নতুন ক্লাবের সন্ধানে ক্রিস স্মলিং, জানালেন ভবিষ্যতের পরিকল্পনা
৩৬ বছর বয়সী ফুটবলার ক্রিস স্মলিংয়ের ক্যারিয়ারের শুরুটা ছিল সাধারণ কোনো ফুটবলারের মতো নয়। মেইডস্টোন থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল পর্যন্ত তার এই পথচলায় রয়েছে তিনটি দেশের লিগ এবং ৫৮০টি ক্লাব ম্যাচ। স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন কিংবা হোসে মরিনহোর মতো কিংবদন্তি কোচদের অধীনে খেলার পাশাপাশি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও রোমার হয়ে শিরোপা জিতেছেন তিনি, সেই সাথে ইংল্যান্ডের জার্সিতে খেলেছেন ৩১টি ম্যাচ। বর্তমানে স্মলিং তার পরিবারসহ উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডে ফিরে এসেছেন এবং নিজের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ভাবছেন।
যদিও ফুটবল ক্যারিয়ারের পরবর্তী জীবন নিয়ে তার পরিকল্পনা রয়েছে, তবে বর্তমানে তিনি পুরোপুরি নতুন একটি ক্লাবের সন্ধানে মনোযোগ দিচ্ছেন। স্মলিং বলেন, “আমি এখন আমার শরীর সম্পর্কে ২৬ বছর বয়সের তুলনায় অনেক বেশি জানি এবং খেলার মাঠে তা ফুটে ওঠে।”
তিনি আরও বলেন, “আমার বয়স ৩০ পার হওয়ার পর প্রতিটি বছরই আমার কাছে মূল্যবান। খেলার প্রতি সেই আবেগ এবং আনন্দ ধরে রাখা জরুরি। এখন আমি ডায়েট এবং সাপ্লিমেন্টের দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছি। প্রাক-মৌসুমে আমরা রক্ত পরীক্ষা করাই, তবে আমি জেনেটিক্স পরীক্ষাও করিয়েছি, যার ওপর ভিত্তি করে আমার সাপ্লিমেন্টে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।”
গত মৌসুমে সৌদি প্রো-লিগে আল-ফেইহার হয়ে প্রতিটি ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন স্মলিং, যা নিয়ে তিনি বেশ গর্বিত। তবে ১৮ বছর আগে তার যাত্রার শুরুটা ছিল ভিন্ন। স্মলিং স্মরণ করে বলেন, “ফুটবল খেলোয়াড় হওয়া তখন আমার পরিকল্পনায় ছিল না। আমি মেইডস্টোনে খেললেও ফাইন্যান্সিয়াল ইকোনমিকস পড়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। সবকিছু ঠিকঠাক ছিল। গ্রীষ্মের শেষের দিকে ফুলহ্যাম থেকে সুযোগ আসে। স্যার রয় হডসন আমার একটি প্র্যাকটিস ম্যাচ দেখে অফিসে ডেকে চুক্তি প্রস্তাব দেন। আমি পুরো বিষয়টি ভেবে ওঠার সময়ও পাইনি, এতটাই অবাক হয়েছিলাম।”
২০১০ সালের ১৭ জানুয়ারি ফুলহ্যামের হয়ে ব্ল্যাকবার্নের বিপক্ষে ম্যাচ ছিল। কিন্তু তার আগের রাতে তার জীবনের মোড় ঘুরে যায়। স্মলিং বলেন, “ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রস্তাব পাওয়ার পর স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন হোটেলে আসেন। তিনি খুব শান্তভাবে আমাকে আশ্বস্ত করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তিনি আমার ওপর বিশ্বাস রাখেন এবং আমি খেলার সুযোগ পাব। তার মতো কোচের সাথে ড্রেসিংরুম শেয়ার করা বা কথা বলা অবিশ্বাস্য এক অভিজ্ঞতা।”
মরিনহোর সাথে সম্পর্ক নিয়ে স্মলিং বলেন, “ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কিংবা রোমা—সবখানেই মরিনহো আমাকে অধিকাংশ ম্যাচে খেলাতেন, কারণ আমাদের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ছিল। সেরা কোচদের গুণ হলো তারা সিনিয়র খেলোয়াড়দের মধ্যেও বিশ্বাস তৈরি করতে পারেন। চোট নিয়েও আমি ইঞ্জেকশন নিয়ে খেলেছি, কারণ তিনি আমাকে সেই মানসিকতা দিয়েছিলেন।”
বর্তমানে স্মলিং কোচিংয়ে আসার কোনো পরিকল্পনা করছেন না। তিনি বলেন, “আমি তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য একটি শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে কাজ করছি। ফুটবল ক্যারিয়ার শেষ হলে আমি এই প্রজেক্টগুলোতে আরও সময় দিতে পারব। কিন্তু বর্তমানে খেলার প্রতি আমার প্যাশন ও ড্রাইভ এখনো অটুট এবং শারীরিকভাবে আমি ভালো অবস্থানে আছি।”
স্মলিং তার ক্যারিয়ারের প্রতিটি ক্লাবেই মাঠের ভেতরে ও বাইরে ইতিবাচক প্রভাব রাখার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়াটা সে সময় সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। তখন টাকা আয়ের কোনো নিশ্চয়তা ছিল না, কিন্তু আমি কখনোই কোনো কিছুকে হালকাভাবে নিইনি।”
