১৮ বছর বয়সেই গোলপোস্টের নিচে আস্থার প্রতীক ফ্লোরিয়ান হেলস্টার্ন
পেশাদার ফুটবলে নিজের প্রথম ম্যাচেই সতীর্থদের কাছ থেকে ‘বিশ্বমানের’ তকমা পাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। ১৮ বছর বয়সী গোলরক্ষক ফ্লোরিয়ান হেলস্টার্ন ঠিক সেটাই করে দেখিয়েছেন। স্পোর্টফেরাউন্ড গ্রেউথার ফার্থ ক্লাবের হয়ে মাঠে নেমে তিনি প্রমাণ করেছেন, কেন মৌসুমের শুরুতে অবনমনের ঝুঁকিতে থাকা এই ক্লাবে তাকে নিয়ে এত প্রত্যাশা ছিল।
দলের প্রধান আক্রমণভাগের খেলোয়াড় নোয়েল ফুটকিউ এবং ব্রানিমির হ্রগোটা ক্লাব ছেড়ে যাওয়ার পর নতুনদের দায়িত্ব নিতে হচ্ছিল। সেই জায়গা থেকেই ভিএফবি স্টুটগার্ট থেকে ধারে আনা হয় হেলস্টার্নকে। শুরুতে অনেকে এই সিদ্ধান্তটিকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করলেও, এই তরুণ গোলরক্ষক যদি ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারেন, তবে স্টুটগার্টে নিজের জায়গা ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে তিনি নতুন মাত্রা যোগ করতে পারবেন।
সেন্ট পাউলির বিপক্ষে ১-১ ড্র হওয়া ম্যাচে হেলস্টার্ন তার অসাধারণ প্রতিভার ঝলক দেখিয়েছেন। তাকে যে তার পরিচিতি অনুষ্ঠানে ‘জার্মানির সবচেয়ে রোমাঞ্চকর গোলরক্ষক প্রতিভা’ বলা হয়েছিল, তা যে অতিরঞ্জিত নয়, সেটি মাঠের পারফরম্যান্সেই স্পষ্ট।
ম্যাচ শেষে তরুণ এই জার্মান আন্তর্জাতিককে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন দলের অধিনায়ক ফ্লোরিয়ান ক্লাউস। বেয়ারিশার রুনফাউঙ্ককে তিনি বলেন, “এত কম বয়সী কাউকে এত শান্ত এবং আত্মবিশ্বাসী থাকতে খুব কমই দেখেছি। সে আমাদের দলের রক্ষণভাগে দারুণ নিরাপত্তা দিচ্ছে। ১৮ বছর বয়সে এমন পারফরম্যান্স সত্যিই অবিশ্বাস্য। যদিও কাউকে খুব বেশি প্রশংসা করা উচিত নয়, তবে আজকের ম্যাচটি ছিল অসাধারণ।”
কোচ হেইকো ফোগেলও তার শিষ্যকে নিয়ে বেশ আশাবাদী। তিনি বলেন, “ছেলেটি সত্যিই প্রতিভাবান। আমার কাজ হলো ওকে সঠিক পথে রাখা।”
ফার্থের হয়ে খেলাটা হেলস্টার্নের ক্যারিয়ারে টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। এর আগে জোনাস উরবিগ এবং নাহুয়েল নলের মতো গোলরক্ষকরা এই ক্লাবে খেলে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়েছেন। উরবিগ এখন বায়ার্ন মিউনিখে ম্যানুয়েল নয়ারের উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
এই উদাহরণগুলোই হয়তো ফার্থের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিতে হেলস্টার্নকে সাহায্য করেছে। তবে এখন সামনের সপ্তাহগুলোতে তাকে প্রমাণ করতে হবে যে, সেন্ট পাউলির বিপক্ষে পারফরম্যান্স কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। যদিও তার কোচ মনে করেন, হেলস্টার্নের ব্যক্তিত্ব এবং মানসিকতা তাকে সাফল্যের চূড়ায় নিয়ে যাবে।
নিজেও তার অভিষেকের সময় জানিয়েছিলেন, এই চ্যালেঞ্জ নিয়ে তিনি দারুণ রোমাঞ্চিত এবং উচ্চপর্যায়ে নিজেকে প্রমাণ করতে মুখিয়ে আছেন। ফার্থের এই সুযোগটি তাকে খেলোয়াড় হিসেবে আরও পরিণত করবে।
ভবিষ্যতে যদি হেলস্টার্ন তার বর্তমান ফর্ম ধরে রাখতে পারেন, তবে স্টুটগার্টের গোলরক্ষক সংকটে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হবে। বর্তমানে ইনজুরিতে থাকা ডেনিস সিমেন অক্টোবরের মাঝামাঝি নাগাদ ফিরতে পারেন। সব মিলিয়ে ভিএফবি স্টুটগার্টের হাতে এখন দুজন দারুণ প্রতিভাবান গোলরক্ষক রয়েছে, যা ক্লাবটির উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়।
