সমর্থক-মালিকানাধীন এফসি ইউনাইটেড: ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিকল্প এক ফুটবল দর্শন
এফসি ইউনাইটেড অফ ম্যানচেস্টারের স্ট্রাইকার অ্যাডাম লে ফন্ড্রে মঙ্গলবার দুপুরের খাবার সময়টা কাটিয়েছেন ক্লাবের একাডেমির খেলোয়াড়দের সঙ্গে। ব্রডহার্স্ট পার্ক স্টেডিয়ামের পাশে ৩জি পিচে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন তারা। ৪,৯০০ দর্শক ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়ামটি ক্লাবটির নিজস্ব মাঠ।
১২ জন কিশোরের এই দলটি হয়তো লে ফন্ড্রের মতো প্রিমিয়ার লিগে খেলার সুযোগ পাবে না, তবে নর্দার্ন প্রিমিয়ার লিগের এই ক্লাবটি তরুণদের জন্য পেশাদার ফুটবলের একটি পথ তৈরি করতে চায়। একই সঙ্গে ম্যানচেস্টার কলেজের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে তাদের পড়াশোনাও নিশ্চিত করছে ক্লাবটি।
৩৯ বছর বয়সী লে ফন্ড্রে পেশাদার ফুটবল জীবনে ৩০০-এর বেশি গোল করেছেন, যার মধ্যে ১৪টি গোল রয়েছে তার একমাত্র প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমে। এমন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের সঙ্গে অনুশীলন করার সুযোগ পাওয়াটা ইংল্যান্ডের নন-লিগ ক্লাবগুলোতে কমিউনিটি উদ্যোগের অংশ। এফসি ইউনাইটেডের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের জন্য এটি তাদের সমর্থিত ক্লাবটির চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জগত।
গ্লেজার পরিবার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কেনার পর ২১ বছর কেটে গেছে। একই সময় আগে একদল ভক্ত তাদের প্রতিবাদ থামিয়ে নিজস্ব সমর্থক-মালিকানাধীন ক্লাব গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। এই সপ্তাহান্তে মাইকেল ক্যারিক তার দলকে লিডসে নিয়ে যাচ্ছেন জয়ের সন্ধানে, অন্যদিকে এফসি ইউনাইটেড আলট্রিনচামে খেলবে এফএ কাপের চতুর্থ কোয়ালিফাইং রাউন্ডের ম্যাচ, যা থেকে তাদের ২৫ হাজার পাউন্ড আয় হতে পারে।
ক্লাবটির চেয়ারম্যান নিক বুম বলেন, “আমরা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ভালোবাসা বন্ধ করিনি। আমরা এফসি ইউনাইটেড শুরু করেছি কারণ আমরা ফুটবলকে ভালোবাসতাম। আমাদের শিকড় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডেই। গান, কৌতুক, ঐতিহ্য এবং যৌথ ইতিহাস এখনও এফসি ইউনাইটেডের মধ্যে রয়ে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “২১ বছর পর আমাদের নিজস্ব একটি পরিচয় তৈরি হয়েছে। উত্তর ম্যানচেস্টারে আমাদের একটি অবস্থান আছে। আমরা স্পষ্টভাবে একটি ম্যানচেস্টারের ক্লাব। ওল্ড ট্রাফোর্ডের টিকিট যাদের সাধ্যের বাইরে, তারা এখানে আসেন। আমরা মনে করি ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে পথ হারিয়েছে। ফুটবল এমন একটি জায়গা হওয়া উচিত যেখানে বন্ধু ও পরিবার নিয়ে একসাথে বসা যায়, কমিউনিটির অনুভূতি পাওয়া যায়। যেখানে সাধ্যের মধ্যে ভালো খাবার ও পানীয় পাওয়া যায়।”
‘সমর্থক-মালিকানা সহজ নয়’
এফসি ইউনাইটেড তাদের ১,৫২৮ জন সদস্যকে প্রতি মাসে বোর্ড মিটিংয়ের সারসংক্ষেপ পাঠায়। ব্রডহার্স্ট পার্কে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে, যা থেকে ক্লাবের প্রায় ৪,০০০ পাউন্ড সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া সমর্থকদের দান এবং ‘মাসের ৫ পাউন্ডে ক্লাবের মালিক হোন’ উদ্যোগের মাধ্যমে ক্লাবটি পরিচালিত হচ্ছে। তবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতোই এফসি ইউনাইটেডেরও বড় অঙ্কের ঋণ রয়েছে।
নিক বুম স্বীকার করেন, “সমর্থক-মালিকানা সহজ নয়। মাস শেষে ঘাটতি পূরণের জন্য কোনো বিলিয়নেয়ার নেই। আমরা নিজেদের মাঠ তৈরির চাপে অনেক বেশি খরচ করে ফেলেছিলাম, যা ঠিকমতো ব্যবস্থাপনা করা হয়নি। এখান থেকে আমরা কঠিন শিক্ষা পেয়েছি।”
বর্তমানে ক্লাবের আর্থিক অবস্থা সুসংহত করার চেষ্টা করছেন বুম। চলতি বছর এক লাখ পাউন্ডের বেশি মুনাফার পূর্বাভাস রয়েছে, যা আগের তুলনায় ৩,৫০,০০০ পাউন্ড উন্নতি। তবে ঋণের কিস্তি শোধ এবং মাঠের জরুরি কাজের জন্য প্রতি বছর দুই লাখ পাউন্ড উদ্বৃত্ত থাকা প্রয়োজন।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অবনতিতে হতাশা
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বুমের কণ্ঠে হতাশা স্পষ্ট। তিনি বলেন, “ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে যা ঘটেছে তা একটি ট্র্যাজেডি। বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে গ্লেজাররা ক্লাবটিকে একটি আর্থিক সম্পদ হিসেবে দেখছে। সমর্থক ও ক্লাবের সম্পর্ক তারা নষ্ট করে দিয়েছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “জিম র্যাটক্লিফ বা আইনিওএস মৌলিকভাবে ভিন্ন কোনো দর্শন নিয়ে এসেছেন বলে মনে হয় না। সংস্কৃতি এবং কমিউনিটিকে ভেঙে ফুটবল ক্লাব গড়ে তোলা সম্ভব নয়। দ্য ১৯৫৮ গ্রুপের সাথে আমাদের ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। যদিও আমাদের পথ আলাদা, কিন্তু আমরা সবাই বিশ্বাস করি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং এর সমর্থকরা আরও ভালো কিছু পাওয়ার যোগ্য।”
