রিয়াল মাদ্রিদের মাঝমাঠের নতুন কাণ্ডারি আরদা গুলের
সেভিয়ার বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে মাঝমাঠে নতুন ভূমিকায় দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন আরদা গুলের। কোচ হোসে মরিনহো সম্ভবত রিয়াল মাদ্রিদের মাঝমাঠের সমস্যার সমাধান খুঁজে পেয়েছেন এই তার্কিশ তারকার মধ্যে।
সেভিয়ার বিপক্ষে রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডে গুলেরকে শুরু থেকে মাঠে নামান পর্তুগিজ কোচ। ম্যাচটিতে ৪-১ গোলের বড় জয় তুলে নেয় ‘লস ব্লাঙ্কোস’। এটি ছিল চলতি মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের সেরা পারফরম্যান্স।
ডায়ারিও এএস-এর তথ্য অনুযায়ী, অরেলিয়েন চুয়ামেনির পাশাপাশি আরদা গুলের এখন দীর্ঘমেয়াদী বিকল্প হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছেন। কেন্দ্রীয় মিডফিল্ডে তার উপস্থিতি মাদ্রিদের আক্রমণভাগে নতুন গতি সঞ্চার করেছে।
মাদ্রিদের মাঝমাঠে গুলেরের প্রভাব
সেভিয়ার বিপক্ষে মরিনহো বেশ কিছু কৌশলগত পরিবর্তন এনেছিলেন। গুলেরকে চুয়ামেনির সঙ্গে মিডফিল্ডে খেলানোর পাশাপাশি ফেদেরিকো ভালভারদেকে রাইট-ব্যাক এবং ভিনিসিয়াস জুনিয়রের অনুপস্থিতিতে ইয়ান দিওমান্দেকে বাঁ-প্রান্তে খেলান তিনি।
তবে মিডফিল্ডে গুলেরের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচে ৬৫ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রাখে এবং ৬৬৬টি পাস সম্পন্ন করে। দুটি পরিসংখ্যানই চলতি মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের সর্বোচ্চ। এটি ম্যাচে দলের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার উন্নতির প্রমাণ দেয়।
প্রথমার্ধের খেলাতেও মরিনহোর দল বেশ আধিপত্য দেখিয়েছে। তারা ১.৪৫ এক্সপেক্টেড গোল (xG) তৈরি করার পাশাপাশি গোলমুখে পাঁচটি শট নিয়েছে।
ম্যাচে নিজের নামের পাশে গোলও যোগ করেছেন গুলের। একটি চমৎকার গোল করে দলকে এগিয়ে দেওয়ার পর ৭৭তম মিনিটে মাঠ ছাড়ার সময় বার্নাব্যুর দর্শকদের কাছ থেকে স্ট্যান্ডিং ওভেশন পান তিনি। তুরস্কের এই আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় ৬৪টি পাসের মধ্যে ৬০টিই সঠিকভাবে সম্পন্ন করেছেন। তার পাসিংয়ের নির্ভুলতা ছিল ৯৪ শতাংশ এবং তিনি পাঁচটি বল রিকভারি করেছেন।
এর আগে মরিনহো গুলেরের বহুমুখী প্রতিভার প্রশংসা করেছিলেন এবং জানিয়েছিলেন, এই তরুণ খেলোয়াড়ের উন্নতির অনেক জায়গা রয়েছে। রক্ষণাত্মক পজিশনে তাকে খেলানোর সিদ্ধান্তটি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে, যা ভবিষ্যতের ম্যাচগুলোর জন্য একটি টেমপ্লেট হতে পারে।
গড়ে উঠছে নতুন জুটি
চলতি মৌসুমে মাদ্রিদের মাঝমাঠ বেশ কয়েকবার সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। বিশেষ করে যখন ভালভারদে এবং চুয়ামেনিকে একসঙ্গে বল নিয়ন্ত্রণে রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দুজনেই দারুণ খেলোয়াড় হলেও, গুলের যে সৃজনশীলতা ও পাসিং রিদম উপহার দেন, তা তাদের দুজনের থেকে আলাদা।
এই তরুণ তার্কিশ তারকা চাপের মুখে বল রিসিভ করা, মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করা এবং ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারদর্শী। চুয়ামেনির পাশে খেলার কারণে তিনি রক্ষণাত্মক সুরক্ষা পান, যা তাকে বল এগিয়ে নেওয়ার কাজে মনোনিবেশ করতে সাহায্য করে।
যদিও একটি অসাধারণ পারফরম্যান্সই চূড়ান্ত সমাধান নয়, তবে ভবিষ্যতে গুলেরকে এই পজিশনে খেলানো যুক্তিযুক্ত। রক্ষণাত্মক মিডফিল্ড পজিশনে সফল হওয়ার জন্য গুলেরকে এখন নিজের রক্ষণাত্মক সচেতনতা আরও বাড়াতে হবে। এখন দেখার বিষয়, আগামী সপ্তাহে বার্সেলোনার বিপক্ষে ম্যাচেও মরিনহো তাকে মিডফিল্ডে খেলানোর মতো সাহসিকতা দেখান কি না।
