বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে সাফল্যের শিখরে রদ্রি
নিউ জার্সির আকাশে স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি যখন বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরলেন, তখন তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে যুক্ত হলো আরও একটি পালক। ব্যালন ডি’অর, ইউরোপিয়ান শিরোপা, নেশনস লিগ, চারটি প্রিমিয়ার লিগ ট্রফি, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং ঘরোয়া ফুটবলের অসংখ্য সাফল্যের পর এবার বিশ্ব ফুটবলের শ্রেষ্ঠতম পুরস্কারটিও জিতে নিলেন তিনি।
রবিবার নিউ জার্সিতে বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে পরাজিত হয়। এই জয়ের মাধ্যমে রদ্রি যেমন ২০১০ সালের পর স্পেনকে প্রথম শিরোপা এনে দিলেন, তেমনি জাতীয় দলের জার্সিতে যুক্ত করলেন দ্বিতীয় তারকা। একই সঙ্গে তিনি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারটিও অর্জন করেছেন।
এই ৩০ বছর বয়সী মিডফিল্ডার চতুর্থ পুরুষ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপ, ইউরো, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং ব্যালন ডি’অর জয়ের বিরল রেকর্ড গড়লেন। এর আগে এই তালিকায় ছিলেন জার্ড মুলার, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাউয়ার এবং জিনেদিন জিদান। তবে ২০২৪ সালে এসিএল (ACL) ইনজুরিতে পড়ার পর রদ্রির ক্যারিয়ার নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ২০২৩ সালে ট্রেবল জয় এবং স্পেনের হয়ে ইউরো জয়ের পর সেই ইনজুরি থেকে ফিরে আসা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে বিশ্বকাপের জন্য তিনি নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুত করেছিলেন।
ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে রদ্রির চুক্তির মেয়াদ আর মাত্র এক বছর বাকি থাকায় তার ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা চলছে। শোনা যাচ্ছে, রিয়াল মাদ্রিদ তাকে দলে ভেড়াতে আগ্রহী।
‘এটি রদ্রির দল’
১৯ বছর বয়সী লামিন ইয়ামাল যদি স্পেনের দলের শৈল্পিকতার প্রতীক হন, তবে রদ্রি হলেন দলের ‘পুতুল নাচের কারিগর’। মাঠের মাঝখানে থেকে তিনি পুরো খেলা নিয়ন্ত্রণ করেন। এবারের বিশ্বকাপে তিনি মোট ৭৫৬টি পাস সম্পন্ন করেছেন, যা ১৯৬৬ সালের পর যেকোনো একক বিশ্বকাপে রেকর্ড। লা রোহাদের হয়ে তিনি আটটি ম্যাচেই মাঠে ছিলেন। তার পরিসংখ্যানের তালিকায় রয়েছে ৯১০টি টাচ, বিপক্ষ দলের অর্ধে ৪২৮টি পাস এবং ১২২টি লাইন-ব্রেকিং পাস।
স্প্যানিশ ফুটবল সাংবাদিক গিলেম বালাগ রদ্রির প্রশংসা করে বলেন, “রদ্রি অসাধারণ খেলেছেন। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি সবচেয়ে বেশি দৌড়েছেন এবং পাসের হিসেবে তিনি এখন ব্যালন ডি’অর পর্যায়ে আছেন। এটি এখন রদ্রির দল।”
সিটির নতুন কোচ এনজো মারেসকা হয়তো রদ্রিকে ছাড়তে চাইবেন না, তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে আসায় তার দলবদলের গুঞ্জন বাড়ছে। বর্তমান পারফরম্যান্সের কারণে তিনি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম চাহিদাসম্পন্ন খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন।
রদ্রির ধৈর্য ও পেপ গার্দিওলার ভবিষ্যদ্বাণী
ইনজুরি থেকে ফিরে আসা সবসময়ই কঠিন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে চোট পাওয়ার পর রদ্রি দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে ছিলেন এবং ফেরার পর নিয়মিত ছন্দ খুঁজে পেতে সংগ্রাম করেছেন। সিটির সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলা গত অক্টোবরে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, বিশ্বকাপেই রদ্রির সেরা রূপ দেখা যাবে।
বিশ্বকাপ জয়ের পর রদ্রি বলেন, “ইনজুরির পর প্রত্যেক খেলোয়াড়কেই একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। সেরা ফর্মে ফিরতে এবং নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে সময়ের প্রয়োজন হয়। আপনাকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে।”
নিজের সুস্থতা নিশ্চিত করতে গার্দিওলার সঙ্গে খোলামেলা আলোচনার কথা উল্লেখ করে রদ্রি জানান, কখন থামতে হবে এবং কখন খেলতে হবে—এই বুদ্ধিমত্তাই তাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, “এটি খুব কঠিন সময় ছিল। আমি নতুন প্রজন্মের কাছে একটি উদাহরণ হতে চাই। পড়ে গিয়েও যে পুনরায় ওঠা যায়, এটাই আমার জীবনের দর্শন।”
