লিল মিডফিল্ডার আইয়ুব বোয়াদিকে নিয়ে কি লিভারপুলের আগ্রহ এখনো বাকি?
লিভারপুলের মিডফিল্ড শক্তিশালী করার পরিকল্পনা গ্রীষ্মকালীন দলবদলের বাজারে অন্যতম বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অ্যাডাম ওয়ার্টন বা জোয়াও গোমেসের মতো নামগুলো সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত উঠে এলেও, লিলের তরুণ মিডফিল্ডার আইয়ুব বোয়াদির প্রসঙ্গটিও আড়ালে থেকে বারবার ঘুরে আসছে। অ্যানফিল্ড ইনডেক্সের ‘মিডিয়া ম্যাটারস’-এর সর্বশেষ সংস্করণে এডি গিবস এবং লুইস স্টিল এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। যদিও তারা কেউ নিশ্চিত করেননি যে লিভারপুল সরাসরি কোনো চুক্তির জন্য চেষ্টা করছে, তবে আলোচনার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে রেডরা এখনো এই খেলোয়াড়ের বিষয়ে তাদের আগ্রহ পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
ম্যানচেস্টার সিটি এখন এই লড়াইয়ে এগিয়ে আছে বলে মনে হলেও, দলবদল নিয়ে লিভারপুলের নীরবতা বেশ রহস্যময় ঠেকছে।
ম্যানচেস্টার সিটির চ্যালেঞ্জের মুখে লিভারপুলের পরিকল্পনা
গিবস যখন জানতে চান যে লিলের এই প্রতিভাবান মিডফিল্ডারকে দলে ভেড়ানোর পথে ম্যানচেস্টার সিটির পথ এখন পরিষ্কার কি না, তখন আলোচনাটি বোয়াদির দিকে মোড় নেয়।
গিবস উল্লেখ করেন যে, বিশ্বকাপের পর বোয়াদির মূল্যায়ন নাটকীয়ভাবে বেড়ে যাওয়ার আগে থেকেই লিভারপুলের নাম তার সাথে জড়িয়েছিল।
লুইস স্টিল স্বীকার করেছেন যে, সিটির অবস্থান এখন বেশ শক্তিশালী।
তিনি বলেন, “মনে হচ্ছে সিটি এখন এই দৌড়ে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।”
এটি সাধারণত ইঙ্গিত দেয় যে লিভারপুল হয়তো অন্য লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে গেছে। তবে স্টিল এই সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি।
তিনি আরও যোগ করেন, “তবে আপনি জানেন, দলবদলের শুরুর দিকে অনেক ক্লাবই তার প্রতি আগ্রহী ছিল। তাই কিছুই আগে থেকে বলা সম্ভব নয়।”
এই মন্তব্যটি প্রমাণ করে যে, বিশেষ করে তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে দলবদলের পরিস্থিতি খুব দ্রুত বদলে যেতে পারে।
Photo: IMAGO
লিভারপুলের নীরবতা কি নতুন কোনো সম্ভাবনার ইঙ্গিত?
স্টিলের পর্যালোচনার সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশটি ছিল লিভারপুলের সাম্প্রতিক নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে তার মন্তব্য।
তিনি বলেন, “কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় এখন লিভারপুলের দিক থেকে সবকিছু কিছুটা শান্ত মনে হচ্ছে।”
এটি নতুন করে আগ্রহ তৈরির কোনো নিশ্চিত প্রমাণ নয়, তবে লিভারপুল যে পুরোপুরি দৌড় থেকে ছিটকে পড়েছে, তাও বলা যাবে না।
পুরো পডকাস্টজুড়ে স্টিল লিভারপুলের দলবদল কৌশলকে ধৈর্যশীল এবং পরিমাপক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তারা সাধারণত কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে গোপনে কাজ করতে পছন্দ করে।
বোয়াদির পরিস্থিতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এই প্রেক্ষাপটটি গুরুত্বপূর্ণ।
লিভারপুল যে খুব দ্রুত কোনো প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে, তার কোনো ইঙ্গিত নেই। আবার ক্লাবটি যে আনুষ্ঠানিকভাবে দৌড় থেকে সরে দাঁড়িয়েছে, এমন কোনো তথ্যও নেই।
লিভারপুলের মিডফিল্ড ভাবনায় লিলের তারকা
আলোচনা বারবার লিভারপুলের মিডফিল্ড শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার দিকে ঘুরে এসেছে।
অনুষ্ঠানে স্টিল তার অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।
তিনি বলেন, “আমি মনে করি লিভারপুলের উচিত এই জায়গাটি শক্তিশালী করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা।”
স্বাভাবিকভাবেই, ম্যানচেস্টার সিটি এখন এগিয়ে থাকলেও এই বক্তব্যের কারণে বোয়াদির মতো খেলোয়াড়রা এখনো লিভারপুলের রাডারে প্রাসঙ্গিক রয়ে গেছেন।
Photo: IMAGO
লিভারপুল এই বছর বেশ কয়েকজন মিডফিল্ডারের দিকে নজর রেখেছে। জোয়াও গোমেস অন্য কোথাও চলে গিয়েছেন এবং অ্যাডাম ওয়ার্টন এখনো জল্পনার মধ্যে রয়েছেন। আন্দোনি ইরাওলার অধীনে নতুন করে দল সাজানোর প্রক্রিয়াতে লিলের তরুণ মিডফিল্ডার বোয়াদি সেই তালিকারই অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
আপাতত, ম্যানচেস্টার সিটি যে এই লড়াইয়ে এগিয়ে আছে, তার প্রমাণই সবচেয়ে জোরালো। স্টিলের ভাষায় সিটি এখন ‘ইন দ্য বক্স সিট’-এ বা সুবিধাজনক অবস্থানে আছে।
তবে তিনি শ্রোতাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন, দলবদলের লড়াই কখনোই সরল পথে চলে না।
তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, “আপনি কখনোই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারবেন না।”
এটি একটি ছোট মন্তব্য হলেও লিভারপুলের বর্তমান অবস্থানকে ঠিকভাবে তুলে ধরে। রেডরা এখন নীরব থাকলেও, মিডফিল্ডে নতুন খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্তির কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত, ‘মিডিয়া ম্যাটারস’-এর আলোচনায় উঠে আসা এই প্রতিভাবান মিডফিল্ডারকে নিয়ে লিভারপুলের চমকপ্রদ পদক্ষেপের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
