো, বায়েনা; ওয়ারজাবাল।
ম্যাচ পূর্বাভাস
আর্জেন্টিনার অপরাজিত থাকার রেকর্ডের খুব কাছে থাকলেও এই মুহূর্তে ফ্রান্সকে থামানো কঠিন। মাঠে সব বিভাগেই স্পেনের চেয়ে কিছুটা বেশি ভারসাম্যপূর্ণ ফ্রান্স। তাই ফাইনালে ওঠার ক্ষেত্রে ফ্রান্সকেই এগিয়ে রাখা যায়।
নির্ধারিত সময়ে ফ্রান্সের জয়।
