মাঠ ছেড়ে বিশ্বভ্রমণে পোলিশ তারকা গ্রজেগোরজ ক্রিকোউয়িয়াক
প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি) এবং সেভিয়ার সাবেক মিডফিল্ডার গ্রজেগোরজ ক্রিকোউয়িয়াক প্রমাণ করছেন যে, পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার পরের জীবনটিও বেশ ঘটনাবহুল হতে পারে। তবে তার অবসরের জীবন সাধারণ কোনো গলফ কোর্সে সীমাবদ্ধ নেই।
এই পোলিশ আন্তর্জাতিক ফুটবলার বিশ্বভ্রমণের এক দারুণ অভিযানে নেমেছেন। ফুটবল বুট জোড়া তুলে রেখে পিঠে ব্যাগ নিয়ে তিনি বিশ্বের প্রতিটি দেশে ভ্রমণের লক্ষ্য স্থির করেছেন।
উয়েফার ‘চ্যাম্পিয়ন্স জার্নাল’ ম্যাগাজিনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্রিকোউয়িয়াক বলেন, “কীভাবে শুরু হলো তা জানি না, তবে হয়তো ফুটবলের হাত ধরেই শুরু। ১২ বছর বয়সে আমি বাড়ি ছাড়ি, এরপর ফুটবলের টানেই বোর্দোতে যাই। তখন থেকেই নতুন জায়গা, নতুন মানুষ ও নতুন সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় ঘটে। এখন সুযোগ পেলেই আমি নতুন কোনো জায়গা দেখতে বেরিয়ে পড়ি।”
ক্রিকোউয়িয়াক একসময় ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার হিসেবে বিবেচিত হতেন। মহাদেশের বড় বড় ক্লাবে তিনি নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় ছিলেন। তার পেশাদার ক্যারিয়ার তাকে স্পেনের লা লিগা এবং ফ্রান্সের লিগ ওয়ানে শীর্ষস্থানে নিয়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে কোচ উনাই এমেরির অধীনে সেভিয়ায় তার সময়টি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Advertisement
Advertisement
আন্দালুসিয়ায় থাকাকালীন এই পোলিশ মিডফিল্ডার টানা দুইবার ইউরোপা লিগ শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এই সাফল্য তাকে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অবদান রাখার মতো একজন খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। স্পেনে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে তিনি প্যারিস সেন্ট জার্মেইনে নাম লেখান। পরবর্তী সময়ে তিনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল ওয়েস্ট ব্রমউইচ অ্যালবিয়ন এবং রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের ক্লাবেও খেলেছেন।
এছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে পোলিশ জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য ছিলেন ক্রিকোউয়িয়াক। গত বছরের অক্টোবরে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের আগে তিনি ১০০টি ম্যাচ খেলেছেন।
পার্ক দে প্রিন্সেস থেকে পাকিস্তান
ক্রিকোউয়িয়াকের ভ্রমণ পরিকল্পনাটি এখন বিশাল আকার নিয়েছে। অনেক সাবেক অ্যাথলেট যেখানে অবসরের পর দুবাই বা মালদ্বীপের মতো বিলাসবহুল রিসোর্ট বেছে নেন, সেখানে এই পোলিশ তারকা তার রোমাঞ্চকর ভ্রমণের মুহূর্তগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরছেন।
সম্প্রতি তিনি এমন কিছু দেশের ভ্রমণের ছবি শেয়ার করেছেন, যেখানে সাধারণত চ্যাম্পিয়ন্স লিগ তারকাদের দেখা মেলা কঠিন। এর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান, সিরিয়া ও জর্ডান।
Advertisement
Advertisement
সাবেক এই মিডফিল্ডারের হিসাব অনুযায়ী, তিনি ইতোমধ্যে ১৪০টি দেশ ভ্রমণ করেছেন। পৃথিবীতে মোট ১৯৬টি সার্বভৌম রাষ্ট্র রয়েছে বলে ধরা হয়, তাই ৩৬ বছর বয়সী এই তারকার ব্যক্তিগত লক্ষ্য অর্জনে আরও ৫৬টি দেশ ভ্রমণ বাকি রয়েছে।
তার পোস্ট করা ছবিগুলো সাধারণত ইনফ্লুয়েন্সারদের সাজানো ছবির মতো নয়। বরং এগুলো তার ভ্রমণের অকৃত্রিম ও বাস্তব দৃশ্যপট তুলে ধরে। সিরিয়ার মরুভূমিতে একটি সাধারণ প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে থাকা কিংবা পাকিস্তানের ব্যস্ত রাস্তায় রিকশায় চড়ার মতো ছবিগুলো দেখে মনে হয়, তিনি পর্যটকদের পরিচিত পথের বাইরে চ্যালেঞ্জ নিতে বেশ উপভোগ করছেন।
ফিরোজা সমুদ্র সৈকত ও প্রাচীন নিদর্শন
ভ্রমণের গন্তব্যগুলোই বলে দিচ্ছে যে, ক্রিকোউয়িয়াক পৃথিবীর বৈচিত্র্যময় রূপ দেখতে চান। তার ফলোয়াররা ইয়েমেনের সোকোত্রা দ্বীপের পাহাড় থেকে তার স্বচ্ছ ফিরোজা রঙের সমুদ্রের দৃশ্য দেখার সুযোগ পেয়েছেন। সোকোত্রা দ্বীপটি পৃথিবীর অন্যতম রহস্যময় জায়গা হিসেবে পরিচিত।
কয়েক সপ্তাহ আগে তিনি সোমালিয়ায় ভ্রমণের বেশকিছু চমৎকার ছবি পোস্ট করেছেন। সাবেক পেশাদার ফুটবলারদের জন্য সচরাচর দুর্গম এসব অঞ্চলে তিনি নিয়মিত যাচ্ছেন। তার এই ভ্রমণ অ্যাডভেঞ্চারগুলো দেখে মনে হয় তার ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলটি যেন একটি জীবন্ত বিশ্বকোষ।
Advertisement
Advertisement
অনেকের কাছেই পেশাদার ক্রীড়া জীবন থেকে ভ্রমণের অনিশ্চিত চ্যালেঞ্জে মানিয়ে নেওয়া কঠিন মনে হলেও, ক্রিকোউয়িয়াক এই নতুন যাত্রায় নিজের দারুণ এক শখ খুঁজে পেয়েছেন।
