এসি মিলানে মেডিকেল পরীক্ষায় ব্যর্থতা নিয়ে কৃতজ্ঞ জঁ-ফিলিপ মাতেতা
এসি মিলানে মেডিকেল পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন জঁ-ফিলিপ মাতেতা। ক্রিস্টাল প্যালেসের পক্ষ থেকে তাকে যা জানানো হয়েছিল, তার চেয়ে হাঁটুর চোট অনেক বেশি গুরুতর ছিল বলে জানিয়েছেন এই স্ট্রাইকার। মিলানের চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “ভাগ্য ভালো যে তারা ঠিক কী সমস্যা ছিল তা খুঁজে বের করতে পেরেছিল।”
৩৫ মিলিয়ন ইউরোর এই চুক্তিটি সম্পন্ন হওয়ার পথে থাকলেও জানুয়ারিতে তা বাতিল হয়ে যায়। শুরুর দিকে এই ঘটনায় মাতেতা হতাশ ও বিমথিত ছিলেন। তবে বর্তমানে তিনি একে ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে দেখছেন এবং ইতালীয় ক্লাবের চিকিৎসকদের সতর্কতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
ফরাসি গণমাধ্যম ‘ক্যানাল প্লাস ফুট’-কে মাতেতা বলেন, “মেডিকেল পরীক্ষা চলাকালীন হঠাৎ সবকিছু বন্ধ হয়ে যায়। আমার হাঁটুর চোট আসলে আমার জানামতে তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর ছিল। সেই মুহূর্তে বিষয়টি জানার পর মাথায় অনেক কিছুই ঘুরছিল।”
তিনি আরও বলেন, “শেষ পর্যন্ত কোনো আক্ষেপ নেই। কারণ, সেই মেডিকেল পরীক্ষা না করালে আমি কতদিন এই হাঁটুর চোট নিয়ে পড়ে থাকতাম? ভাগ্য ভালো যে আমি পরীক্ষাটি করিয়েছিলাম এবং আমার আসল সমস্যাটি ধরা পড়েছে।”
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে মেইন্জ-এর হয়ে খেলার সময় মাতেতার ডান হাঁটুতে মিনিস্কাস ইনজুরি হয়েছিল। সেই সময় অস্ত্রোপচারের পর তাকে ছয় মাস মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল। মিলানের চিকিৎসকরা মনে করেছিলেন চোটটি বেশ গুরুতর এবং এর জন্য আরেকটি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। অন্যদিকে, ক্রিস্টাল প্যালেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, থেরাপি এবং লোড ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমেই এটি ঠিক হয়ে যাবে।
সেই সময় ক্রিস্টাল প্যালেসের তৎকালীন ম্যানেজার অলিভার গ্লাজনার বলেছিলেন, মাতেতার মেডিকেল পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়াটা তার কাছে খুব একটা আশ্চর্যজনক ছিল না। তিনি বলেছিলেন, “অবশ্যই, যদি আড়াই মাস ধরে ফোলা হাঁটু নিয়ে খেলতে হয় এবং তা সামলে চলতে হয়, তবে আমরা এবং সে—উভয়েই জানতাম যে তার হাঁটুতে সমস্যা আছে।”
যদিও শেষ পর্যন্ত মাতেতার অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়নি। তবে হাঁটু সুস্থ করার জন্য তাকে পাঁচ সপ্তাহের পূর্ণ বিশ্রাম ও চিকিৎসা নিতে হয়েছে, যার ফলে তিনি ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপে অংশ নিতে পেরেছেন।
