ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে নতুন দুর্নীতির অভিযোগ
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ওপর চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে নতুন এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইনফান্তিনো যখন উয়েফার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, তখন তার সঙ্গে সম্পর্কের জের ধরে এক নারীকে মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়েছে উয়েফা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্পর্কের ইতি ঘটার পর ওই নারীকে ছয় অঙ্কের একটি অর্থ প্রদান করা হয়। উয়েফায় প্রশাসক হিসেবে কর্মরত ওই নারীকে সম্পর্কের চলাকালীন ইনফান্তিনো নিজেই ব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
দ্য টেলিগ্রাফের ভাষ্যমতে, তৎকালীন উয়েফা সভাপতি মিশেল প্লাতিনি সম্পর্কের বিষয়টি ইনফান্তিনোর কাছে তুলে ধরলে তারা ওই নারীকে সংস্থা থেকে সরিয়ে দেওয়ার এবং অর্থ প্রদানের বিষয়ে একমত হন। সংস্থা ছাড়ার পর ইনফান্তিনো নিজের পরিচিতি কাজে লাগিয়ে তাকে একই ধরনের একটি লাভজনক চাকরি পাইয়ে দেন। শুধু তাই নয়, চাকরি ছাড়ার পর ওই নারীর এমবিএ কোর্সের খরচও উয়েফা বহন করেছিল বলে অভিযোগ।
উল্লেখ্য, ২০০০ সালে উয়েফায় যোগ দেওয়া ইনফান্তিনো ২০০৯ সালে সংস্থাটির সাধারণ সম্পাদক হন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে তিনি ফিফার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এই অভিযোগের বিষয়ে উয়েফার একজন মুখপাত্র দ্য টেলিগ্রাফকে বলেন, তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং ওই ব্যক্তিকে একটি ‘প্রস্থানকালীন অর্থ’ প্রদান করা হয়েছিল। মুখপাত্র আরও বলেন, “সেই সময়ে কর্মীদের চলে যাওয়ার জন্য যে নিয়ম ছিল, সেই অনুসারেই এই অর্থ দেওয়া হয়। ২০১৬ সালের পর এই নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে।”
এদিকে ফিফার একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইনফান্তিনো এসব অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন। ফুটবল সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, “অনুপযুক্ত আচরণ বা কোনো আইন লঙ্ঘনের ইঙ্গিত দেওয়া মানহানিকর। ইনফান্তিনোর আচরণের বিষয়ে উয়েফা বা ফিফার কোনো কর্মী কখনও অভিযোগ করেননি, কারণ এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি।”
প্রসঙ্গত, ২০০১ সালে লিনা আল আশকারকে বিয়ে করেন ইনফান্তিনো। তাদের চার সন্তান রয়েছে।
বর্তমানে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো নানা কারণে সমালোচনার মুখে রয়েছেন। এর আগে বিশ্বকাপের ব্যক্তিগত বিনিয়োগের অংশ বিক্রির প্রস্তাব দিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। পরে সেই পরিকল্পনা পুরোপুরি বাতিল করতে বাধ্য হয় ফিফা।
এই সিদ্ধান্তের পর উয়েফা ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতা বর্জন করার মতো কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অন্যান্য ফেডারেশনগুলোও ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৭ সালে ফিফায় আবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া মরক্কোকে ২০৩০ বিশ্বকাপ ফাইনাল আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিনিময়ে নিজের পুনর্নির্বাচনের জন্য সমর্থন চেয়েছিলেন ইনফান্তিনো—এমন অভিযোগও উঠেছে, যদিও ফিফা তা অস্বীকার করেছে। পাশাপাশি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ আয়োজক শহরগুলো ইনফান্তিনোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া ১০ লক্ষ ডলারের অর্থ আদায়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
“The payment was in line with the regulations that existed for departing staff at the time,” the spokesperson said. “Such regulations have been tightened since 2016 and the current staff regulations – which apply to all UEFA employees at whatever level – reflect those found in a modern, high-profile organisation.”
“Any insinuation of inappropriate conduct or violation of statutes or regulations is defamatory,” the football governing body said. “No employee at UEFA and FIFA has ever raised a complaint regarding Mr Infantino’s behaviour because there never was an incident where he was involved.”
