রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে চুক্তির জট নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভিনিসিউস জুনিয়র
জি গ্লোবোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াল মাদ্রিদ এবং তাদের তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিউস জুনিয়রের মধ্যে নতুন চুক্তি নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এই ব্রাজিলিয়ান তারকা তার ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো করতে রাজি নন।
ভিনিসিউসের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ২৬ বছর বয়সী এই তারকা আগামী জানুয়ারি মাস থেকে যেকোনো বিদেশি ক্লাবের সঙ্গে ফ্রি ট্রান্সফারে যোগ দেওয়ার জন্য প্রাক-চুক্তি স্বাক্ষরের আইনি বৈধতা পাবেন। এটি রিয়াল মাদ্রিদকে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে ফেলেছে। এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে রিয়াল মাদ্রিদ কর্তৃপক্ষ দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিষয়টি সমাধান করতে আগ্রহী।
নবায়ন বোনাসই বিতর্কের মূল কারণ
নতুন পাঁচ বছর মেয়াদি চুক্তির আর্থিক কাঠামো নিয়ে মূলত দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। বর্তমানে ভিনিসিউস ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের বেঁধে দেওয়া বেতন কাঠামোর খুব কাছাকাছি আয় করছেন। ফিফার ‘দ্য বেস্ট’ পুরস্কার জয়ের মতো ব্যক্তিগত অর্জনের বোনাসসহ তার বাৎসরিক আয় প্রায় ১৮.৫ মিলিয়ন ইউরো, যা ক্লাবের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২০ মিলিয়ন ইউরোর সীমার প্রায় কাছাকাছি।
বেতন নিয়ে খুব একটা সমস্যা না থাকলেও, চুক্তির নবায়ন বোনাস নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। তিন সপ্তাহ আগে ব্রাজিল বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার পর রিয়াল মাদ্রিদ নতুন একটি চুক্তির প্রস্তাব দেয়। তবে সেই প্রস্তাব ভিনিসিউসের পক্ষ থেকে গত মৌসুম জুড়ে দাবি করা আর্থিক মূল্যের চেয়ে কম। রিয়াল মাদ্রিদ পরিচালকদের মতে, নবায়ন বোনাস একজন ফ্রি এজেন্টের জন্য দেওয়া সাধারণ অংকের চেয়ে কম হওয়া উচিত। অন্যদিকে, ভিনিসিউসের প্রতিনিধিরা মনে করেন, তার দাবি বাজারের অন্য যেকোনো বিশ্বমানের খেলোয়াড়কে দলে নিতে ক্লাবের যে অর্থ খরচ হতো, তার চেয়ে অনেক কম।
মধ্যস্থতায় মরিনহো
চুক্তি নবায়ন না হলে কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ ছাড়াই এই তারকাকে হারানোর বড় ঝুঁকি রিয়াল মাদ্রিদের রয়েছে। তবে ক্লাব এখনই তাকে এই গ্রীষ্মে বিক্রির জন্য কোনো চাপ অনুভব করছে না।
এই প্রশাসনিক সংকটের মধ্যে প্রধান কোচ হোসে মরিনহো ব্যক্তিগতভাবে ভিনিসিউসের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। গত মৌসুমে বেনফিকার বিপক্ষে ঘটনার পর সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এই কোচ ও খেলোয়াড়। পাশাপাশি, আগামী মৌসুমে দলের কৌশলগত পরিকল্পনায় ভিনিসিউস যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সে বিষয়টিও তাকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন মরিনহো।
অপেক্ষায় আর্সেনাল ও ইউরোপের বড় ক্লাবগুলো
যদি রিয়াল মাদ্রিদ বা ভিনিসিউস আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল তাকে দলে নিতে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী বলে জানা গেছে। যদিও প্রাক-চুক্তির গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তবুও এখন পর্যন্ত মাদ্রিদ বা ভিনিসিউসের শিবিরের সঙ্গে সরাসরি কোনো যোগাযোগ হয়নি। ফুটবল সংশ্লিষ্টদের ধারণা, রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ভিনিসিউসের সম্পর্ক আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছিন্ন হলে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলো তাকে দলে ভেড়াতে তীব্র লড়াইয়ে নামবে।
