ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নতুন প্রতিযোগিতামূলক যুগের সূচনা
গত মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক ছিল। চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল এবং তলানির দল উলভসের মধ্যে পয়েন্টের ব্যবধান ছিল ৬৫, যা ৩৮ ম্যাচের মৌসুমে গড়ে ৬৩ পয়েন্টের কাছাকাছি। তবে লিগের পয়েন্ট টেবিলের মাঝামাঝি অবস্থানে একটি বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।
১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ ২০ দলের ফরম্যাটে আসার পর থেকে শীর্ষ চার এবং তলানির তিন দলের মধ্যে পয়েন্টের ব্যবধান ক্রমশ বাড়ছিল। বড় ক্লাবগুলো নিয়মিত ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ায় এবং উচ্চতর অবস্থানে থেকে বাড়তি অর্থ পাওয়ায় এই ব্যবধান তৈরি হয়েছিল। কিন্তু গত মৌসুমে লিগের শীর্ষ এবং নিম্নভাগের দলের মধ্যকার পয়েন্টের ব্যবধান ২০২৪-২৫ মৌসুমের ৪৪ থেকে কমে ২৬-এ নেমে এসেছে, যা গত ২৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নেওয়া এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে। অ্যাস্টন ভিলা আগের মৌসুমে সপ্তম হওয়ার চেয়ে এক পয়েন্ট কম পেয়েও দুই ধাপ এগিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের যোগ্যতা অর্জন করেছে। লিভারপুল পঞ্চম হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ‘বোনাস’ জায়গাটি পেলেও, তাদের ৬০ পয়েন্ট গত ১৯ বছরের মধ্যে পঞ্চম স্থানে থাকা কোনো দলের জন্য সর্বনিম্ন সংগ্রহ। ২০২৪-২৫ মৌসুমে এই পয়েন্ট তাদের নবম স্থানে রাখত। বোর্নমাউথ এবং সান্ডারল্যান্ড যথাক্রমে প্রথমবারের মতো এবং অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় পর ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নিয়েছে।
পয়েন্ট টেবিলে তলানির দিকে থাকা দলগুলোও গত কয়েক বছরের তুলনায় বেশি পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। এভারটন ১৩তম স্থানে থাকলেও এটি ছিল নতুন সহস্রাব্দের শুরুতে তাদের নিজেদের অর্জনের পর সর্বোচ্চ পয়েন্ট। তাদের নিচের চার দলের পয়েন্ট গত ২৩ বছরের মধ্যে প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ ছিল। এমনকি ওয়েস্ট হ্যাম ১৮তম স্থানে থেকে অবনমন নিশ্চিত করলেও, ২০১০-১১ মৌসুমের পর কোনো ১৮তম দলের এটিই ছিল সর্বোচ্চ পয়েন্ট সংগ্রহ। সামগ্রিকভাবে, গত মৌসুমে ২০টি দলের মধ্যে ১৩টি দল ৪০ থেকে ৬০ পয়েন্টের মধ্যে ছিল, যা ২০০৩-০৪ মৌসুমের পর সর্বোচ্চ।
২০২৫-২৬ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের এই তীব্র প্রতিযোগিতার কারণ কি ছোট দলগুলোর উন্নতি নাকি বড় দলগুলোর অবনতি? ব্রাইটন, ব্রেন্টফোর্ড এবং বোর্নমাউথের মতো ক্লাবগুলোর বিচক্ষণতা এবং বিদেশি খেলোয়াড়দের দলে টানার সক্ষমতা দেখে মনে হয় ছোট দলগুলোর মান বেড়েছে। তবে সান্ডারল্যান্ডের মতো নতুন উঠে আসা দলের ১৩টি দলকে পেছনে ফেলে এগিয়ে থাকা লিগের মান নিয়ে কিছুটা প্রশ্নও তোলে। গত মৌসুমে লিভারপুল, চেলসি, নিউক্যাসল এবং নটিংহ্যাম ফরেস্টের মতো শীর্ষ সাতের চারটি দল আগের মৌসুমের তুলনায় ৭৯ পয়েন্ট কম পেয়েছে।
সান্ডারল্যান্ড এবং লিডস প্রিমিয়ার লিগে জায়গা পাওয়ার পর নিজেদের দারুণভাবে মেলে ধরেছে। এর ফলে চলতি মৌসুমে বোর্নমাউথ, ব্রাইটন এবং সান্ডারল্যান্ড ইউরোপীয় আসরে খেলবে, যেখানে চেলসি, টটেনহ্যাম এবং নিউক্যাসলের কোনো ম্যাচ নেই। এখন দেখার বিষয়, ২০২৬-২৭ মৌসুমে সবকিছু আগের অবস্থানে ফিরে আসে কি না, নাকি আমরা প্রিমিয়ার লিগের এক নতুন প্রতিযোগিতামূলক যুগে প্রবেশ করছি।
প্রতিযোগিতার আড়ালে অবনমনের লড়াই
তবে প্রিমিয়ার লিগের একটি জায়গা আগের চেয়ে কম প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে, তা হলো পয়েন্ট টেবিলের একদম তলানি। এখন প্রায়ই দেখা যায়, মৌসুম শেষ হওয়ার অনেক আগেই দুটি দল লড়াই থেকে ছিটকে পড়ছে। ৩৮ ম্যাচের মৌসুমে ১৯তম অবস্থানে থাকা দলের গড় পয়েন্ট সাধারণত ৩১ হয়। অথচ গত এক দশকে ১৯তম স্থানে থাকা ১০টি দলের মধ্যে সাতটিই ৩০ পয়েন্টের নিচে শেষ করেছে। গত দুই মৌসুমে ইপসউইচ এবং বার্নলি মাত্র ২২ পয়েন্ট নিয়ে ১৯তম হয়েছে, যা এখন পর্যন্ত ১৯তম অবস্থানে থাকা কোনো দলের সর্বনিম্ন পয়েন্ট। বর্তমানে অবনমন লড়াই মূলত কারা শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে তা নিয়ে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে, কারণ অন্য দুটি দল আগেই তালিকা থেকে ছিটকে পড়ছে। সান্ডারল্যান্ড এবং লিডসের অনুপ্রেরণায় কভেন্ট্রি সিটি, ইপসউইচ টাউন এবং হাল সিটি এবার লিগের তীব্র প্রতিযোগিতার সাথে মানিয়ে নিতে প্রস্তুত।
