বিশ্বকাপের দল থেকে বাদ পড়ার কষ্ট নিয়ে মুখ খুললেন ম্যাথিয়াস গিন্টার
এসসি ফ্রাইবুর্গের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় ম্যাথিয়াস গিন্টার জার্মানির বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছেন। তিনি জানান, ইউরোপা লিগের ফাইনালে ফ্রাইবুর্গ হেরে যাওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই জুলিয়ান নাগেলসম্যান তাকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন। ৩২ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার গত মৌসুমের শেষ দিকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ফুটবল উপহার দিয়েছিলেন।
সে মৌসুমের শেষ ভাগে গিন্টার পাঁচটি গোল এবং পাঁচটি অ্যাসিস্ট করেন। ফ্রাইবুর্গের ঐতিহাসিক ইউরোপা লিগ যাত্রাতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, যা শেষ পর্যন্ত ইস্তাম্বুলে অ্যাস্টন ভিলার কাছে ৩-০ ব্যবধানে হারের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এর প্রায় বারো ঘণ্টা পরেই আসে আরেকটি ধাক্কা। নাগেলসম্যান গিন্টারকে জানান যে, তিনি বিশ্বকাপে জার্মানির হয়ে খেলতে যেতে পারবেন না।
কিকার-এর সাথে আলাপকালে গিন্টার জানান, ইউরোপা লিগ ফাইনালের পরাজয় এবং বিশ্বকাপের দল থেকে বাদ পড়া—এই দুটি মিলিয়ে এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন সময়।
ইস্তাম্বুল থেকে ফেরার পর ক্লাব এবং পারিবারিক দায়বদ্ধতার কারণে এই দুটি ব্যর্থতাকে মেনে নেওয়া তার জন্য বেশ কঠিন ছিল। যখন বিশ্বকাপ শুরু হয়, তখন বাড়িতে বসে খেলা দেখাটা তাকে নতুন করে বাস্তবের মুখোমুখি করে। ২০১০ সালের পর থেকে এই প্রথম গিন্টারকে সাধারণ দর্শকের মতো বিশ্বকাপ দেখতে হয়েছে।
চমৎকার ফর্ম সত্ত্বেও বিশ্বকাপের দলে জায়গা পাননি গিন্টার
নাগেলসম্যানের সিদ্ধান্তের আগে গিন্টারের পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। বুন্দেসলিগায় ৪০০তম ম্যাচ খেলার পরপরই তিনি ফ্রাইবুর্গের অন্যতম প্রভাবশালী খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। বিশেষ করে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় তার পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া।
জেন্কের বিপক্ষে ইউরোপা লিগে ১-০ ব্যবধানে হারলেও ফ্রাইবুর্গের রক্ষণভাগে দারুণ লড়াই করায় গিন্টার ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরের সপ্তাহে ফিরতি লেগে গিন্টার গোল করেন এবং ইগর মাতানোভিচকে গোল করতে সাহায্য করেন, যার ফলে ফ্রাইবুর্গ ৫-১ ব্যবধানে জয়ী হয়। জিজিএফএন (GGFN) সেই কামব্যাক এবং জাতীয় দলে গিন্টারের ফেরার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছিল। সেই সময় গিন্টার জানিয়েছিলেন যে, তিনি কোচ নাগেলসম্যানের সাথে যোগাযোগ রাখছেন। নাগেলসম্যান তখনও তাকে পুরোপুরি বাদ দেওয়ার কথা বলেননি, তাই গিন্টারের মনে বিশ্বকাপের আশা টিকে ছিল।
ম্যাথিয়াসের ফেরার পক্ষে ছিলেন লোথার ম্যাথিউস
এপ্রিল মাসে সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে ইউরোপা লিগে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর জার্মান ফুটবলের কিংবদন্তি লোথার ম্যাথিউস গিন্টারের খেলাকে ‘নিখুঁত ম্যাচ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। জিজিএফএন গিন্টারের রক্ষণাত্মক আধিপত্য এবং দলের প্রয়োজনে আক্রমণের সুযোগ তৈরির প্রশংসা করে তার জাতীয় দলে ফেরার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছিল।
ক্যারিয়ারের গোধূলি লগ্নে গিন্টার
গিন্টার এখন বুঝতে পারছেন যে, জাতীয় দলে তার ফিরে আসাটা কঠিন। তিন বছর আগে তিনি শেষবারের মতো জার্মানির হয়ে খেলেছেন। পরবর্তী বড় টুর্নামেন্টের সময় তার বয়স হবে ৩৪ বছর। তাই তিনি এই গ্রীষ্মকে জাতীয় দলে ফেরার ‘শেষ বাস্তবসম্মত সুযোগ’ হিসেবে দেখছেন। তবে দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর ঘোষণা করার প্রয়োজন বোধ করছেন না তিনি। জাতীয় দলের হয়ে তার নয় বছরের ক্যারিয়ারে ৫০টির বেশি ম্যাচ, দুটি আন্তর্জাতিক শিরোপা এবং একটি অলিম্পিক পদক রয়েছে।
তবে প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা তাকে এখনো তাড়িত করে। তিনি জানান, হাল না ছেড়ে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা তার এখনো আছে। তবে জাতীয় দলের চিন্তা না থাকায় বর্তমানে তিনি অনেকটা ‘মুক্ত’ বোধ করছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রতিটি মরসুম তাকে ক্লাব এবং আন্তর্জাতিক দলের হয়ে দ্বিমুখী চাপে থাকতে হতো, যা এখন আর নেই।
৩২ বছর বয়সেও উন্নতি সম্ভব বলে বিশ্বাস করেন গিন্টার
৫০০টিরও বেশি পেশাদার ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতায় গিন্টার মনে করেন, বয়স বাড়লেও তিনি নিজের খেলার মান ধরে রাখতে পারবেন। তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে বলছেন যে, ২৬ বছর বয়সের চেয়ে ৩২ বছর বয়সে তিনি একজন উন্নত ফুটবলার।
তার লক্ষ্য এখন আর জাতীয় দলের জায়গা দখল করা নয়, বরং ইস্তাম্বুলের হারের গ্লানি মুছে ফ্রাইবুর্গের হয়ে অসাধারণ পারফরম্যান্স অব্যাহত রাখা। জাতীয় দলে সুযোগ না পাওয়ার আক্ষেপ রয়ে গেলেও, গিন্টার এখন আসন্ন মরসুমের জন্য প্রস্তুত। তিনি নিজের চেনা ছন্দে ফুটবল খেলে দলকে আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে চান।
