লিভারপুলের নতুন ড্যানিয়েল স্টারিডজ হিসেবে উদীয়মান জেমস বোগেরে
লিভারপুলের নতুন ড্যানিয়েল স্টারিডজ হিসেবে পাদপ্রদীপের আলোয় উঠে এসেছেন এক তরুণ ফুটবল প্রতিভা।
ড্যানিয়েল স্টারিডজকে অনেকে চোটের কারণে হারিয়ে যাওয়া ক্যারিয়ারের জন্য মনে রাখলেও, তার তুঙ্গস্পর্শী সময়ে তিনি কতটা অসাধারণ ছিলেন তা সহজে ভোলা যায় না।
লিভারপুলের ইতিহাসে কেবল গোলদাতা হিসেবেই নয়, বরং ক্লাবের দেখা অন্যতম সেরা পরিপূর্ণ ফরোয়ার্ড হিসেবে স্টারিডজের নাম রয়েছে।
স্টারিডজ কেবল একজন প্রথাগত নম্বর ৯ স্ট্রাইকার ছিলেন না। পেনাল্টি বক্সে তার সহজাত প্রবৃত্তির পাশাপাশি একজন উইঙ্গার এবং প্লেমেকারের গুণাবলিও ছিল তার মধ্যে। তিনি মাঠের দুই প্রান্তে সরে গিয়ে ডিফেন্ডারদের একা পেয়ে সহজেই পরাস্ত করতে পারতেন।
তার গতি ছিল বিদ্যুৎগতির, তবে পায়ের কাজ ছিল অতুলনীয়। সংকীর্ণ জায়গায় দ্রুত পায়ে ড্রিবলিং করে তিনি ডিফেন্ডারদের সহজেই বোকা বানাতেন।
তার খেলার মধ্যে এক ধরণের জাদুকরী ছন্দ ছিল।
অনেকের মতে, স্টারিডজ ছিলেন দুই কিংবদন্তি ফরোয়ার্ডের সংমিশ্রণ।
তার মধ্যে ছিল রোনালদো নাজারিওর বিস্ফোরক ড্রিবলিং এবং রক্ষণভাগ চিরে বেরিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা। একইসাথে থিয়েরি অঁরির মার্জিত ভঙ্গি, ধৈর্য এবং নিখুঁত ফিনিশিংয়ের ছোঁয়া ছিল তার খেলায়। পুরোপুরি ফিট থাকলে তাকে আটকানো প্রায় অসম্ভব ছিল।
তার গোল করার পরিসংখ্যানে তার বহুমুখী দক্ষতার প্রমাণ মেলে। গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে চিপ করা, বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শট, প্রথম টাচেই গোল করা কিংবা দুর্দান্ত হেডিং—সবই ছিল তার আয়ত্তে।
তার এই অপ্রত্যাশিত খেলার ধরনই তাকে অনন্য করে তুলেছিল। ডিফেন্ডাররা কখনোই বুঝতে পারতেন না তিনি কখন কী করবেন।
এ কারণেই লিভারপুলের জার্সি পরা অন্যতম সেরা এবং বহুমুখী ফরোয়ার্ড হিসেবে স্টারিডজ চিরস্মরণীয়।
তিনি একজন স্ট্রাইকারের আদর্শ উদাহরণ। অনেক ফরোয়ার্ড কেবল একটি নির্দিষ্ট ঘরানার ফুটবল খেলেন।
টার্গেট ম্যান, ডিফেন্স চেরা দৌড় কিংবা ফলস নাইন—স্টারিডজ ছিলেন সবকিছুর সংমিশ্রণ। এমন বহুমুখী স্ট্রাইকার ফুটবলে খুবই বিরল।
স্টারিডজের মতো ফরোয়ার্ড খুব কমই দেখা যায়, তাই এমন প্রতিভা পেলে সব দলই তাকে দলে ভেড়াতে চায়।
বর্তমানে এমন এক তরুণ ফরোয়ার্ড উঠে এসেছেন, যার খেলার ধরন অনেকটা স্টারিডজের মতো এবং তিনি লিভারপুলের জন্য একদম উপযুক্ত। রেডসদের রিক্রুটমেন্ট টিমের উচিত তার ওপর নজর রাখা।
১৮ বছর বয়সী উগান্ডার ফরোয়ার্ড জেমস বোগেরে ইতিমধ্যেই ইতিহাস গড়েছেন। তিনি তার দেশের হয়ে আফ্রিকান কাপ অব নেশনসে খেলা সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়। গত বছর অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে গোল করে তিনি যেকোনো বিশ্বকাপে নিজের দেশের প্রথম গোলদাতা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
তিনি দ্রুতই দেশের নতুন সুপারস্টার হয়ে উঠছেন।
অনূর্ধ্ব-১৭ আফকন এবং অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে নজর কাড়ার পর জানুয়ারি মাসে তিনি ডেনমার্কের ক্লাব এজিএফ-এ যোগ দেন।
ক্লাবের হয়ে অভিষেকের কয়েক মিনিটের মধ্যেই তিনি শেষ মুহূর্তে জয়সূচক গোল করে দলের ড্যানিশ সুপারলিগা শিরোপা নিশ্চিত করেন।
এই সপ্তাহের শুরুতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বাছাইপর্বে তিনি জোড়া গোল করেছেন। ক্লাবটির হয়ে মাত্র ৩০০ মিনিটের বেশি সময়ে তিনি মোট তিনটি গোল করলেন।
১৮ বছর বয়সী এই তরুণের শুরুটা চমৎকার। তার খেলার মধ্যে সেরা স্টারিডজের ছায়া দেখা যায়। বোগেরে ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে দক্ষ, দ্রুতগতির এবং বুদ্ধিদীপ্ত খেলোয়াড়।
তিনি বহুমুখী ফিনিশার। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জোড়া গোল করার সময় তিনি তার ডান ও বাম উভয় পা ব্যবহার করেছেন। উভয় শটই ছিল নিখুঁত ফিনিশিং।
এত কম বয়সে তিনি যা করছেন, তাতে বোঝা যায় ভবিষ্যতে তিনি বিশেষ কিছু করতে যাচ্ছেন। বোগেরে প্রমাণ করছেন যে নতুন স্টারিডজ হিসেবে তিনি হাজির হয়েছেন।
লিভারপুলের স্কাউটিং বিভাগকে এই বিষয়টিতে নজর দিতে হবে। তিনি এখনই আলোচনার কেন্দ্রে।
