অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে হেরে আরও চাপের মুখে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড
অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে পরাজয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অস্থিরতা আরও বাড়ছে, যা কোচ মাইকেল ক্যারিকের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামলেও ম্যাচের ৪৭ সেকেন্ডের মাথায় গোল হজম এবং পরবর্তী সময়ে লেনি ইওরোর লাল কার্ড পুরো ম্যাচের চিত্র বদলে দেয়। শেষ পর্যন্ত পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইউনাইটেড।
গত সপ্তাহে টটেনহ্যামের সঙ্গে ড্র করার পর দলের পারফরম্যান্স নিয়ে যে হতাশা তৈরি হয়েছিল, এই ম্যাচে তা আরও ঘনীভূত হয়েছে। এই পরাজয় যেন মাইকেল ক্যারিকের বর্তমান পরিস্থিতির এক বাস্তব প্রতিফলন। যে মাঠে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে, সেখানেই ইউনাইটেড তাদের ভঙ্গুর অবস্থার পরিচয় দিল।
ম্যাচের শুরুতে রক্ষণভাগে সতর্ক থাকাটা খুব জরুরি ছিল, কিন্তু মাত্র ৫৩ সেকেন্ডের মাথায় পাবলো ব্যারিওস গোল করে অ্যাটলেটিকোকে এগিয়ে দেন। আলেক্স বায়েনার দ্রুতগতির আক্রমণে ইউনাইটেডের রক্ষণভাগের ফাঁকফোকর স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রথমার্ধে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও ব্রায়ান এমবিউমোর শট রুখে দেন জেন ওবলাক। ইউনাইটেড বেশ কিছু আক্রমণ তৈরি করলেও অ্যাটলেটিকোর রক্ষণভাগ তা সামলে নেয়। জনি কার্ডোসোর একটি গোল হ্যান্ডবলের কারণে বাতিল হওয়ায় যাত্রায় বেঁচে যায় সফরকারীরা।
দ্বিতীয়ার্ধেও ইউনাইটেড গোলের খোঁজে মরিয়া ছিল। ব্রুনো ফার্নান্দেসের একটি শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় এবং অন্যটি গোলপোস্টের ওপরের দিকে আঘাত করে। তবে ম্যাচের ৭৪তম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় ইউনাইটেড। জোনাথন ডেভিডকে ফাউল করায় ভিএআর দেখে রেফারি গ্লেন নাইবার্গ লেনি ইওরোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর ইউনাইটেডের ম্যাচে ফেরার আশা প্রায় শেষ হয়ে যায়। শেষ দিকে অ্যাডেমোলা লুকম্যান ক্লোজ রেঞ্জ থেকে গোল করে অ্যাটলেটিকোর জয় নিশ্চিত করেন।
ম্যাচটিতে ব্রায়ান এমবিউমো, কার্লোস বেলেবা এবং আইডেন হেভেনের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা থাকলেও দলীয় পরিকল্পনার অভাব স্পষ্ট ছিল। ক্যারিকের দলের রক্ষণভাগ এবং মাঠের বিন্যাস নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন উঠছে। খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত দক্ষতার ওপর অতি-নির্ভরশীলতা এবং প্রতিপক্ষের সহজ লং বল রুখতে ব্যর্থতা দলের দুর্বলতা প্রকাশ করেছে।
দলের রিক্রুটমেন্ট নীতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। নতুন খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্তি এবং স্কোয়াড পরিকল্পনা নিয়ে অসন্তোষ এখন প্রকাশ্যে। সব মিলিয়ে মৌসুমের প্রথম নয়টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুটি জয় পাওয়ায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অন্দরমহলে অস্বস্তি তুঙ্গে। এই পরিস্থিতির দায়ভার কার ওপর বর্তাবে, সেটিই এখন বড় আলোচনার বিষয়।
