জমজমাট লড়াইয়ের অপেক্ষায় জার্মানির তৃতীয় লিগ ৩. লিগা
আগামী ৭ আগস্ট শুরু হচ্ছে জার্মানির তৃতীয় স্তরের ফুটবল লিগ ‘৩. লিগা’। মৌসুমের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে সাবেক বুন্দেসলিগা ক্লাব ভাল্ডহফ ম্যানহেইম এবং একসময়ের চ্যাম্পিয়ন ফরচুনা ডুসেলডর্ফ। ২৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার কার্ল বেনজ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচটিকে ঘিরে দর্শকদের মধ্যে দারুণ উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ইউরোপের অন্যতম সেরা এই তৃতীয় স্তরের লিগে এবার আগের চেয়ে অনেক বেশি ডার্বি ম্যাচ দেখা যাবে। বিশেষ করে নতুন আসা এমএসভি ডুইসবার্গ এবং হান্সা রস্টকের বিশাল সমর্থক গোষ্ঠী ও তাদের ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামগুলো ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ হতে চলেছে। লিগের এবারের শিরোপা জয়ের দৌড়ে আছে ১. এফসি সারব্রুকেন, প্রুসেন মুনস্টার এবং জনপ্রিয় ক্লাব রট-ওয়েইস এসেনের মতো দলগুলো।
তৃতীয় স্তরে ইউরোপের সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতি
টানা দ্বিতীয় মৌসুমের মতো ৩. লিগার গড় দর্শক উপস্থিতি ইংল্যান্ডের ইএফএল লিগ ১-কে ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে প্রতিটি ম্যাচে গড়ে ১১,৫৬৬ জন দর্শক মাঠে উপস্থিত থাকছেন। মাঠের চমৎকার পরিবেশ এবং তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে এটি কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় মৌসুম হতে যাচ্ছে।
২০ দলের এই লিগে এবার নতুন দল হিসেবে যোগ দিয়েছে আলিমেনিয়া আখের। ৩১,৫০০ ধারণক্ষমতার এমএসভি অ্যারেনায় খেলতে নামা ‘ডাই জেব্রাস’ খ্যাত ডুইসবার্গও শিরোপার অন্যতম দাবিদার। এছাড়া পূর্ব জার্মানির প্রতিনিধিত্বকারী হান্সা রস্টক এবং রট-ওয়েইস এসেনের হোম ভেন্যুগুলো তাদের জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশের জন্য বিখ্যাত।
মৌসুমের সময়সূচী ও নিয়ম
১৯তম এই মৌসুমটি চলবে ২২ মে, ২০২৭ পর্যন্ত। ২১ ডিসেম্বর ১৯তম রাউন্ডের পর শীতকালীন বিরতি শুরু হবে, যা চলবে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত। লিগের সেরা দুটি দল সরাসরি দ্বিতীয় বিভাগে উন্নীত হবে। তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলটিকে প্লে-অফ খেলতে হবে দ্বিতীয় বিভাগের ১৬তম দলের সঙ্গে। অন্যদিকে, পয়েন্ট টেবিলের নিচের চারটি দল সরাসরি চতুর্থ স্তরে নেমে যাবে। প্লে-অফের ম্যাচগুলো ২২ ও ২৬ মে, ২০২৭ তারিখে নির্ধারিত হয়েছে।
শিরোপার মূল দাবিদার
-
ফরচুনা ডুসেলডর্ফ: কোচ পরিবর্তনের ধাক্কা সামলে উঠতে না পেরে অবনমিত হওয়া ফরচুনা এবার দ্রুত দ্বিতীয় বিভাগে ফেরার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে। ফিলিপ ফোর্স্টার এবং ডমিনিক হেইন্টজের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা রাখছে ক্লাবটি। এছাড়া ৪২ হাজার দর্শক গড় উপস্থিতির শক্তিশালী সমর্থন তাদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।
-
হান্সা রস্টক: ১৯৯৫ সালের ২. বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়ন হান্সা রস্টক গত মৌসুমে পঞ্চম স্থানে থেকে শেষ করেছিল। ড্যানিয়েল ব্রিঙ্কম্যানের অধীনে এবার দলটি আরও সুসংহত। লিওন দাজাকু এবং এমিল হোল্টেনের মতো নতুন খেলোয়াড়রা তাদের আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করেছে।
-
প্রুসেন মুনস্টার: নতুন কোচ থমাস ওর্লের অধীনে প্রুসেন মুনস্টার গত মৌসুমের ব্যর্থতা মুছে ফেলতে চায়। রক্ষণভাগ ও আক্রমণভাগে বেশ কিছু নতুন খেলোয়াড় যুক্ত করেছে তারা। ক্লাবটির অনুগত সমর্থকদের আশা, এবারের প্লে-অফ লড়াইয়ে ভালো অবস্থানে থাকবে দলটি।
ডুইসবার্গ ও রট-ওয়েইস এসেনের লড়াই
ডাইটমার হার্শের পরিচালনায় এমএসভি ডুইসবার্গ এবার লিগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোয়াড মূল্যের দল। শিরোপা জয়ের জন্য তাদের লক্ষ্য সেরা তিনে থাকা। অন্যদিকে, উভে কোশিনাতের অধীনে রট-ওয়েইস এসেন গত মৌসুমের পারফরম্যান্স ধরে রেখে শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। এছাড়া ১. এফসি সারব্রুকেন এবং টিএসভি আলিমেনিয়া আখেরও এবারের মৌসুমে পয়েন্ট টেবিলের উপরের দিকে থাকার বড় প্রতিদ্বন্দ্বী।
অবনমন ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট
লিগের নতুন দল টিএসভি হ্যাভেলসে, এসভি মেপেন, সোনেনহফ গ্রোসাস্পাচ এবং ফরচুনা কোলোন অবনমন এড়াতে লড়াই করবে। ৩. লিগার দলগুলো মিডিয়া স্বত্ব থেকে গড়ে ১.৩১ মিলিয়ন ইউরো আয় করে, যা চতুর্থ বিভাগের তুলনায় অনেক বেশি। তবে সব মিলিয়ে ২৬ মিলিয়ন ইউরোর এই তহবিলটি ২০টি ক্লাবের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হয়। সাশ্রয়ী টিকিটের মূল্য এবং স্টেডিয়ামের চমৎকার আবহ নিশ্চিতভাবেই দর্শকদের আবারও মাঠে টানবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
