সিরি আ থেকে বিদায়ের পথে লুকাকু, ভ্লাহোভিচ ও লিয়াও: গন্তব্য কি তুরস্ক?
মাত্র এক বছর আগেও তাঁরা ছিলেন ইতালীয় লিগ সিরি আ-র অন্যতম প্রধান তারকা। কিন্তু আজ রোমেলু লুকাকু, দুসান ভ্লাহোভিচ এবং রাফায়েল লিয়াও এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি, যা কিছুদিন আগেও ছিল অকল্পনীয়। তাঁদের সামনে এখন দুটি পথ খোলা: হয় ইউরোপের বড় লিগগুলোতে বেঞ্চে বসে থাকা, নয়তো তুরস্কের ক্লাবে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে নতুন যাত্রা শুরু করা।
ফেনারবাচে, বেশিকতাস এবং গ্যালাতাসারের মতো তুর্কি ক্লাবগুলো তাঁদের দলে ভেড়াতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগা বা বুন্দেসলিগার বড় দলগুলো তাঁদের নিতে আগ্রহী হলেও শর্তগুলো বেশ কঠিন—কম বেতন, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং মূল একাদশে কোনো নিশ্চয়তা নেই।
লুকাকু: চ্যাম্পিয়ন দলের মুখ থেকে হয়লুন্দের ব্যাকআপ
সবচেয়ে দ্রুত পতনের শিকার হয়েছেন সম্ভবত লুকাকু। ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে বেলজিয়ামের এই স্ট্রাইকার ছিলেন শিরোপাজয়ী দলের মূল ভরসা। কিন্তু মারাত্মক ইনজুরির কারণে পরের মৌসুমটি তাঁর প্রায় ব্যর্থতায় কেটেছে। নাপোলির জার্সিতে মাত্র সাতটি ম্যাচ খেলেছেন বদলি খেলোয়াড় হিসেবে, গোল করেছেন কেবল একটি। নাপোলি বর্তমানে রাসমুস হয়লুন্দের ওপর বেশি বিনিয়োগ করছে। গুঞ্জন আছে, লুকাকুকে পেতে ফেনারবাচে নাপোলির সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতালির চ্যাম্পিয়ন দলের মূল স্ট্রাইকার থেকে আজ তাঁকে নিজের ক্যারিয়ার বাঁচাতে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের বাইরে যাওয়ার কথা ভাবতে হচ্ছে।
ভ্লাহোভিচ: ৭০ মিলিয়ন মূল্যের খেলোয়াড় এখন ফ্রি এজেন্ট
অর্থনৈতিক দিক থেকে ভ্লাহোভিচের পরিস্থিতি আরও চমকপ্রদ। ২০২২ সালে জুভেন্টাসে যোগ দেওয়ার পর তিনি ছিলেন ইউরোপের অন্যতম কাঙ্ক্ষিত স্ট্রাইকার। ১৬৮ ম্যাচে ৬৮ গোল করেও তিনি পূর্ণ আস্থা অর্জন করতে পারেননি। চুক্তি নবায়ন না হওয়ায় এখন তিনি ফ্রি এজেন্ট। তবে তাঁর বিশাল বেতন চাওয়ার কারণে প্রিমিয়ার লিগ বা লা লিগার ক্লাবগুলো আগ্রহ দেখাচ্ছে না। জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত বেশিকতাসই একমাত্র ক্লাব যারা আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে। ২৬ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার কি তুরস্কের ক্লাবে গিয়ে ফের পুরনো ছন্দে ফিরবেন?
লিয়াও: প্রিমিয়ার লিগ নয়, তুরস্ক থেকে ডাক
লিয়াওয়ের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। তিনি ফ্রি এজেন্ট নন, তবে গত মৌসুমে তাঁর ফর্ম কিছুটা নিম্নমুখী ছিল। তিনি এসি মিলানকে জানিয়েছেন, নতুন কোনো অভিজ্ঞতা নিতে চান। তাঁর লক্ষ্য ছিল প্রিমিয়ার লিগ, কিন্তু আর্সেনাল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বা লিডসের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আসেনি। একমাত্র গ্যালাতাসারে তাঁকে দলে পেতে আগ্রহ দেখিয়েছে। গ্যালাতসারে তাঁকে প্রতি বছর প্রায় ১০ মিলিয়ন ইউরো বেতনের প্রস্তাব দিয়েছে, যা তাঁর বর্তমান আয়ের প্রায় দ্বিগুণ।
বাজারের বাস্তবতা
ফেনারবাচে, বেশিকতাস কিংবা গ্যালাতাসারে বড় বেতন, গ্যালারি ভর্তি দর্শক এবং শিরোপার লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিতে পারে। তবে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের মতো জৌলুস সেখানে নেই। লুকাকু, ভ্লাহোভিচ এবং লিয়াওয়ের জন্য বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বেশ কঠিন। বড় লিগগুলোতে তাঁদের লড়াই করতে হবে নতুন ও তরুণ খেলোয়াড়দের সাথে। অথচ ইস্তাম্বুলে তাঁরা তারকা হিসেবেই রাজত্ব করবেন।
এক বছর আগে যাঁরা ছিলেন সিরি আ-র পোস্টার বয়, আজ তাঁদের সামনে বিকল্প কেবল দুটি: ইউরোপের অভিজাত লিগে নিজেকে ছোট করে রাখা, অথবা তুরস্কের মাটিতে নতুন করে নায়ক হয়ে ওঠা। বাস্তবতা হলো, এই মুহূর্তে তুরস্কের ক্লাবগুলোই তাঁদের গুরুত্ব দিচ্ছে, যা হয়তো তাঁদের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
