বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বিতর্কিত ব্যানার: আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করল ফিফা
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২-১ ব্যবধানে জয়ের পর আর্জেন্টিনার উদযাপনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফার তদন্তের অধীনে রয়েছে।
ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে যে, তাদের স্বাধীন ডিসিপ্লিনারি কমিটি আটলান্টার ম্যাচ রিপোর্টগুলো পর্যালোচনা করছে। মাঠের ভেতর “ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার” (The Malvinas are Argentine) লেখা ব্যানার ব্যবহারের কারণে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখছে তারা।
মাঠের ভেতর যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রদর্শন ফিফার ডিসিপ্লিনারি কোড বা শৃঙ্খলাবিধির পরিপন্থী।
এই ম্যাচের জন্য ফিফার অবস্থান ছিল কঠোর। ম্যাচ শুরুর আগেই স্টেডিয়ামের নিরাপত্তাকর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন ফকল্যান্ড যুদ্ধ (১৯৮২) সংক্রান্ত কোনো রেফারেন্স বা উসকানিমূলক বার্তা সংবলিত ব্যানার নিয়ে কোনো দর্শক মাঠে প্রবেশ করতে না পারে।
⚖️ সম্ভাব্য শাস্তি
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) বিরুদ্ধে শাস্তির পরিধি অনেক বিস্তৃত, যার মধ্যে রয়েছে:
সতর্কবার্তা বা আনুষ্ঠানিক ভর্ৎসনা।
জরিমানা বা অন্যান্য আর্থিক দায়বদ্ধতা।
পুরস্কারের অর্থ ফেরত নেওয়া।
খেতাব কেড়ে নেওয়া (যা প্রবিধানের সবচেয়ে কঠোর শাস্তি)।
জরিমানার পরিমাণ
ব্যানার ব্যবহারের প্রথম অপরাধের ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ ৩১,০০০ রিয়াল (সাধারণ ঘটনা) থেকে ৬২,০০০ রিয়াল (গুরুতর ঘটনা) পর্যন্ত হতে পারে। একই ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটলে জরিমানার পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে যাবে।
জাতীয় সংগীতের অবমাননা: এএফএ তাদের সমর্থকদের আচরণের জন্যও শাস্তির মুখে পড়তে পারে। ইংল্যান্ডের জাতীয় সংগীত বাজার সময় সমর্থকরা চিৎকার করে গানটি থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে এবং ‘তুমি যদি লাফ না দাও, তবে তুমি ইংরেজ’—এমন স্লোগান দেয়। জাতীয় সংগীতের সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে প্রথমবার অপরাধের জন্য ৩১,০০০ রিয়াল এবং পুনরায় একই অপরাধ করলে ৪৭,০০০ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
