কমিউনিটি শিল্ডে ম্যানচেস্টার সিটির মুখোমুখি আর্সেনাল: ইনজুরি ও নতুন তারকার চমক নিয়ে অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা
নতুন ফুটবল মৌসুমের শুরুতেই বড় পরীক্ষার মুখে আর্সেনাল। রবিবার কার্ডিফের প্রিন্সিপালিটি স্টেডিয়ামে কমিউনিটি শিল্ডে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে মাঠে নামবে দলটি।
প্রথাগত এই উদ্বোধনী ম্যাচে দুই দলই তাদের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন খেলোয়াড়কে ছাড়াই মাঠে নামছে। গ্রীষ্মকালীন বিরতিতে শক্তিশালী এই দলগুলো কতটা প্রস্তুত হয়েছে, তা দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।
আর্সেনালের জন্য এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ রক্ষণভাগ। উইলিয়াম সালিবা পিঠের ইনজুরির কারণে দলের বাইরে আছেন। অন্যদিকে, ইউরিন টিম্বার কুঁচকির ইনজুরি থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। ফলে কোচ মিকেল আর্তেতাকে রক্ষণভাগে নতুন করে পরিকল্পনা সাজাতে হচ্ছে।

ধারণা করা হচ্ছে, ক্রিসথিয়ান মসকুয়েরা রক্ষণভাগের কেন্দ্রে গ্যাব্রিয়েলের সঙ্গী হবেন। এছাড়া রাইট-ব্যাক ও লেফট-ব্যাক অবস্থানে বেন হোয়াইট ও রিকার্ডো ক্যালাফিওরিকে দেখা যেতে পারে।
তবে দলের অন্য জায়গায় সুখবর রয়েছে। বুকায়ো সাকা, ডেক্লান রাইস এবং ডেভিড রায়া বিশ্বকাপ পরবর্তী বিরতি শেষে অনুশীলনে ফিরেছেন। এমনকি কোমো দলের বিপক্ষে ম্যাচে রায়াকে খেলতে দেখা গেছে, যা থেকে অনুমান করা হচ্ছে তিনিই কার্ডিফে শুরুর একাদশে থাকবেন। সাকা এবং রাইসও দলে যোগ দিয়েছেন, তবে প্রাক-মৌসুমের অনুশীলন মিস করায় তাদের শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনা কম। ম্যাচের শেষ ত্রিশ মিনিটে তাদের মাঠে দেখা যেতে পারে।

ব্রুনো গুইমারেসকে নিয়ে এবার সবার আগ্রহ তুঙ্গে। কোমো দলের বিপক্ষে খেলার পর এই ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে প্রথমবার শুরুর একাদশে জায়গা পেতে পারেন। ধারণা করা হচ্ছে, মাইলস লুইস-স্কেলি এবং মার্টিন ওডেগার্ডের সাথে মিডফিল্ড সামলাবেন তিনি।

ম্যানচেস্টার সিটিও তাদের অন্যতম প্রভাবশালী খেলোয়াড়কে ছাড়াই মাঠে নামছে। রদ্রি পিঠের অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। আর্লিং হালান্ড এবং এলিয়ট অ্যান্ডারসন বিশ্বকাপের পর সম্প্রতি অনুশীলনে ফিরেছেন, তাই তাদেরও বদলি হিসেবে শুরুর সম্ভাবনা বেশি। সিটির আক্রমণে ফিল ফোডেন, অ্যান্টোইন সেমেনিয়ো এবং ওমর মারমুশ মূল ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আর্সেনালের সম্ভাব্য শুরুর একাদশে গোলরক্ষক হিসেবে রায়া থাকবেন। রক্ষণে হোয়াইট, মসকুয়েরা, গ্যাব্রিয়েল এবং ক্যালাফিওরি। মিডফিল্ডে গুইমারেস, লুইস-স্কেলি ও ওডেগার্ড এবং আক্রমণে ম্যাক ডাউম্যান, ক্রিস্টোস জোলিস ও কাই হাভার্টজ থাকবেন।
সিটি শুরুর একাদশে জিয়ানলুইজি ডনারুম্মা, ম্যাথিউস নুনেস, রুবেন দিয়াস, জসকো গভারদিওল, রায়ান আইট-নৌরি, মাতেও কোভাচিচ, নিকো গঞ্জালেজ, সেমেনিয়ো, ফোডেন, জেরেমি ডোকু এবং মারমুশকে নিয়ে দল সাজাতে পারে।
আর্সেনালের রক্ষণভাগ বিশেষ করে ডানদিকে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে, যেখানে সালিবা ও টিম্বারের মতো খেলোয়াড়দের অভাব বোধ হতে পারে। সিটিও সেই দিকগুলো কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে। মিডফিল্ডের লড়াইও ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে। রদ্রির অনুপস্থিতিতে সিটি তাদের স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ হারাবে, অন্যদিকে গুইমারেস আর্সেনালের হয়ে নিজের যোগ্যতা প্রমাণের বড় সুযোগ পাবেন।

আর্সেনালের খেলার প্রশস্ততাও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ওডেগার্ডের সাথে হোয়াইট ও ডাউম্যানের সমন্বয় এবং বামপ্রান্তে জোলিস ও ক্যালাফিওরি সিটির রক্ষণভাগকে অস্থির করে তোলার পরিকল্পনা করছে। এছাড়া সেট পিসগুলোও বাড়তি গুরুত্ব পেতে পারে। কোনো দলই পূর্ণ শক্তির নয়, ফলে ম্যাচটি বেশ সমানে সমান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আর্সেনালের মিডফিল্ড কাগজে-কলমে শক্তিশালী মনে হলেও রক্ষণভাগের ইনজুরি তাদের কিছুটা দুর্বল করে দিয়েছে। অপরদিকে, রদ্রির অনুপস্থিতি ম্যানচেস্টার সিটির খেলার নিয়ন্ত্রণে বড় প্রভাব ফেলবে। ৯০ মিনিট শেষে ড্র হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, আর তা হলে ট্রাইব্রেকারে হবে কমিউনিটি শিল্ডের জয়ী নির্ধারণ।

