লিভারপুলের ট্রান্সফার লক্ষ্যবস্তুতে এভারটনের ইলিমান এনডিয়ায়ে
আক্রমণভাগ শক্তিশালী করতে নতুন খেলোয়াড় খুঁজছে লিভারপুল। এই তালিকায় এবার নতুন করে যুক্ত হয়েছে এভারটন ফরোয়ার্ড ইলিমান এনডিয়ায়ে-র নাম। টিমটাক (TeamTalk)-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন লিভারপুল নতুন মৌসুমের জন্য তাদের আক্রমণভাগ ঢেলে সাজাতে যে কয়টি বিকল্প বিবেচনা করছে, তাদের মধ্যে সেনেগালের এই আন্তর্জাতিক ফুটবলার অন্যতম।
অ্যানফিল্ডের রিক্রুটমেন্ট টিমকে এই বাজারে এখন বেশ তৎপর হতে হচ্ছে। লিভারপুল ইতিমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ক্ষেত্রে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। ইউরোপজুড়ে এখন দলবদলের আলোচনা দ্রুত হচ্ছে, ফলে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে সক্ষম খেলোয়াড়দের দিকেই মূলত নজর দিচ্ছে ক্লাবটি। সেই প্রেক্ষাপটেই এনডিয়ায়ে-র নাম আলোচনায় এসেছে।
লিভারপুলের রাডারে ইলিমান এনডিয়ায়ে
প্রতিবেদন অনুযায়ী, লিভারপুল এনডিয়ায়ে ছাড়াও প্রিমিয়ার লিগ এবং ইউরোপের অন্যান্য উদীয়মান আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের ওপরও নজর রাখছে। এছাড়া প্যারিস সেন্ট-জার্মেইর (পিএসজি) গতিবিধির দিকেও ক্লাবটির তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে। লিভারপুল ইন্টারনালি ব্র্যাডলি বারকোলাকে তাদের আক্রমণভাগের পরবর্তী পর্যায়ের জন্য উচ্চমানের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করে।
লিভারপুলের এই পরিকল্পনা বেশ বিস্তৃত। একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যের ওপর সীমাবদ্ধ না থেকে তারা একাধিক খেলোয়াড়ের ওপর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। শীর্ষ পর্যায়ের রিক্রুটমেন্টে এটি একটি পরিচিত পদ্ধতি। এটি ক্লাবকে প্রয়োজনের সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে, বিশেষ করে যখন কোনো প্রধান লক্ষ্যবস্তুর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বদলে যায়।
এভারটন ফরোয়ার্ডকে দলে নেওয়া এক অভাবনীয় ঘটনা
লিভারপুল যদি এভারটনের কোনো খেলোয়াড়কে দলে নিতে চায়, তবে তা হবে গ্রীষ্মকালীন দলবদলের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের মধ্যে খেলোয়াড় আদান-প্রদান সচরাচর ঘটে না। এনডিয়ায়ে-র ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি একটি জটিলতা তৈরি করবে। আলোচনার আগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং খেলোয়াড়ের মূল্যের বিষয়টিও বড় ভূমিকা পালন করবে।
ফুটবলের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, এই চুক্তির পেছনে যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাওয়া সম্ভব। এনডিয়ায়ে-র প্রিমিয়ার লিগের অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং তার গতি ও পজিশন পরিবর্তন করার সক্ষমতা আক্রমণভাগে বাড়তি সুবিধা দেবে। তিনি খুব চাপের মুহূর্তেও বল এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন এবং আক্রমণে বিপদ তৈরি করতে পারেন। গত মৌসুমে তার ৯টি গোল অবদান প্রমাণ করে যে, আক্রমণভাগ শক্তিশালী করতে চাওয়া ক্লাবগুলোর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে তিনি কেন রয়েছেন।
লিভারপুলের ট্রান্সফার কৌশলে উন্মুক্ত দরজা
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এই আগ্রহ কতটা বাস্তবে রূপ নেবে। এভারটন এই চুক্তি সহজ করবে না এবং খেলোয়াড়টির গুরুত্ব ও দুই ক্লাবের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা মাথায় রেখে তার দাম চড়া হবে। মূল প্রতিবেদনে প্রায় ৭০ মিলিয়ন পাউন্ডের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা এই চুক্তিকে অত্যন্ত ব্যয়বহুল করে তুলেছে।
লিভারপুলের জন্য এটি আপাতত বাজার যাচাইয়ের একটি অংশ বলেই মনে হচ্ছে। যদিও এনডিয়ায়ে-র মতো নাম আলোচনায় আসা সবসময়ই তাৎপর্যপূর্ণ। লিভারপুলের আক্রমণভাগে নতুন শক্তির প্রয়োজন রয়েছে, এবং অন্য অনেক উচ্চপর্যায়ের খেলোয়াড় থাকার পরেও এনডিয়ায়ে-র ওপর নজর রাখছে তারা। পরিস্থিতি পরিবর্তনের সাথে সাথে এই আলোচনার মোড় নিতে পারে।
