নতুন কোচ এনজো মারেস্কার কৌশলে মুগ্ধ ম্যানচেস্টার সিটি ফরোয়ার্ড সেমেনিয়ো
নতুন কোচ এনজো মারেস্কার অধীনে ম্যানচেস্টার সিটির খেলার ধরণকে নিজের জন্য ‘মধুসম’ বলে মন্তব্য করেছেন ফরোয়ার্ড অ্যান্টোইন সেমেনিয়ো। ইতালীয় এই কোচের অধীনে নিজের নতুন ভূমিকা সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার পর তিনি এ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
হংকংয়ে মারেস্কার প্রথম ম্যাচে ইন্টার মিলানের কাছে পেনাল্টিতে পরাজিত হলেও, পেপ গার্দিওলার স্থলাভিষিক্ত এই কোচের আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার পরিকল্পনা মাঠে ফুটে উঠেছে।
প্রথমার্ধে মাঠে নেমে সেমেনিয়ো তার গতি এবং সরাসরি আক্রমণ দিয়ে ইন্টারের ফুল-ব্যাক অ্যান্ডি ডিউফকে বেশ চাপে ফেলেছিলেন। তার সৌজন্যেই সিটির হয়ে ডিভাইন মুকাসার গোলটি তৈরি হয়। বদলি খেলোয়াড় রায়ান ম্যাকাডুও নজর কেড়েছেন। ম্যাচ শেষে মারেস্কা বলেন, তিনি এই ধরণের উইঙ্গারদেরই পছন্দ করেন, যারা খুব আক্রমণাত্মক এবং ‘ওয়ান-টু-ওয়ান’ পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করতে সক্ষম।
সেমেনিয়ো জানান, “মারেস্কা যখন নিয়োগ পেলেন, তখনই আমি এটি ভেবেছিলাম। কারণ চেলসিতে থাকাকালীন তার উইঙ্গাররা সবসময় উঁচু অবস্থানে এবং অনেকটা স্বাধীন থাকতেন। এটি একজন উইঙ্গার হিসেবে আমাকে সবচেয়ে বেশি রোমাঞ্চিত করেছে। আমি বেশিরভাগ সময় ওয়ান-টু-ওয়ান পরিস্থিতিতে খেলার সুযোগ পাব, যা নিয়ে আমি আশাবাদী।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমি তার সাথে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছি যে তিনি কীভাবে দল সাজাতে চান এবং উইঙ্গারদের কাছ থেকে কী আশা করেন। আমার মনে হয় তার আইডিয়াগুলো দারুণ এবং অনেকটাই পেপের সাথে মিল আছে। এনজোর পরিকল্পনা হলো উইংয়ে থাকা এবং বল পাওয়ার পর সুযোগ তৈরি করা। এটি আমার জন্য দারুণ একটি বিষয়।”
সেমেনিয়োকে ‘আরও ভালো খেলোয়াড়’ তৈরির প্রতিশ্রুতি ছিল গার্দিওলার
জানুয়ারির ট্রান্সফার উইন্ডোতে ৬৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে বোর্নমাউথ থেকে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেন সেমেনিয়ো। সে সময় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, লিভারপুল, টটেনহ্যাম এবং চেলসির মতো ক্লাবগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা এড়িয়ে তাকে দলে টেনেছিলেন গার্দিওলা। সেমেনিয়ো জানান, ডিসেম্বরের শুরুর দিকেই আলোচনা শুরু হয়েছিল।
প্রাক্তন ক্লাব বোর্নমাউথের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সেমেনিয়ো বলেন, “সত্যি বলতে আমি তাদের কাছে সবকিছু ঋণী। তারা আমার প্রিমিয়ার লিগ ক্যারিয়ার গড়তে সাহায্য করেছে। সেখানকার ম্যানেজমেন্ট ও স্টাফরা সবাই অসাধারণ ছিলেন।” গত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে মোট ২১টি গোল করেছেন সেমেনিয়ো। চেলসির বিপক্ষে এফএ কাপ ফাইনালের জয়সূচক গোল করাকে তিনি ‘স্বপ্নপূরণ’ বলে অভিহিত করেন। এছাড়া তিনি কারাবাও কাপ জয়ের স্বাদও পেয়েছেন।
হংকংয়ে আহমেদ টি-এর ‘প্রিপারেশন ইজ এভরিথিং’ অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, “আমি চেয়েছিলাম ক্যারিয়ারের পরবর্তী পদক্ষেপটি যেন বড় হয়, আর ম্যানচেস্টার সিটি ছিল তার সেরা বিকল্প। পেপ আমাকে আগেই বলেছিলেন, ‘তুমি যখন এখানে আসবে, আমি তোমাকে আরও ভালো খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলব’। প্রতিটি মৌসুমে নিজের উন্নতির লক্ষ্য থাকে এবং প্রথম পাঁচ মাসে তিনি নিশ্চিতভাবেই আমাকে সাহায্য করেছেন, যদিও তার চলে যাওয়াটা দুঃখজনক।”
ফুটবল ক্যারিয়ারের চেয়েও ঈশ্বরে বিশ্বাস বড়
ব্যক্তিগত জীবনে গভীর ধর্মপ্রাণ খ্রিস্টান সেমেনিয়োর শরীরে ধর্মের প্রতি বিশ্বাসের ছাপস্বরূপ ট্যাটু রয়েছে। গত ডিসেম্বরে স্থানীয় এক যাজকের মাধ্যমে তিনি দীক্ষিত বা ব্যাপটাইজড হন, যা ফুটবল ব্যস্ততার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও করে উঠতে পারেননি।
সেমেনিয়ো বলেন, “আমি বর্তমানে ঈশ্বরের পথে হাঁটছি। আমি আমার বিশ্বাসকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই এবং নিয়মিত প্রার্থনা আমাকে সেই সুযোগ দেয়। আমি খুবই খুশি যে আমি এটি করতে পেরেছি।”
ম্যাচের আগে এবং আগের রাতে হোটেলের রুমে সতীর্থ জেরেমি ডোকু ও মার্ক গুহির সাথে প্রার্থনা করেন সেমেনিয়ো। তার মতে, এটি তাদের ‘পরম শক্তি’ যোগায়। ফুটবল খেলার চেয়ে ঈশ্বরে বিশ্বাসকে বেশি প্রাধান্য দেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, ১০০ শতাংশ। ঈশ্বর ছাড়া আমি এখানে থাকতাম না। ঈশ্বর আমাকে ফুটবলার হওয়ার প্রতিভা, দক্ষতা এবং মানসিক শক্তি দিয়েছেন। তাই আমার পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তার বার্তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া আমার কর্তব্য।”
