বার্সেলোনাকে হারিয়ে লা লিগার লড়াইয়ে ফিরল রিয়াল মাদ্রিদ
আবারও নিজের ম্যাজিক দেখালেন হোসে মরিনহো। রবিবার বার্সেলোনার মাঠে কিলিয়ান এমবাপ্পের শেষ মুহূর্তের গোলে জয় নিশ্চিত হওয়ার পর রিয়াল মাদ্রিদ কোচ মাঠেই নিজের পরিচিত কায়দায় হাঁটু গেড়ে স্লাইড দিয়ে উদযাপন করেন। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার বিপক্ষে নিজের সাফল্যের ধারা বজায় রাখলেন তিনি।
রিয়ালের কোচ হিসেবে টানা ছয়টি এল ক্লাসিকোয় অপরাজিত থাকার কৃতিত্ব অর্জন করলেন মরিনহো। ১৩ বছর আগে সর্বশেষ লস ব্লাঙ্কোসদের ডাগআউটে ছিলেন তিনি। এর আগে মিগেল মুনোজ (১৯৬২-৬৫) এবং ভিসেন্তে দেল বস্ক (২০০১-০৩) রিয়ালের কোচ হিসেবে বার্সেলোনার বিপক্ষে টানা ছয় ম্যাচে অপরাজিত থাকার গৌরব অর্জন করেছিলেন। বার্সার বিপক্ষে গত আট ম্যাচের মধ্যে এটি রিয়ালের মাত্র দ্বিতীয় জয়।
রিয়ালের ২-১ গোলের এই জয়ে বার্সেলোনার টানা নয় ম্যাচের অপরাজিত থাকার দৌড় থেমে গেল। গুরুত্বপূর্ণ এই জয়ে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলে লড়াই আরও জমে উঠল। বার্সেলোনা জিতে গেলে তারা নয় পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে যেত, কিন্তু এখন তারা রিয়ালের চেয়ে মাত্র তিন পয়েন্টের দূরত্বে আছে।
ম্যাচ শেষে মরিনহো বলেন, “আমার মতে, রিয়াল মাদ্রিদ শুধু কাম্প নউতে জেতার জন্য খেলে না, তারা লা লিগা জেতার লক্ষ্য নিয়েই খেলে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা ভাগ্যের জোরে জিততে পারতাম, কিন্তু আমরা জিতেছি স্থিরতা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে। এটা খুব শক্তিশালী একটি দল। সবাই কঠোর পরিশ্রম করে এবং জয়ের জন্য প্রস্তুত ছিল। জয়ের কৃতিত্বটা খেলোয়াড়দেরই প্রাপ্য।”
এই গ্রীষ্মে ১৩ বছর পর পুনরায় রিয়ালের দায়িত্ব নেওয়া পর্তুগিজ এই কোচ এখন পর্যন্ত মোট ছয়টি এল ক্লাসিকো জিতেছেন এবং ছয়টিতে হেরেছেন। মরিনহো বলেন, “আমি শিখেছি যে আমার কাছে অসাধারণ এক দল আছে, যাদের খেলার যোগ্যতা ও মানসিকতা দারুণ। মিডফিল্ডে বিভিন্ন ধরনের প্রতিভার সমন্বয় আমাদের রক্ষণ ও আক্রমণে ভারসাম্য এনে দেয়। আমরা অনেক দলকে চার বা তার বেশি গোল দিয়ে হারিয়েছি, কিন্তু এটি বার্সা, তাই খেলোয়াড়রা দুর্দান্ত পারফর্ম করেছে।”
এদিকে, বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক পরাজয়ের অজুহাত দিতে না চাইলেও জানিয়েছেন, ব্যস্ত সূচির কারণে তার দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সতেজতার অভাব ছিল। ফ্লিক বলেন, “আমাদের মধ্যে সতেজতা ছিল না। এটি খেলোয়াড়দের জন্য সহজ নয়। আমাদের ভালোভাবে সেরে উঠতে হবে, অনুশীলন করতে হবে এবং এই পরাজয়ের জবাব দিতে হবে। বড় ম্যাচে ছোট ছোট বিষয়গুলোই পার্থক্য গড়ে দেয়, যা আজ আমাদের পক্ষে ছিল না।”
