লিভারপুলের কোডি গ্যাকপোকে নিয়ে টটেনহ্যামের আগ্রহ, কী অবস্থান অ্যানফিল্ডের?
লিভারপুলের তারকা ফরোয়ার্ড কোডি গ্যাকপোকে নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে লিভারপুল কর্তৃপক্ষ। ডেইলি মেইল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, টটেনহ্যাম হটস্পার গ্যাকপোকে দলে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও, তাকে বিক্রি করার কোনো পরিকল্পনা নেই লিভারপুলের। অ্যানফিল্ড থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি, যা গ্যাকপোকেন্দ্রিক দলবদলের গুঞ্জনকে কিছুটা থিতু করেছে।
লিভারপুল বর্তমানে তাদের আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ক্লাবটি পিএসজি’র ব্রাডলি বারকোলার (যাঁর বাজারমূল্য ১৪৫ মিলিয়ন পাউন্ড) দিকে নজর রাখছে। লিভারপুলের মূল লক্ষ্য হলো আক্রমণভাগের মান বাড়ানো, কোনো খেলোয়াড়কে হারানো নয়।
২৭ বছর বয়সী কোডি গ্যাকপোর সাথে লিভারপুলের চুক্তি রয়েছে ২০৩০ সাল পর্যন্ত। গ্যাকপোর গুরুত্ব এবং বর্তমান ফুটবল বাজারের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে লিভারপুল তাদের অবস্থান শক্ত রেখেছে। গত মৌসুমে নয়টি গোল করলেও, তার অভিজ্ঞতা এবং বহুমুখী খেলার দক্ষতার ওপর ক্লাব কর্তৃপক্ষের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। বর্তমান বাজারে এই মানের খেলোয়াড়দের চড়া দামের কারণে, লিভারপুলকে তাদের অবস্থান থেকে সরাতে হলে বিশাল অঙ্কের প্রস্তাব প্রয়োজন হবে।
বাস্তবসম্মত দিক থেকে দেখলে, লিভারপুল ইতিমধ্যে এই গ্রীষ্মে মোহাম্মদ সালাহকে হারিয়েছে। আক্রমণভাগে তাদের একমাত্র নতুন সংযোজন ওসাসুনা থেকে আসা ভিক্টর মুনোজ, যার জন্য খরচ হয়েছে ৩৪.৫ মিলিয়ন পাউন্ড। ২০২২ সালে পিএসভি থেকে ৪৪ মিলিয়ন পাউন্ড দিয়ে কেনা গ্যাকপোকে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিক্রি করা লিভারপুলের জন্য বেশ কঠিন।
টটেনহ্যামের দলবদলের পরিকল্পনা
টটেনহ্যামের আগ্রহ বেশ স্পষ্ট। তারা শুধু কোডি গ্যাকপোই নয়, ওমর মারমুশ এবং সাভিনহোর মতো খেলোয়াড়দের ওপরও নজর রাখছে। রবার্তো ডি জার্বির অধীনে টটেনহ্যাম ইতিমধ্যে মার্টিন দুব্রাভকা, অ্যান্ডি রবার্টসন, মার্কোস সেনেসি, জান পল ভ্যান হেকি, স্যান্ড্রো টোনালি এবং মেটুস ফার্নান্দেসের মতো খেলোয়াড়দের সই করিয়ে তাদের স্কোয়াড শক্তিশালী করেছে। তবে গ্যাকপোর ক্ষেত্রে লিভারপুলের অবস্থান আপাতত অত্যন্ত অনড়।
লিভারপুলের একাডেমি ও তরুণ খেলোয়াড়দের লোন
মূল দলের পাশাপাশি লিভারপুলের তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়ে নতুন খবর শোনা যাচ্ছে। স্লোভাকিয়ায় অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে ভালো পারফর্ম করা এবং কার্ডিফের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে গোল পাওয়া ফরোয়ার্ড কেইরল ফিগুয়েরোকে নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে বার্নসলি এবং স্যালফোর্ড। ইনজুরি থেকে ফেরা ডিফেন্ডার ওয়েলিটি লাকিকে লোন দেওয়া হবে এবং কার্ডিফ লিভারপুলের লেফট-ব্যাক ক্যালাম স্ক্যানলনকে লোন নিতে আগ্রহী। এসব ছোটখাটো দলবদল গ্রীষ্মের দলবদল প্রক্রিয়ার অংশ হলেও, গ্যাকপোকে নিয়ে লিভারপুলের বর্তমান সিদ্ধান্তই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
মতামত
লিভারপুল ভক্তদের জন্য গ্যাকপোকে বিক্রি না করার খবরটি আশ্বস্ত করার মতো হলেও, কিছুটা উদ্বেগের জায়গা থেকেই যায়। সালাহর প্রস্থান এবং আক্রমণভাগে মাত্র একজন নতুন খেলোয়াড় আসায়, সমর্থকদের মনে বাড়তি চিন্তার উদয় হওয়া স্বাভাবিক। বিশেষ করে, গত মৌসুমে গ্যাকপোর ফর্ম এবং দলের আক্রমণভাগের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে তাকে ধরে রাখা লিভারপুলের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
ব্রাডলি বারকোলাকে দলে নেওয়ার সম্ভাবনা সমর্থকদের উৎসাহিত করলেও, চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ভক্তরা আতঙ্কিত থাকছেন। তরুণ খেলোয়াড়দের লোনের বিষয়টি ইতিবাচক মনে হলেও, লিভারপুলের আক্রমণভাগের গভীরতা বাড়াতে গ্যাকপোকে দলে রাখাটাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।
