২৫ বছরের ক্যারিয়ার শেষে অবসরের ঘোষণা দিলেন গোলরক্ষক ক্রেইগ গর্ডন
পেশাদার ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন গোলরক্ষক ক্রেইগ গর্ডন। ২৫ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের ইতি টানার সময় তিনি জানালেন, তার সব স্বপ্ন তিনি পূরণ করতে পেরেছেন। ৪৩ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক গত গ্রীষ্মে তার প্রথম ক্লাব হার্ট অফ মিডলোথিয়ানে তার দ্বিতীয় অধ্যায় শেষ করেছেন এবং তিনি স্কটল্যান্ডের বিশ্বকাপ দলের সদস্য ছিলেন।
What a journey. What a career. 🧤
Thank you for everything, Craig. ❤️ pic.twitter.com/d8fK5s42p1— Heart of Midlothian FC (@JamTarts) June 20, 2024
নিজের ছেলেবেলার ক্লাবের মাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন ভিডিও বার্তায় গর্ডন বলেন, “আমি কখনোই চাইনি এটি শেষ হোক, কিন্তু সমাপ্তি তো আসতেই হয়। আমি আমার স্বপ্নগুলো বাঁচিয়ে রেখেছি এবং তার জন্য আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।”
২০০৭ সালে টাইনক্যাসল ছেড়ে সান্ডারল্যান্ডে যোগ দিয়েছিলেন গর্ডন। সে সময় সান্ডারল্যান্ড গোলরক্ষক হিসেবে ব্রিটিশ রেকর্ড ৯ মিলিয়ন পাউন্ড ফি প্রদান করেছিল। ২০১০ সালে বোল্টন ওয়ান্ডারার্সের জাট নাইটের ক্লোজ রেঞ্জ থেকে নেওয়া শট ঠেকিয়ে তিনি প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে অন্যতম বিখ্যাত এক সেভ উপহার দিয়েছিলেন। তবে স্ট্যাডিয়াম অফ লাইটে থাকাকালীন গুরুতর হাঁটুর ইনজুরি তার ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলে। পাঁচ বছর সেখানে কাটানোর পর পুনর্বাসন ও কোচিংয়ের জন্য তিনি দুই বছর মাঠের বাইরে ছিলেন।
২০১৪ সালে গর্ডন সেল্টিকে যোগ দেন। সেখানে তিনি প্রথম লিগ শিরোপা জয়ের স্বাদ পান এবং ছয় বছরের ক্যারিয়ারে আরও চারটি শিরোপা জেতেন। এরপর তিনি আবার হার্টসে ফিরে আসেন। ২০২২ সালে তার পায়ে গুরুতর চোট লেগে হাড় ভেঙে যায়, যার ফলে তাকে লম্বা সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়। তবে ধৈর্য ধরে তিনি আবারও খেলায় ফিরেছিলেন।
‘অসম্ভব? একদমই নয়’
২০০৪ সালে স্কটল্যান্ডের হয়ে তার অভিষেক ঘটে এবং তিনি দেশের জার্সিতে মোট ৮৪টি ম্যাচ খেলেছেন। সব মিলিয়ে ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে গর্ডন মোট ৭৬৬টি প্রথম সারির ম্যাচ খেলেছেন, যার মধ্যে ২০০১-০২ মৌসুমে কাউডেনবিথের হয়ে লোনে ১৩টি ম্যাচও রয়েছে। মে মাসে কুরাকাওয়ের বিপক্ষে জয়ী ম্যাচে তিনি শেষবারের মতো স্কটল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং জানুয়ারিতে সেল্টিকের বিপক্ষে ২-২ ড্র ম্যাচে তিনি শেষবার হার্টসের জার্সি গায়ে মাঠে নামেন।
স্কটল্যান্ড জাতীয় দলের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানানো হয়, “এমন ক্যারিয়ার আর কারো নেই।”
গর্ডন যোগ করেন, “সব মানুষেরই স্বপ্ন থাকে। আমার স্বপ্ন অন্যদের চেয়ে আলাদা ছিল না—নিজের ক্লাব ও দেশের হয়ে খেলা। হার্ট অফ মিডলোথিয়ান ও স্কটল্যান্ড। অসম্ভব? হয়তো। কিন্তু অসম্ভব বলে কিছু নেই। কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগ আর বাধা পেরিয়ে স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়। হার্টসের সমর্থক থেকে হার্টসের খেলোয়াড় হওয়া—দীর্ঘদিনের এই পথচলা সহজে শেষ হয় না। আপনি নিজের জন্য, পরিবারের জন্য এবং ভক্তদের জন্য গর্ব করতে চান।”
‘আমি আশা করি আপনারা এটি উপভোগ করেছেন’
সেল্টিকে স্কটিশ প্রিমিয়ারশিপ জয়ের পাশাপাশি গর্ডন দুটি স্কটিশ কাপ জিতেছেন। এর আগে ২০০৬ সালে হার্টসের হয়েও তিনি একটি কাপ জিতেছিলেন। এছাড়া তার ঝুলিতে রয়েছে পাঁচটি লিগ কাপের পদক। ২০২১ সালে তিনি হার্টসের হয়ে স্কটিশ চ্যাম্পিয়নশিপও জয় করেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তিনি ৩০টি ম্যাচে ক্লিন শিট রেখেছেন এবং ক্লাবের হয়ে দুই-তৃতীয়াংশ ম্যাচে গোল হজম করেননি।
এডিনবরায় জন্মগ্রহণকারী এই তারকা শুক্রবার রায়ো ভায়োকানোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে হার্টস সমর্থকদের কাছ থেকে বিদায় নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমি আমার সতীর্থ ও কোচদের প্রতি কৃতজ্ঞ, যারা আমাকে সবসময় উৎসাহ যুগিয়েছেন। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়, মেডিকেল স্টাফ এবং আমার প্রিয়জনদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে ২৪ বছর ধরে সমর্থন দেওয়ার জন্য আমি ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞ। এখন গ্লাভস খুলে রাখার সময় হয়েছে এবং আমি আমার খেলোয়াড়ি জীবনকে বিদায় জানাচ্ছি। ভক্তরা আমাকে সবকিছু দিয়েছেন, তাদের প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য বিশেষ এক প্রাপ্তি। আমি আশা করি, আমি যতটা উপভোগ করেছি, আপনারাও ততটাই উপভোগ করেছেন। আমার হৃদয়ের গভীর থেকে সবাইকে ধন্যবাদ।”
