দুর্দান্ত ফর্মে ফ্রাইবুর্গ: মৌসুমের শুরুটা অপরাজিত থাকার রহস্য জানালেন ডেরি শারহ্যান্ট
২০২৬/২৭ মৌসুমের শুরুটা দারুণভাবে কাটিয়েছে ফ্রাইবুর্গ। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এখন পর্যন্ত আটটি ম্যাচ খেলে সাতটিতে জয় এবং একটিতে ড্র করেছে দলটি। মৌসুমের এই দুর্দান্ত সূচনার বিষয়ে বুন্দেসলিগার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন ডেরি শারহ্যান্ট। একইসঙ্গে তিনি নিজের ক্যারিয়ারের বিকাশ এবং জার্মান জাতীয় দলে অভিষেকের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন।
শারহ্যান্ট বলেন, “আমি মনে করি না আমরা এর চেয়ে ভালো কিছু কল্পনা করতে পারতাম। আমাদের জন্য এটি সত্যিই একটি চমৎকার শুরু। দলের সবাই এখন একে অপরের সঙ্গে খুব ভালোভাবে কাজ করছে। মাঠের বাইরেও আমাদের সম্পর্কটা খুব গভীর। দলের প্রতিটি খেলোয়াড় জানে তাদের দায়িত্ব কী এবং মাঠে কী করতে হবে। আমরা এখন সেই প্রতিফলনই দেখতে পাচ্ছি। আমরা এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চেষ্টা করব।”
২০২৫ সালের জুলাই মাসে বার্লিন থেকে ফ্রাইবুর্গে পাড়ি জমান ২৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। নতুন শহরে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি যদি বলি এটি বড় কোনো পরিবর্তন ছিল না, তবে সেটি মিথ্যা বলা হবে। দুই শহরের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। তবে বার্লিনে থাকার সময়ও আমি বাইরের বিষয়ে খুব একটা মনোযোগ দিতাম না। আমি জানতাম আমার অগ্রাধিকারগুলো কী। তাই সবদিক থেকে এটি খুব বড় পরিবর্তন না হলেও পরিবেশটা অবশ্যই ভিন্ন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া যায়।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমি ফ্রাইবুর্গকে খুব পছন্দ করি এবং এখন এখানে নিজের ঘরের মতোই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি, যদিও বন্ধু ও পরিবার একটু দূরেই রয়েছে। তারা নিয়মিত আমার সঙ্গে দেখা করতে আসে। এছাড়া এখানে পুরো দলের পরিবেশ—ফিজিও থেকে শুরু করে ফিটনেস কোচ এবং নেপথ্যে থাকা কর্মীরা—সবাই খুব আন্তরিক। এই ঐক্যের বিষয়টিই আমাদের দলের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।”
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিরতিতে প্রথমবারের মতো জার্মানির জাতীয় দলে ডাক পান শারহ্যান্ট। নিজের এই সাফল্যের পেছনে ফ্রাইবুর্গের অবদান নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা জানি যে কাজের নৈতিকতা বা ওয়ার্ক মোরালিটি এখানে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি ম্যাচের আগে এবং প্রতিটি অ্যানালাইসিস সেশনে আমাদের শেখানো হয় যে, বলের বিপরীতে আমাদের শতভাগ উজাড় করে দিতে হবে। কঠোর পরিশ্রম করাটা ফ্রাইবুর্গের ডিএনএ-তে মিশে আছে।”
শারহ্যান্ট আরও বলেন, “অন্য সবকিছু পরে আসে। আমরা মাঠে সেটিই বাস্তবায়নের চেষ্টা করি। আমার মনে হয়, এই মানসিকতাই আমাদের পয়েন্ট টেবিলে বর্তমান অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। দলের প্রতিটি খেলোয়াড় যদি ভালো পারফর্ম না করত, তবে আমরা টেবিলের এত উপরে থাকতে পারতাম না। আর দলের সাফল্য ছাড়া কোনো খেলোয়াড়ের পক্ষে জাতীয় দলে জায়গা পাওয়াও কঠিন।”
উল্লেখ্য, উয়েফা কনফারেন্স লিগের প্রথম ম্যাচে আজ রাতে জাবলোনেকের মুখোমুখি হবে ফ্রাইবুর্গ। এরপর ১৮ অক্টোবর বায়ার লেভারকুসেনের মাঠে খেলতে যাবে দলটি।
