বিশ্বকাপ জয়ের পর কোচের ট্যাটু করানোর প্রতিশ্রুতি রক্ষায় প্রস্তুত মার্ক কুকুরেয়া
বিশ্বকাপ জয়ের পর স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের মুখমণ্ডল নিজের শরীরে ট্যাটু করানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মার্ক কুকুরেয়া। কোচ আশা করছেন, নিজের কথা রাখবেন এই ডিফেন্ডার।
টুর্নামেন্টের ফাইনালে আর্জেন্টিনা বাধা অতিক্রম করে স্পেন। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে স্পেন এই প্রতিযোগিতায় নিজেদের দ্বিতীয় শিরোপা নিশ্চিত করে। স্প্যানিশ ফুটবলের এই সাফল্য দেশটির স্বর্ণালী সময়কে আরও দীর্ঘায়িত করল। বর্তমানে পুরুষ দলের পাশাপাশি স্পেনের নারী ফুটবল দলও বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। সেই সঙ্গে পুরুষ দল ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন হিসেবেও নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছে।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই মার্ক কুকুরেয়া প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, স্পেন শিরোপা জিতলে তিনি কোচ দে লা ফুয়েন্তের ট্যাটু করাবেন। রিয়াল মাদ্রিদে পাড়ি জমানোর অপেক্ষায় থাকা এই ডিফেন্ডার এখন সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের দ্বারপ্রান্তে।
এ বিষয়ে লুইস দে লা ফুয়েন্তে হাসিমুখে বলেন, “তারা ভুল করেছিল, তবে তারা তাদের কথার খেলাপ করবে না। আমি খুব একটা অসুন্দর নই, তাদের শুধু শরীরের এমন কোনো জায়গা খুঁজে বের করতে হবে যা খুব একটা দৃশ্যমান নয়। যদি আপনি কোনো কথা দেন, তবে তা রক্ষা করা উচিত।” তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, দলের অন্য সদস্যরাও হয়তো এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
এর আগে ২০২২ সালে সিক্স নেশনস জয়ের পর আইরিশ রাগবি খেলোয়াড় ম্যাক হ্যানসেন তার কোচ অ্যান্ডি ফ্যারেলের ছবি ট্যাটু করিয়েছিলেন।
২০২২ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর ৬৫ বছর বয়সী কোচ দে লা ফুয়েন্তে স্পেনকে পুনরায় বিশ্ব ফুটবলের শক্তিতে পরিণত করেছেন। তরুণ প্রতিভাদের মূল দলে সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় দলের বয়সভিত্তিক দলগুলোতে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা স্পেনের এই সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছে।
দলের সাফল্যের পেছনে ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে দলীয় ঐক্যকে বড় করে দেখেন দে লা ফুয়েন্তে। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছেছি। অসাধারণ সব খেলোয়াড় নিয়ে জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা আমাদের জন্য এক বিশেষ সৌভাগ্যের বিষয়। আমি মনে করি, সঠিক সঙ্গী পাওয়াটাই আসল সাফল্য। যাদের মূল্যবোধ ও নীতি আছে, তারাই প্রকৃত সঙ্গী।”
কোচ আরও যোগ করেন, “আমাদের একমাত্র কৃতিত্ব হলো আমরা এমন ভালো মানুষদের খুঁজে নিয়েছি, যারা ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে সমষ্টিগত ভালোকে অগ্রাধিকার দেয়।”
