বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও ইংল্যান্ড দলের জন্য রয়েছে আশার আলো
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের কাছে হেরে বিদায় নেওয়া সবসময়ই কষ্টের। বিশেষ করে ২০২১ ও ২০২৪ সালের ইউরো ফাইনালের হার এবং ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের ধাক্কা সামলানো ইংল্যান্ডের জন্য সহজ ছিল না। তবে সব অন্ধকার পেরিয়ে এবার ইংল্যান্ড দলের জন্য কিছু ইতিবাচক দিক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে।
কেন ও বেলিংহামের গোল করার দক্ষতা
একটি বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের জন্য দুজন যোগ্য দাবিদার থাকা বড় অর্জন। হ্যারি কেন বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে এবারের মৌসুমে প্রতি ৬৬ মিনিটে একটি করে গোল করেছেন। বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দুই গোল দিয়ে শুরু করে তিনি এখন পর্যন্ত মোট ছয়টি গোল করেছেন।
জ্যুড বেলিংহাম রিয়াল মাদ্রিদে কাঁধের অস্ত্রোপচারের পর কিছুটা কঠিন মৌসুম কাটালেও দারুণভাবে ফিরে এসেছেন। তিনিও কেনের সমান ছয়টি গোল করেছেন। তারা দুজনেই কঠিন সময়ে দলকে রক্ষা করেছেন—কেন ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে দুটি গোল করে দলকে নিশ্চিত হারের হাত থেকে বাঁচিয়েছেন, আবার বেলিংহাম নরওয়ের বিপক্ষে জোড়া গোল করে সেমিফাইনালে জায়গা করে দিয়েছিলেন। কেন ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলার নিশ্চয়তা না দিলেও ২০২৮ ইউরোতে এই জুটিকে আবারও দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ফের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড
টানা চারবার বড় টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল বা ফাইনালে পৌঁছানো ইংল্যান্ডের জন্য বড় উন্নতির লক্ষণ। ২০১৮ সালের আগে ১৯৯০ সালের পর তারা কখনোই সেমিফাইনালে যেতে পারেনি। যদিও শিরোপা এখনও অধরা, তবুও তাদের এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দলের উন্নতির বার্তা দিচ্ছে।
প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার সক্ষমতা
২০২৬ বিশ্বকাপে আবহাওয়া এবং পরিবেশ ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। আর্দ্রতা, বৃষ্টি ও গরমের মধ্যেও ইংল্যান্ড ভালো খেলেছে। মায়ামিতে নরওয়ের বিপক্ষে উচ্চ তাপমাত্রা বা মেক্সিকোর অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামের প্রতিকূলতা জয় করে তারা এগিয়েছে। এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে তাদের জন্য বড় সম্পদ হবে।
নজর কেড়েছেন নতুন খেলোয়াড়রা
মে মাসে কোচ থমাস টুখেল যখন দল ঘোষণা করেন, তখন হ্যারি ম্যাগুইয়ার, কোল পালমার বা ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের মতো তারকাদের বাদ দেওয়া নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছিল। তবে জেড স্পেন্সের মতো খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি বেশ কাজে দিয়েছে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনালে স্পেন্স তার রক্ষণভাগের দক্ষতায় সবার নজর কেড়েছেন এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ট্যাকল করেছেন।
ভবিষ্যতের তারকাদের অপেক্ষায় ইংল্যান্ড
অনেকে মনে করেন ইংল্যান্ড হ্যারি কেনের ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল। কিন্তু তরুণ প্রতিভার অভাব নেই দলে। লিভারপুলের ১৭ বছর বয়সী রিও এনগুমোহা এবং আর্সেনালের ১৬ বছর বয়সী ম্যাক্স ডাউম্যানের মতো তরুণরা দারুণ সম্ভাবনাময়ী। এছাড়া জ্যুড বেলিংহাম, এলিয়ট অ্যান্ডারসন, জ্যারেল কোয়ানসাহ, মরগান রজার্স এবং জেমস ট্র্যাফোর্ডদের বয়স এখন ২৩। পরবর্তী বিশ্বকাপে তাদের বয়স হবে ২৭, যা ট্রফি জেতার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময় বলে মনে করা হয়।
ইংল্যান্ডের পরবর্তী লক্ষ্য
ইংল্যান্ড আগামী শনিবার মায়ামিতে ফ্রান্সের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলবে। এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে নেশনস লিগ। এই টুর্নামেন্টগুলো টুখেল এবং তার দলের জন্য নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার সুযোগ। ২০২৮ ইউরো ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা নিয়ে আবারও শিরোপার স্বপ্ন দেখছেন সমর্থকরা।
