লিভারপুলের নজরে ব্র্যাডলি বারকোলা, ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বড় প্রস্তাবের প্রস্তুতি
লিভারপুল ফুটবল ক্লাব ইতোমধ্যেই ফ্লোরিয়ান ওয়ার্টজ এবং আলেকজান্ডার আইসাকের মতো খেলোয়াড়দের জন্য ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি অর্থ ব্যয় করেছে। এবার তারা আবারও বড় অঙ্কের বিনিয়োগের পথে হাঁটছে। প্যারিস সেন্ট-জার্মেই (পিএসজি) এবং ফ্রান্সের উইঙ্গার ব্র্যাডলি বারকোলা এখন লিভারপুলের প্রধান লক্ষ্য। তাকে দলে নিতে রেডস কর্তৃপক্ষ প্রায় ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করতে প্রস্তুত, যদিও পিএসজি এই মূল্যের পরিমাণ প্রায় ১৪৫ মিলিয়ন পাউন্ডের কাছাকাছি চাইছে।
গত মৌসুমে লিভারপুল প্রিমিয়ার লিগে চ্যাম্পিয়ন আর্সেনালের চেয়ে ২৫ পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে পঞ্চম স্থানে শেষ করেছিল। ক্লাবটি এর আগে বায়ার লেভারকুসেনকে ওয়ার্টজের জন্য ১১৬ মিলিয়ন পাউন্ড এবং আইসাককে নিউক্যাসল থেকে দলে ভেড়াতে রেকর্ড ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করেছিল। এখন ২৩ বছর বয়সী বারকোলার জন্য তারা আবারও বিশাল অঙ্কের অর্থ খরচ করতে রাজি।
দ্রুতগতির, দক্ষ এবং প্রতিপক্ষকে ড্রিবলিংয়ে পরাস্ত করতে পারদর্শী বারকোলা ফরাসি দলের হয়ে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন। পিএসজির হয়ে তিনি গত দুই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন। ২০২৩ সালে লিওঁ থেকে ৩৮.৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে পিএসজিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি তিনটি লিগ ওয়ান শিরোপা, দুটি ফরাসি কাপ, উয়েফা সুপার কাপ এবং ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ জিতেছেন।
ডান পায়ের খেলোয়াড় হলেও বারকোলা মূলত বাম প্রান্তে খেলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তবে তিনি ডান প্রান্তে বা মাঝমাঠেও কার্যকর। পিএসজিতে খভিচা কাভারাটসখেলিয়া এবং ডেসায়ার ডুইয়ের মতো খেলোয়াড় থাকায় তাকে নিয়মিত ৯০ মিনিট খেলার সুযোগ পেতে বেগ পেতে হয়। অ্যানফিল্ডে যোগ দিলে তিনি খেলার বেশি সুযোগ পেতে পারেন। নয় বছর ক্লাবে কাটানোর পর মোহাম্মদ সালাহ বিদায় নেওয়ায় লিভারপুলের আক্রমণভাগ শক্তিশালী করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
ব্র্যাডলি বারকোলা জাতীয় দলের হয়ে ২৮টি ম্যাচ খেলেছেন। এ বছরের বিশ্বকাপে তিনি তিনটি গোল করেছেন। তবে পিএসজির সতীর্থ ডুইয়ের উপস্থিতির কারণে ক্লাবের মতো জাতীয় দলেও তার খেলার সময় সীমাবদ্ধ ছিল।
বারকোলার শক্তির পরিসংখ্যান
পরিসংখ্যান বলছে, লুইস দিয়াজের উত্তরসূরি হিসেবে বারকোলা এক উপযুক্ত পছন্দ। অপটা-এর খেলোয়াড় তুলনা মডেল অনুযায়ী, গত মৌসুমে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচটি লিগে বারকোলার পারফরম্যান্স দিয়াজের সাথে ৭৮ শতাংশ মিলে যায়। তবে বারকোলা কেবল একজন উইঙ্গার নন, তার খেলার ধরন সেন্টার-ফরোয়ার্ডের মতো। গত মৌসুমে লিগ ওয়ানে তিনি প্রতি ৯০ মিনিটে গড়ে ৩.৫টি শট নিয়েছেন। তার ৯.৮৩ এক্সপেক্টেড গোল (xG) ইউরোপের শীর্ষ পাঁচটি লিগের উইঙ্গারদের মধ্যে ৯৫তম শতাংশে রয়েছে।
এছাড়া, গত মৌসুমে প্রতি ৯০ মিনিটে দুটি শট-এন্ডিং ক্যারির রেকর্ড গড়া একমাত্র খেলোয়াড় ছিলেন তিনি। তিনি বিরোধী দলের পেনাল্টি বক্সে প্রতি ৯০ মিনিটে ৮.৬৯ বার বল স্পর্শ করেছেন। সালাহর সাথে তুলনা করলে দেখা যায়, বারকোলা অনেক বেশি সরাসরি বল বহনকারী খেলোয়াড়। পাসিং এবং রক্ষণাত্মক চাপের দিক থেকেও তিনি বেশ পরিপক্কতা দেখিয়েছেন। লিভারপুলের কোচ আন্দোনি ইরাওলার কৌশলের সাথে তার এই আক্রমণাত্মক প্রেসিং মানিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মাত্র ২৩ বছর বয়সে তার গতি, খেলার বুদ্ধি এবং শট নেওয়ার সক্ষমতা তাকে ইউরোপের অন্যতম সেরা উদীয়মান ফরোয়ার্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ভক্তদের মতামত
জন: তার দাম দেখে আমি বিস্মিত। তার মান নিয়ে প্রশ্ন নেই, কিন্তু ভিনিসিয়াস জুনিয়রের দাম ১৩৭ মিলিয়ন পাউন্ড হলে এই দাম অযৌক্তিক।
লি: সে তার যোগ্যতা প্রমাণ করেছে। নতুন কোচের জন্য এটি একটি বড় চুক্তি হতে পারে, যা মৌসুমে নতুন উদ্দীপনা যোগাবে। তবে আমাদের রক্ষণভাগ নিয়েও ভাবা দরকার।
স্টু: বারকোলা ভালো খেলোয়াড়, কিন্তু সে ১০০ বা ১৪৫ মিলিয়ন পাউন্ডের যোগ্য নয়। পিএসজিতে সে একজন স্কোয়াড খেলোয়াড়। ৭০ মিলিয়নের বেশি দাম হলে অন্য খেলোয়াড় খোঁজা উচিত।
অ্যান্ড্রু: এটি বিপুল পরিমাণ অর্থ। বারকোলা কি আদৌ ৯০ মিনিট খেলতে পারে? তাকে সাধারণত ৬০-৭০ মিনিটের মধ্যে তুলে নেওয়া হয়। আশা করি আমাদের ধারণা ভুল প্রমাণিত হবে।
পল: দলে পর্যাপ্ত আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় আছে। গত বছর রক্ষণভাগের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে। আগে রক্ষণভাগ মজবুত করা প্রয়োজন।
