৭৫ বছর বয়সে প্রয়াত কিংবদন্তি ফুটবলার ও কোচ কেভিন কিগান
বিশ্ব ফুটবলের শোকের ছায়ায় ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ফুটবলার এবং কোচ কেভিন কিগান ৭৫ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। কেভিনের প্রয়াণে ফুটবল বিশ্ব থেকে শোকবার্তা ভেসে আসছে। নিউক্যাসল ইউনাইটেড তাদের ক্লাবের ‘এক প্রকৃত মহীরূহ’র মৃত্যুতে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে। এছাড়া প্রাক্তন সতীর্থ এবং অ্যালান শিয়ারার তাকে নিজের ‘নায়ক’ হিসেবে সম্বোধন করেছেন।
গত জানুয়ারি মাসে কেভিন কিগানের ক্যান্সার ধরা পড়ে। তার পরিবার সে সময় তার চিকিৎসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল। পরবর্তীতে জুন মাসে তিনি জানিয়েছিলেন যে, ক্যান্সার চতুর্থ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সোমবার তার পরিবারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে তারা জানাচ্ছে যে ৭৫ বছর বয়সে কেভিন কিগান পরপারে পাড়ি দিয়েছেন। ক্যান্সার মোকাবিলা করার সময় শেষ মুহূর্তগুলোতে তিনি তার স্ত্রী এবং কন্যাদের সান্নিধ্যেই ছিলেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দুইবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী কেভিন একজন অত্যন্ত প্রিয় স্বামী, পিতা এবং দাদা ছিলেন। তার পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসা দলটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে এবং এই কঠিন সময়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বর্ণাঢ্য ফুটবল ক্যারিয়ারে লিভারপুলের হয়ে চারটি ফার্স্ট ডিভিশন শিরোপা জিতেছেন কেভিন কিগান। ১৯৭৮ এবং ১৯৭৯ সালে টানা দুইবার ব্যালন ডি’অর জয় ছাড়াও তিনি একটি এফএ কাপ, একটি ইউরোপীয় কাপ, দুটি উয়েফা কাপ এবং দুটি বুন্দেসলিগা শিরোপা জিতেছেন।
ক্লাব ফুটবলে প্রায় ৭৫০টি ম্যাচ খেলার পর তিনি কোচিং পেশায় যুক্ত হন। নিউক্যাসল ইউনাইটেডের দায়িত্বে থাকার সময় তিনি ‘কিং কেভ’ উপাধি পান। তার কোচিংয়েই ক্লাবটি দ্বিতীয় বিভাগ থেকে প্রিমিয়ার লিগে উঠে আসে এবং লিগে তাদের সেরা অবস্থান (দ্বিতীয়) নিশ্চিত করে। ২০০৮ সালে তিনি পুনরায় নিউক্যাসলের কোচ হিসেবে ফিরে আসেন, যদিও মাত্র আট মাস সেই দায়িত্বে ছিলেন।
তার অন্যতম উল্লেখযোগ্য কাজ ছিল অ্যালান শিয়ারারকে সে সময়ের বিশ্ব রেকর্ড মূল্যে দলে ভেড়ানো। প্রিয় কোচের মৃত্যুতে শিয়ারার লিখেছেন, “আমার নায়ক। আমার কোচ। আমার বন্ধু। শান্তিতে ঘুমাও বস।”
নিউক্যাসল ইউনাইটেড এক আবেগঘন বার্তায় জানায়, কেভিন কিগান ক্লাবের ইতিহাসের সবচেয়ে আইকনিক এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের একজন। তিনি কেবল একজন কিংবদন্তি ফুটবলার বা কোচ ছিলেন না, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্মের সমর্থকদের হৃদয়ের স্পন্দন ছিলেন। খেলোয়াড় হিসেবে তিনি সেন্ট জেমস পার্কে বিশ্বমানের প্রতিভা ও বিশ্বাস নিয়ে এসেছিলেন, আবার কোচ হিসেবে সমর্থকদের নতুন আশা ও গর্ব উপহার দিয়েছিলেন।
লিভারপুলও কেভিনের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। ১৯৭৯ সালে লিভারপুলের জার্সি গায়ে জড়ানো এই তারকার অবদান ক্লাবটি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেছে। এছাড়া সাউদাম্পটন, ম্যানচেস্টার সিটি এবং ইংল্যান্ড ফুটবল দলও তাদের প্রাক্তন তারকা ও কোচের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে।
কেভিন কিগান ইংল্যান্ডের হয়ে ৬৩টি ম্যাচ খেলে ২১টি গোল করেছেন এবং ৩১বার জাতীয় দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৮১ সালের বিশ্বকাপের পর তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ১৯৯৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০০০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি ইংল্যান্ড জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ম্যানচেস্টার সিটির কোচের দায়িত্ব পালনকালে ২০০২ সালে ক্লাবটিকে প্রিমিয়ার লিগে উন্নীত করতে বড় ভূমিকা রাখেন।
