বার্সেলোনা ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া পেপ গার্দিওলার অবদানের কথা জানালেন পেদ্রো
বার্সেলোনার সাবেক ফরোয়ার্ড পেদ্রো রদ্রিগেজ তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন। ফুটবল মাঠে দীর্ঘ পথচলায় অজস্র শিরোপা জিতেছেন তিনি। এর মধ্যে স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের মতো বড় সাফল্যও রয়েছে। তবে পেদ্রো মনে করেন, তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড়টি এসেছিল পেপ গার্দিওলার হাত ধরে। বার্সেলোনার রিজার্ভ দলের অনিশ্চিত পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে গার্দিওলা তাকে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ করে দিয়েছিলেন।
স্পোর্ত-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেদ্রো বার্সেলোনায় তার শুরুর দিকের সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। তিনি ফ্রাঙ্ক রাইকার্ডের অধীনে মূল দলে নিজের অভিষেক এবং গার্দিওলার বিশেষ গুণাবলি নিয়েও আলোচনা করেন।
পেদ্রোর বার্সেলোনা যাত্রায় গার্দিওলার ভূমিকা
টেনারিফ থেকে বার্সেলোনায় আসার সময় পেদ্রোর মধ্যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকলেও ফুটবল ক্যারিয়ার কতদূর যাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। ২০০৬ সালে যখন গার্দিওলা তাকে বার্সেলোনা সি দলে পর্যবেক্ষণের সুযোগ পান, তখন তিনি ক্লাবের যুব কাঠামোর মধ্যে নিজের জায়গা পোক্ত করার চেষ্টা করছিলেন।
সেই সময়ের কথা স্মরণ করে পেদ্রো বলেন, “তখন আমি ছিলাম আজকের মতোই একজন তরুণ, যে কি না প্রবল উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে এই শহরে এসেছিল। আমি ফুটবল ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখছিলাম। কিন্তু আপনার প্রত্যাশা এবং বাস্তবে আপনি যা অর্জন করেন, তার মধ্যে অনেক সময় আকাশ-পাতাল পার্থক্য থাকে।”
সে সময় বার্সেলোনায় তরুণ প্রতিভার অভাব ছিল না। পেদ্রো বলেন, “আমি অনেক উৎসাহ নিয়ে এসেছিলাম। টেনারিফের একটি ছোট দল থেকে এসে সেস্ক ফ্যাব্রেগাস বা পিকে’র মতো খেলোয়াড়দের পাশে খেলাটা সহজ ছিল না। আমি ভাগ্যবান যে যুব পর্যায়ে দুর্দান্ত সব কোচ পেয়েছিলাম, যারা আমাকে মূল দলে সুযোগ করে দিয়েছিল।”
যখন বার্সেলোনা সি দল ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তখন খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। গার্দিওলা তখন পেদ্রোকে ডেকে পাঠান এবং তাকে কঠোর পরিশ্রম করার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। পেদ্রো জানান, “গার্দিওলা আমাকে ডেকে পরিষ্কার বলেছিলেন যে সুযোগ আছে, কিন্তু তা অর্জন করতে হবে। তিনি আমাকে বুঝিয়েছিলেন যে এটি আমার শেষ সুযোগ হতে পারে। আমি সেই সুযোগটি কাজে লাগানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।”
কেন গার্দিওলা অন্য সবার চেয়ে আলাদা?
পেদ্রো মনে করেন, সেই মৌসুমটি তার জীবন বদলে দিয়েছিল। তিনি বলেন, “আমি জানতাম অন্য খেলোয়াড়দের চেয়ে তিন গুণ পরিশ্রম করতে হবে। বার্সেলোনায় টিকে থাকতে হলে আমাকে শূন্য থেকে শুরু করতে হতো।”
অন্যান্য কোচের তুলনায় গার্দিওলা কেন আলাদা, সেই প্রশ্নে পেদ্রো বলেন, “গার্দিওলা তার নিখুঁত কাজের ধরন, খেলার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি এবং ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী তাৎক্ষণিক সমাধানের জন্য অন্যদের চেয়ে আলাদা। তিনি যখন দেখেন পরিস্থিতি কঠিন, তখন তিনি অসাধারণ সব সমাধান বের করেন। অ্যানচেলোত্তি বা ক্লপের মতো বিশ্বমানের কোচের সাথে কাজ করার সুযোগ হয়তো আমার হয়নি, কিন্তু গার্দিওলার এই বিশেষত্বের কারণে তিনি সবার চেয়ে আলাদা।”
নিজের মূল্যায়ন নিয়ে পেদ্রো বলেন, “অনেকে আমাকে অবমূল্যায়ন করেন বলে মনে করেন, কিন্তু আমি তা মনে করি না। ক্যারিয়ারের শুরুতে আমি বড় বড় দলের হয়ে খেলেছি। তবে হয়তো ব্যক্তিগত প্রচারণায় আমি খুব একটা আগ্রহী নই বলে সময়ের সাথে সাথে পাদপ্রদীপের আলো থেকে সরে গেছি।”
অভিষেক এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালের স্মৃতি
ফ্রাঙ্ক রাইকার্ডের অধীনে মূল দলে অভিষেকের স্মৃতি এখনো উজ্জ্বল পেদ্রোর মনে। ক্যাম্প ন্যুয়ের দর্শকরা তার নাম ধরে চিৎকার করছিল, যা ছিল তার কাছে অবিশ্বাস্য। তিনি বলেন, “রোনালদিনহো, ইতু, অঁরি বা মেসির মতো তারকাদের পাশে খেলব, এটা ছিল অকল্পনীয়। আমি কেবল সেই মুহূর্তটি উপভোগ করছিলাম।”
ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত কোনটি—এমন প্রশ্নে পেদ্রো জানান, “২০১১ সালে ওয়েম্বলিতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালটি আমার কাছে সবচেয়ে বিশেষ। আমি ম্যাচটি শুরু করেছিলাম, গোল করেছিলাম এবং শিরোপা জিতেছিলাম। এছাড়া সেক্সটেট (এক বছরে ছয় শিরোপা) জয়ের অভিজ্ঞতাও অনন্য। এটি অনেক পরিশ্রম ও উত্থান-পতনের এক দীর্ঘ পথচলা ছিল।”
