মেসি ও ইয়ামালের সেই ঐতিহাসিক ছবি: বিস্ময় প্রকাশ করলেন খোদ লিওনেল মেসি
স্পেনের মিকেল মেরিনো এই সপ্তাহে যখন ২০০৭ সালের একটি ক্যালেন্ডার ফটোশুট থেকে ২০ বছর বয়সী লিওনেল মেসির পাঁচ মাস বয়সী লামিন ইয়ামালকে গোসল করানোর ভাইরাল ছবিগুলো প্রথমবার দেখেন, তখন তিনি অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। মেরিনো শুক্রবার বলেন, “প্রথমবার যখন আমি এটি দেখি, আমার মনে হয়েছিল এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে তৈরি, এটি একদমই বাস্তব নয়।”
ছবিগুলো কিন্তু পুরোপুরি বাস্তব। মেসি-অর্জেন্টিনা এবং ইয়ামাল-স্পেন রবিবার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হবে বলেই এই ছবিগুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
১৯ বছর আগের সেই কাকতালীয় ঘটনা এবং এখন বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হওয়া নিয়ে শুক্রবার ফাইনালের আগের সংবাদ সম্মেলনে মেসি তার বিস্ময় প্রকাশ করেন। মেসি বলেন, “সে এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়, তাই আমি তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি। তার বয়স মাত্র ১৯ এবং তার সামনে অনেক সময় পড়ে আছে।” তিনি আরও বলেন, “সেই ছবিটি সত্যিই অবিশ্বাস্য। সে তখন শিশু ছিল, আর এখন আমরা একে অপরের মুখোমুখি। বিষয়টি অদ্ভুত। আমি তার জন্য শুভকামনা জানাই।”
মেসি জানান, তিনি বার্সেলোনায় থাকাকালীন ইয়ামালের ক্যারিয়ারের উন্নতি লক্ষ্য করেছেন, যে ক্লাবটিকে তিনি এখনও ভালোবাসেন। তিনি বলেন, বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের এই তরুণ তারকার সামনে বড় সুযোগ থাকলেও, মেসি ও তার সতীর্থরা সেই জয় আটকাতে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবেন।
মেসি বলেন, “বিষয়টি অদ্ভুত। নিঃসন্দেহে সে এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা। আমি তার জন্য শুভকামনা জানাই, কারণ তার ভালো হওয়া মানেই বার্সেলোনার জন্য ভালো কিছু হওয়া।”
র্যাফেল ড্রয়ের মাধ্যমে সেই সাক্ষাৎ
২০০৭ সালের ডিসেম্বরে বার্সেলোনার ফাউন্ডেশন এবং স্প্যানিশ ক্রীড়া সংবাদপত্র ‘ডায়ারিও স্পোর্ট’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত চ্যারিটি ক্যালেন্ডার ফটোশুটে ২০ বছর বয়সী মেসির সাথে পাঁচ মাস বয়সী ইয়ামালের পরিচয় হয়। লা লিগার এই ক্লাবটি প্রতি বছর খেলোয়াড়দের শিশুদের সাথে নিয়ে ছবি তোলার একটি ঐতিহ্য বজায় রাখে।
ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার জোয়ান মনফোর্ট ২০২৪ সালে দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, ইউনিসেফের সাথে যৌথ আয়োজনে একটি র্যাফেল ড্রয়ের মাধ্যমে ইয়ামালের পরিবার এই সুযোগ পেয়েছিল। তারা ঘুণাক্ষরেও জানতেন না যে সেই ছবিতে থাকা শিশুটি ভবিষ্যতে কতটা বিখ্যাত হবে।
২০০৭ সালের শরতে ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামের ভিজিটর লকারে শিশু ইয়ামাল তার মায়ের সাথে উপস্থিত ছিল। সেখানে সাবান-পানিতে ভরা একটি প্লাস্টিকের বাথটাব ছিল। মনফোর্ট স্মৃতিচারণ করে বলেন, সেই সময় মেসি খানিকটা অন্তর্মুখী স্বভাবের হওয়ায় শিশুর সাথে কীভাবে আচরণ করতে হয়, তা নিয়ে কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন।
দুই বছর আগে ইয়ামালের বাবা ইনস্টাগ্রামে সেই ছবিগুলো পোস্ট করার পর তা অনলাইনে নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি ক্যাপশনে লিখেছিলেন, “দুই কিংবদন্তির শুরু।”
ততদিনে মেসি পেশাদার ক্যারিয়ারে বেশ কয়েক বছর পার করে ফেলেছিলেন এবং দুটি লিগ শিরোপাসহ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় করেছিলেন। সাত বছর পর, ইয়ামাল বার্সেলোনার বিখ্যাত ‘লা মাসিয়া’ ইয়ুথ একাডেমিতে যোগ দিয়ে পেশাদার খেলোয়াড় হওয়ার যাত্রা শুরু করেন।
২০২৩ সালের এপ্রিলে ১৫ বছর বয়সী ইয়ামাল বার্সেলোনার হয়ে তার অভিষেক ম্যাচ খেলেন, যেখানে তিনি মেসির পরিহিত বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নামেন। পাঁচ মাস পর তাকে স্পেনের জাতীয় দলে ডাকা হয়। পরের গ্রীষ্মে ইউরো ২০২৪ জয়ী ‘লা রোজা’ দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি।
মনফোর্ট এই সপ্তাহে এপি-কে বলেন, “বিষয়টি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে ফাইনাল ম্যাচটি হওয়ায় এটি বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে। মেসি ও ইয়ামালের এই ফাইনাল লড়াই যেকোনো সিনেমার চিত্রনাট্যের চেয়েও আকর্ষণীয়।”
