ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ থেকে বিদায়: খেলোয়াড়দের মানসিকতাকেই দায়ী করলেন হ্যাসেলবেঙ্ক
আর্জেন্টিনার কাছে হেরে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের ঘটনায় কোচ টমাস টুখেলের চেয়ে দলের খেলোয়াড়দের ওপরই বেশি দায় চাপিয়েছেন জিমি ফ্লয়েড হ্যাসেলবেঙ্ক। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে টুখেলের কৌশল নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে। ১-০ গোলে এগিয়ে থাকা অবস্থায় ম্যাচের শেষ ২০ মিনিটে তিনি রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে পাঁচজন ডিফেন্ডার নামান। এই কৌশলের কারণে দল বেশ চাপে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে গোল করার সুযোগ করে দেয়।
তবে ইংল্যান্ডের সাবেক কোচ গ্যারেথ সাউথগেটের সহকারী হিসেবে কাজ করা হ্যাসেলবেঙ্ক মনে করেন, এর জন্য শুধু জার্মান কোচ টুখেলকে দায়ী করা ঠিক নয়। তিনি বরং খেলোয়াড়দের ‘মানসিকতা’র সমালোচনা করেছেন।
‘দ্য গুড, দ্য ব্যাড অ্যান্ড দ্য ফুটবল’ ইউটিউব শো-তে হ্যাসেলবেঙ্ক বলেন, “১-০ গোলে এগিয়ে থাকার পর দল যখন রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে, তখন তা টুখেলের সিদ্ধান্ত ছিল না। এটি খেলোয়াড়দের মানসিকতার বিষয়। তারা ভেবেছিল এখন শুধু ১-০ লিড ধরে রাখতে হবে। অথচ তাদের উচিত ছিল আক্রমণাত্মক কৌশল বজায় রাখা এবং প্রতিপক্ষের অর্ধে খেলা চালিয়ে যাওয়া। তবে হ্যাঁ, বদলি খেলোয়াড় নামানোর সিদ্ধান্তগুলো অবশ্যই টুখেলের ছিল।”
পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফর্ম করলেও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নিষ্প্রভ ছিলেন জুড বেলিংহাম। হ্যাসেলবেঙ্ক বেলিংহামকে নিয়ে বলেন, “শেষ ১০-১৫ মিনিটে লিওনেল মেসি যেভাবে খেলেছেন, বেলিংহামেরও সেই পর্যায়ে আসা উচিত ছিল। তাকে বল পায়ে রেখে খেলাটা নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করতে হতো।”
ইংল্যান্ডের দায়িত্ব নেওয়ার পর টুখেলের অধীনে এটি ছিল প্রথম বড় টুর্নামেন্ট। সাউথগেটের পরবর্তী কোচ হিসেবে তার কাছ থেকে বড় প্রত্যাশা ছিল সমর্থকদের। কিন্তু আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তার কৌশলী সিদ্ধান্তের কারণে ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ায় তিনি এখন ভক্তদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
হ্যাসেলবেঙ্ক অবশ্য পুরোপুরি টুখেলকে দোষমুক্ত করছেন না। বিশেষ করে পাঁচজন ডিফেন্ডার নিয়ে খেলার সিদ্ধান্তে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, গ্যারেথ সাউথগেট কোচ থাকলে হয়তো এমনটি করতেন না। হ্যাসেলবেঙ্ক আরও বলেন, “ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সমালোচনা করা সহজ, তবে আমার মনে হয় না গ্যারেথ সেই মুহূর্তে পাঁচজন ডিফেন্ডার নামাতেন। ইতালির বিপক্ষে ম্যাচেও পাঁচ ডিফেন্ডার নিয়ে খেলে ইংল্যান্ড সমস্যায় পড়েছিল। আমার ধারণা, তিনি চারজন ডিফেন্ডার নিয়েই খেলতেন এবং নতুন উইঙ্গার নামিয়ে আক্রমণভাগ সচল রাখার চেষ্টা করতেন।”
