উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোমো’র কাছে বিধ্বস্ত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জন্য সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছে না। এক ধাপ উন্নতির আশা জাগিয়েও ইউরোপিয়ান ফুটবলে ফের বড় ধাক্কা খেল দলটি। মাইকেল ক্যারিকের অধীনে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বর্তমান পারফরম্যান্স দেখে অনেকের মনেই ওলে গানার সোলশারের সময়ের কথা মনে পড়ছে।
লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে ড্রয়ের পর কিছুটা আশার আলো দেখা গেলেও, ইতালির মাঠে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে সেই দশা আর থাকল না। কোমো’র কাছে ৪-১ গোলে হেরে মাঠ ছাড়তে হয়েছে রেড ডেভিলদের। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো দাপট বজায় রেখে খেলেছে কোমো।
ম্যাচে ম্যাথিস ডি লিট ফিরে এলেও হ্যারি ম্যাগুয়ারের সাথে তার জুটি রক্ষণভাগে তেমন কোনো দৃঢ়তা দেখাতে পারেনি। সেস ফ্যাব্রেগাসের শিষ্যরা মিডফিল্ডে ইউনাইটেডকে বারবার অসহায় করে তুলেছে। আন্দ্রে সান্তোসের হলুদ কার্ড দেখার পর কার্লোস বালেবা বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নামলেও বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারেননি। পুরো ম্যাচে ব্রুনো ফার্নান্দেসকেও খুব একটা খুঁজে পাওয়া যায়নি।
লিগ কাপে ব্রাইটনের কাছে হেরে আগেই এক প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে গেছে ইউনাইটেড। এখন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বে তাদের সংগ্রহ তিন ম্যাচে মাত্র এক জয় ও দুই হার। বর্তমান ফর্ম অনুযায়ী মৌসুমের বাকি সময় যে খুব একটা ভালো যাবে, এমন কোনো ইঙ্গিতও মিলছে না।
মাইকেল ক্যারিকের অধীনে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মৌসুমের শুরুটা হয়েছে বেশ হতাশাজনক। ইপসউইচ টাউন ও সাবাহ এফকে-র বিপক্ষে জয় ছাড়া প্রিমিয়ার লিগে এখন পর্যন্ত কোনো অ্যাওয়ে ম্যাচে জয় পায়নি দলটি। আটলেতিকো মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার সিটি ও ব্রাইটনের মতো দলের কাছে হারের পাশাপাশি নতুন দল হাল সিটির কাছেও হেরেছে তারা। প্রিমিয়ার লিগে এখন পর্যন্ত ১৩তম অবস্থানে রয়েছে ইউনাইটেড, অথচ চেলসি, লিভারপুল ও আর্সেনালের মতো শক্ত প্রতিপক্ষের সাথে তাদের এখনো দেখাই হয়নি।
এখন প্রশ্ন উঠছে, দলের এই সংকটময় মুহূর্তে মুক্তির পথ কোথায়? ডি লিট বা বালেবার মতো খেলোয়াড়রা ফর্মে ফিরলে হয়তো পরিস্থিতি কিছুটা বদলাতে পারে। এছাড়া বেঞ্জামিন সেস্কোকেও নিয়মিত একাদশে সেভাবে সুযোগ দিচ্ছেন না কারিক। ব্রুনো ফার্নান্দেসও নিজের সেরা ছন্দে নেই; পর্তুগালের জার্সি গায়ে ভালো খেললেও ক্লাবের হয়ে ইপসউইচের বিপক্ষে ম্যাচটি বাদে খুব একটা অবদান রাখতে পারেননি। ইউরি টিলেম্যানসও যেন সঠিক পজিশন খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছেন।
ইউরোপের অ্যাওয়ে ম্যাচে আটলেতিকো ও কোমো—উভয় দলের বিপক্ষেই গোল করতে ব্যর্থ হয়েছে ইউনাইটেড। আক্রমণভাগে ব্রায়ান এমবেউমো ছাড়া আর কেউই তেমন প্রভাব ফেলতে পারছেন না। রক্ষণভাগে ১১ ম্যাচে ১৫টি গোল হজম করার পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে দল কতটা নাজুক অবস্থায় আছে। হ্যারি ম্যাগুয়ার ব্যক্তিগত দ্বৈরথে ভালো করলেও পুরো ডিফেন্স সামলাতে তাকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, মাইকেল ক্যারিক বর্তমানে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। তিনি হয়তো খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত করতে পারেন, কিন্তু ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো কৌশলগত বিচক্ষণতা তার আছে কি না, তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন উঠেছে। ওলে গানার সোলশার কিংবা মাইকেল ক্যারিক—দলের বর্তমান পরিস্থিতি ফুটবলপ্রেমীদের কাছে যেন একই রকম অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি মনে হচ্ছে।
