নিউইয়র্ক এখন বিশ্বকাপ জ্বরে কাঁপছে: মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ইতিহাসের অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা
নিউইয়র্ক জুড়ে এখন সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে কেবল একটিই বিষয়—রবিবারের বিশ্বকাপ ফাইনাল। স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার এই মহারণ ঘিরে পুরো শহর জুড়ে চলছে চরম উত্তেজনা। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ফাইনাল ম্যাচ দেখতে স্পেন ও আর্জেন্টিনা সমর্থক, অসংখ্য তারকা এবং সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা নিউইয়র্ক শহরে ভিড় জমিয়েছেন।
শহরটির আনাচে-কানাচে এখন বড় বড় বিলবোর্ডে লিওনেল মেসি, লামিনে ইয়ামাল, ক্রিস্টিয়ান পুলিসিকসহ তারকা ফুটবলারদের ছবি শোভা পাচ্ছে। এই শহর কখনো ঘুমায় না, আর বর্তমানে সেই শহর মেতে আছে বিশ্বকাপ ফুটবলের আমেজে। এক আর্জেন্টাইন ভক্ত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “পরিস্থিতিটা সত্যিই অবিশ্বাস্য!”
বিশ্বকাপ ফাইনালের জন্য নিউইয়র্কের চেয়ে উপযুক্ত জায়গা আর হতে পারে না। বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত ও আইকনিক শহর হিসেবে এর মর্যাদা নিয়ে কোনো সংশয় নেই।
২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের আয়োজক হিসেবে নিউইয়র্ক
এই ফাইনাল কেবল একটি ম্যাচ নয়, বরং প্রতীকী একটি বিষয়। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া ইভেন্টের জন্য নিউইয়র্কের চেয়ে ভালো আর কোনো শহর হতে পারে না। নিউ জার্সির বাসিন্দা কেভিন অলওয়েল বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতির মিলনস্থল, আর নিউইয়র্ক হলো তার কেন্দ্রবিন্দু। গত এক মাস ধরে শহরের বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের ঐক্যবদ্ধ হওয়াটা অসাধারণ ছিল। আমি এখন ফাইনাল দেখার অপেক্ষায় আছি।”
মিডটাউনের লেজেন্ডস বারের কর্মী নিক ব্যারন প্রায় দুই দশক ধরে এই অঞ্চলের ফুটবল কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত আছেন। তার মতে, বিশাল স্টেডিয়াম এবং ফুটবল নিয়ে আগ্রহের কারণে নিউইয়র্ক ফাইনালের জন্য সবচেয়ে যোগ্য জায়গা। ব্যারন বলেন, “এখানে দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা, সুদূর প্রাচ্য ও ইউরোপসহ সব প্রান্তের মানুষ বাস করে। অন্য শহরের তুলনায় এটি নিউইয়র্কের জন্য অনেক বড় একটি অর্জন।”
মেটলাইফ স্টেডিয়াম নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও ফুটবলপ্রেমীদের কাছে মূল আকর্ষণ ম্যাচটিই। নিউইয়র্ক এখনো আমেরিকান স্বপ্নের শহর এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক কেন্দ্র।
মেসিকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ‘ফেয়ারিটেল ফাইনাল’ থেকে কেবল স্টেডিয়াম বা ম্যানহাটন নয়, পুরো শহরই লাভবান হবে। সেন্ট্রাল পার্কে ফ্যান ফেস্টে ৫০ হাজার দর্শক এবং শনিবার টাইমস স্কয়ারে ২৫ হাজারের বেশি আর্জেন্টিনা সমর্থক জড়ো হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
নিউইয়র্কে ২৬ বছর ধরে বসবাসরত আর্জেন্টাইন সমর্থক ফাকুন্দো কুইরোগা বলেন, “আমাদের জন্য এটি একটি স্বপ্নের মতো। মেসি টানা দ্বিতীয়বার আমাদের ফাইনালে নিয়ে এসেছেন। রবিবার দিনটি দারুণ হতে যাচ্ছে।”
শহরের প্রতিটি কোণে এখন ফুটবলের উৎসব। জেএফকে বিমানবন্দরে ফ্লাইট ক্রুরা আর্জেন্টিনা, স্পেন, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের সমর্থকদের উৎসাহ দিচ্ছেন। রকফেলার সেন্টার ও এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংও এখন বিশ্বকাপের রঙে সেজেছে।
অবশেষে নিউইয়র্কের সময়
১৯৯৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস এবং অতীতে মেক্সিকো সিটি ফাইনাল আয়োজন করলেও, এবার পালা ছিল নিউইয়র্কের। ১৯৭০-এর দশকে যে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের জায়গায় পেলে ও ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার খেলেছিলেন, সেখানেই রবিবার অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল।
দীর্ঘ আট-দশ বছরের অপেক্ষার পর এখন পুরো নিউইয়র্ক মেতে উঠেছে। কেভিন অলওয়েল বলেন, “মেসির শেষ বিশ্বকাপ এবং নতুন প্রজন্মের লামিনে ইয়ামালের লড়াই দেখতে আমরা মুখিয়ে আছি। এটি একটি দুর্দান্ত ফাইনাল হতে যাচ্ছে।”
নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির ফুটবল প্রেমীরা এই বিশ্বকাপকে ঘিরে দারুণ আশাবাদী। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এই ফাইনাল আয়োজনের সুযোগ পাওয়ায় পুরো শহর গর্বিত। ফাকুন্দো কুইরোগা বলেন, “সবাই এখানে আনন্দ করছে, একে অপরকে শ্রদ্ধা করছে। আশা করি কাপটি বুয়েনস আইরেসে ফিরে যাবে!”
