এল ক্লাসিকোর জন্য বিশেষ ছক কষছেন হোসে মরিনহো
২০২৬/২৭ মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোর জন্য বার্সেলোনার রক্ষণভাগের দুর্বলতাকে কাজে লাগাতে বিশেষ কৌশল তৈরি করছেন রিয়াল মাদ্রিদ কোচ হোসে মরিনহো। রিয়াল মাদ্রিদ যখন স্পোটিফাই ক্যাম্প ন্যু সফরে যাবে, তখন এই কৌশলটি প্রয়োগের পরিকল্পনা করছেন তিনি।
‘ডিফেন্সা সেন্ট্রাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াল মাদ্রিদ ম্যানেজারের বিশ্বাস, বার্সেলোনার গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের রক্ষণাত্মক কাজে ব্যস্ত রাখতে পারলে তাদের আক্রমণের গতি কমে যাবে। এর ফলে ম্যাচের শেষ দিকে হান্সি ফ্লিকের দল কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। মরিনহো মূলত লামিনে ইয়ামাল, অ্যান্থনি গর্ডন, পেদ্রি এবং রদ্রিকে বিশেষভাবে নজরে রাখছেন। তার মূল পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে বলের দখল নেওয়া, দ্রুত আক্রমণভাগে বল পাঠানো এবং বার্সেলোনার উঁচু রক্ষণভাগের পেছনের খালি জায়গাগুলোকে কাজে লাগানো।
বার্সেলোনার রক্ষণভাগের ওপর চাপ বাড়াতে চান মরিনহো
মরিনহো শুধু রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে পাল্টা আক্রমণের আশায় বসে থাকতে চান না। তার মতে, রিয়াল মাদ্রিদ বার্সেলোনার আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের বারবার রক্ষণভাগে নেমে আসতে বাধ্য করে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, টানা রক্ষণাত্মক কাজ করলে খেলোয়াড়রা ক্লান্ত হয়ে পড়বে, যার ফলে বল ফিরে পাওয়ার পর আক্রমণ তৈরির সময় তাদের নিখুঁত পারফরম্যান্সে ঘাটতি দেখা দেবে।
লামিনে ইয়ামাল ও গর্ডন দলের আক্রমণভাগে প্রশস্ততা ও ঝুঁকি তৈরি করেন, অন্যদিকে পেদ্রি ও রদ্রি বার্সেলোনার বলের দখল রাখা ও খেলা এগিয়ে নেওয়ার মূল কারিগর। রিয়াল মাদ্রিদ যদি এই খেলোয়াড়দের দীর্ঘ সময় ধরে রক্ষণাত্মক কাজে ব্যস্ত রাখতে পারে, তবে সেটি হান্সি ফ্লিকের দলের সুশৃঙ্খল ছক ভেঙে দিতে পারে।
চ্যাম্পিয়নস লিগের পারফরম্যান্স বার্সেলোনার জন্য সতর্কবার্তা
‘ডিফেন্সা সেন্ট্রাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মরিনহো বার্সেলোনার সাম্প্রতিক চ্যাম্পিয়নস লিগের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করেছেন, বিশেষ করে পিএসজির বিপক্ষে তাদের খেলা। এর মাধ্যমে তিনি বার্সেলোনার রক্ষণাত্মক দুর্বলতার দিকগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছেন। তার মূল লক্ষ্য সেই মুহূর্তগুলো, যখন খেলোয়াড়দের ক্লান্তি ভর করে এবং রক্ষণভাগের সংহতি আলগা হয়ে যায়।
বার্সেলোনার উচ্চ রক্ষণভাগ তাদের প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে ও নিজেদের অর্ধে খেলা ধরে রাখতে সাহায্য করলেও, এটি দ্রুতগতির দৌড়ের জন্য প্রতিপক্ষকে জায়গা করে দেয়। রিয়াল মাদ্রিদের দলে এমন খেলোয়াড় রয়েছেন যারা এই শূন্যস্থান কাজে লাগাতে সক্ষম। এই ক্ষেত্রে ইয়ান দিওমান্দে ও কিলিয়ান এমবাপ্পের গতি ও বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিবেদনটি। বার্সেলোনা যদি আক্রমণ সাজাতে গিয়ে বল হারিয়ে ফেলে, তবে ম্যাচের শেষ দিকে এই খেলোয়াড়দের গতি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
রিয়াল মাদ্রিদের কৌশলে থ্রু বলের গুরুত্ব
মরিনহোর এই পরিকল্পনার মূল ভিত্তি হলো বল জেতা এবং দক্ষতার সাথে তা দ্রুত সামনে এগিয়ে নেওয়া। তিনি থ্রু বলের মাধ্যমে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের বার্সেলোনার রক্ষণভাগের পেছনের ফাঁকা জায়গায় পৌঁছে দিতে চান। উদ্দেশ্যহীন লম্বা পাসের পরিবর্তে রিয়াল মাদ্রিদ দ্রুত বল এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছে। মরিনহোর এই দৃষ্টিভঙ্গি বার্সেলোনার চিরচেনা কৌশলগত সংকটের ওপর আলোকপাত করে—বার্সেলোনার উচ্চ রক্ষণভাগ তাদের আধিপত্য বাড়াতে সাহায্য করলেও, বল হারানোর পর সঠিক পজিশনে থাকতে ব্যর্থ হলে এই শক্তিই তাদের বড় দুর্বলতায় পরিণত হয়।
