ব্যালন ডি’অর না পাওয়ায় বার্সির প্রতি অবিচার হয়েছে, মনে করেন সাভিচেভিচ
ফ্রাঙ্কো বার্সিকে কেন ব্যালন ডি’অর দেওয়া হয়নি, তা নিয়ে তীব্র বিস্ময় প্রকাশ করেছেন দেজান সাভিচেভিচ। কিংবদন্তি এই এসি মিলান অধিনায়কের ব্যালন ডি’অর না পাওয়ার পেছনে তিনি সরাসরি সাংবাদিকদের ভোটদান পদ্ধতিকে দায়ী করেছেন। ৬৬ বছর বয়সে পরলোকগমন করা বার্সিকে নিয়ে শ্রদ্ধা ও স্মৃতির রোমন্থন করতে গিয়ে সাভিচেভিচ এ কথা বলেন।
মঙ্গলবার মিলানে আয়োজিত বার্সির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে সাভিচেভিচের। এর আগে ‘লা গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্ত’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের সাবেক অধিনায়কের স্মৃতিচারণ করেন।
সাভিচেভিচ বলেন, “তিনি অসাধারণ একজন মানুষ এবং দারুণ সতীর্থ ছিলেন। ফুটবল তার ধমনীতে প্রবাহিত হতো। খেলার প্রতিটি বিষয় তিনি নিখুঁতভাবে বুঝতেন এবং তার মাঠের ভিশন ছিল অতুলনীয়।”
সান সিরোর গ্যালারিতে ভক্তদের কণ্ঠে শোনা সেই বিখ্যাত স্লোগান ‘ওয়ান কাপিতানো’ (একই অধিনায়ক) আজও তাকে শিহরিত করে বলে জানান সাভিচেভিচ। তিনি আরও বলেন, “আমি সবসময়ই জানতাম বার্সি কতটা শক্তিশালী ও নামী একজন ডিফেন্ডার। যুগোস্লাভিয়া এবং রেড স্টারে থাকার সময় থেকেই তার সম্পর্কে উচ্চ ধারণা ছিল আমার। ১৯৮৮ সালে ইউরোপিয়ান কাপের ম্যাচে আমরা একে অপরের মুখোমুখি হই।”
ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ডিফেন্ডার হিসেবে অনেক বিশেষজ্ঞ ফ্রাঙ্কো বার্সিকে ফ্রাঞ্জ বেকেনবাউয়ারের চেয়েও এগিয়ে রাখেন। এ বিষয়ে সাভিচেভিচ বলেন, “আমি ছোটবেলায় বেকেনবাউয়ারের খেলা দেখেছি। বার্সি তার মতোই ছিলেন। আমার মতে, তিনি এবং পাওলো মালদিনি বিশ্বের সেরা ডিফেন্ডার।”
ব্যালন ডি’অর না পাওয়া ফুটবলারদের তালিকায় বার্সির নাম থাকাটা তার কাছে লজ্জাজনক মনে হয়। তিনি বলেন, “সাংবাদিকরাই তাকে ভোট দেননি। মিলানের হয়ে খেলা ডাচ খেলোয়াড়রাই সবসময় এগিয়ে থাকতেন, ফ্রাঙ্ক রাইকার্ড সব সময় তার চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। রাইকার্ড ভালো খেলোয়াড় ছিলেন, কিন্তু বার্সি ছিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক প্রতিভা। ব্যালন ডি’অরের কথা শুনলেই আমার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।”
ফুটবল ইতিহাসে মাত্র তিনজন ডিফেন্ডার—বেকেনবাউয়ার, ম্যাথিয়াস সামার এবং ফ্যাবিও কান্নাভারো ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। সাভিচেভিচের মতে, বার্সি এর চেয়েও বেশি স্বীকৃতির যোগ্য ছিলেন। তিনি বলেন, “তার আরেকটি বড় গুণ ছিল, তিনি কোনো কিছুকেই খুব গম্ভীরভাবে নিতেন না। তিনি সবসময় ইতিবাচক থাকতে শেখাতেন। তিনি ছিলেন প্রকৃত নেতা।”
নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর কঠিন দিনগুলোর কথা স্মরণ করে সাভিচেভিচ বলেন, “মিলানে আসার শুরুর দিকে আমি সংকটে ছিলাম। তখন আমি খেলছিলাম না এবং খুব একা অনুভব করতাম। ফ্রাঙ্ক আমাকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ধৈর্য ধরো, আমরা সবাই এখানে ভালো আছি। তুমি কোথায় যেতে চাও? মিলানের চেয়ে ভালো জায়গা আর কোথায় পাবে? রেগে যেও না, হাল ছেড়ো না।”
