৪৫ মিলিয়ন পাউন্ডে লিডস ইউনাইটেডে যোগ দিলেন জেমস ট্রাফোর্ড
ম্যানচেস্টার সিটির গোলরক্ষক জেমস ট্রাফোর্ড ৪৫ মিলিয়ন পাউন্ডের চুক্তিতে লিডস ইউনাইটেডে যোগ দিয়েছেন।
গত গ্রীষ্মে বার্নলি থেকে ২৭ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে ইত্তিহাদ স্টেডিয়ামে ফেরার মাত্র এক বছরের মাথায় ইংল্যান্ডের এই আন্তর্জাতিক গোলরক্ষক ক্লাব ছাড়লেন।
ট্রাফোর্ড এই গ্রীষ্মে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ দলে থাকলেও কোনো ম্যাচে খেলার সুযোগ পাননি। গত মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে তিনি ১৭টি ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন, যার মধ্যে চারটি ছিল প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ। এছাড়া দলের কারাবাও কাপ ও এফএ কাপ জয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
২৩ বছর বয়সী এই গোলরক্ষকের ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ারে পাড়ি জমানোর সিদ্ধান্তটি এসেছে সেপ্টেম্বরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি ডোনারুম্মার আগমনের পর। মূলত এর ফলে ম্যানচেস্টার সিটির প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক হওয়ার স্বপ্ন অধরা থেকে যায় ট্রাফোর্ডের।
এই ট্রান্সফারের মাধ্যমে ব্রিটিশ গোলরক্ষক হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছেন ট্রাফোর্ড। এর আগে ২০১৭ সালে সান্ডারল্যান্ডের জর্ডান পিকফোর্ডকে নিতে এভারটন ৩০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করেছিল, যা ছিল আগের রেকর্ড।
ইতিহাসের অন্যতম দামী গোলরক্ষকদের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন ট্রাফোর্ড। তার চেয়ে বেশি ট্রান্সফার ফি ছিল কেবল কেপা আরিজাবালাগা (৬৮ মিলিয়ন পাউন্ড) ও অ্যালিসনের (৬২ মিলিয়ন পাউন্ড)।
এই বিষয়ে আরও তথ্য
ট্রাফোর্ডের প্রাথমিক ট্রান্সফার ফি হিসেবে এখন পর্যন্ত ৮০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি খরচ হয়েছে।
লিডস ইউনাইটেডের সাথে হওয়া এই চুক্তির অংশ হিসেবে ম্যানচেস্টার সিটি ভবিষ্যতে বিক্রির ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ লভ্যাংশ পাবে। এছাড়া সিটির কাছে ‘ম্যাচিং রাইটস’ থাকছে, অর্থাৎ ভবিষ্যতে অন্য কোনো ক্লাব ট্রাফোর্ডকে কেনার প্রস্তাব দিলে সিটি সেই একই অর্থ প্রস্তাব করে তাকে প্রথম অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ফিরিয়ে নিতে পারবে।
লিডস কোচ ড্যানিয়েল ফার্কে এই মোটা অঙ্কের অর্থ খরচ করতে রাজি হয়েছেন। বিশেষ করে কার্ল ডারলো এবং ইলান মেসলিয়ার এই গ্রীষ্মে এল্যান্ড রোড ছাড়ার পর দলে গোলরক্ষক সংকট তৈরি হয়।
দলে লুকাস পেরি এবং অ্যালেক্স কেয়ার্নস থাকলেও, গত মৌসুমে দ্বিতীয় পর্বে ডারলোর কাছে জায়গা হারিয়েছিলেন পেরি। এমনকি ৭ জানুয়ারি নিউক্যাসলের কাছে ৪-৩ গোলে হারের পর থেকে প্রিমিয়ার লিগে আর খেলার সুযোগ পাননি তিনি।
লিডস মূলত একজন উদীয়মান গোলরক্ষকের সম্ভাবনার ওপর বিনিয়োগ করছে। বার্নলির হয়ে চ্যাম্পিয়নশিপে খেলে নজর কেড়েছিলেন ট্রাফোর্ড, যেখানে ৪৫ ম্যাচে তিনি মাত্র ১৬টি গোল হজম করেছিলেন।
ট্রাফোর্ড এখন পর্যন্ত শীর্ষ লিগে মাত্র ৩২টি ম্যাচ খেলেছেন। তবে বার্নলির সাবেক কোচ স্কট পার্কার ইত্তিহাদে ফেরার আগে তার পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন।
পার্কার তাকে ‘বিশ্বমানের’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। ২০২৪-২৫ মৌসুমে বার্নলির প্রিমিয়ার লিগে ফেরার পেছনে ট্রাফোর্ডের ২৯টি ক্লিন শিট এবং ৮৪.৪৭ শতাংশ সেভ রেশিও বড় ভূমিকা পালন করেছিল।
ট্রাফোর্ড ম্যানচেস্টার সিটিতেই তার ক্যারিয়ার শুরু করেন। ২০২৩ সালে বার্নলিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি অ্যারিংটন স্ট্যানলি ও বোল্টন ওয়ান্ডারার্সের হয়ে ধারে খেলেছিলেন।
বার্নলির হয়ে তিনি মোট ৭৩টি ম্যাচ খেলেছিলেন, যার পর গত গ্রীষ্মে ম্যানচেস্টার সিটি তাদের বাই-ব্যাক অপশন ব্যবহার করে তাকে দলে ফিরিয়ে আনে।
