লিভারপুলের গোলরক্ষক নির্বাচন নিয়ে নতুন কোচ আন্তোনি ইরাওলার চ্যালেঞ্জ
লিভারপুলের নতুন কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজের প্রথম মৌসুমের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হচ্ছেন আন্তোনি ইরাওলা। আর্ন স্লটের বিদায়ের পর স্কোয়াডে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যাতে গত মৌসুমের মতো হতাশাজনক পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
লিভারপুলের আক্রমণভাগে নতুন খেলোয়াড় যোগ করার বিষয়ে আলোচনা বেশি হলেও, দলের অন্যান্য অবস্থানেও নজর দেওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। নতুন কোচের প্রথম মৌসুমের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক কে হবেন, তা নির্ধারণ করা।
স্প্যানিশ কোচ আন্তোনি ইরাওলাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তিনি কি অ্যালিসন বেকারকে দলের মূল গোলরক্ষক হিসেবে রাখবেন, নাকি গিওর্গি মামারদাশভিলিকে গোলবারের নিচে দায়িত্ব দেবেন। ব্রাজিলিয়ান এই তারকা এখনো বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক হিসেবে বিবেচিত হলেও, তার চোটের ইতিহাস চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমে তিনি ১২টি ম্যাচে খেলতে পারেননি। ২০১৮ সালে ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর থেকে ৩৩ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক লিভারপুলের সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছেন এবং সুস্থ থাকাকালীন নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছেন।
তবে গত মৌসুমে তার পারফরম্যান্সে কিছুটা ভাটা পড়েছে। মাত্র ৮টি ম্যাচে তিনি গোল হজম করেননি (ক্লিন শিট) এবং মোট ৩১টি গোল খেয়েছেন। অর্থাৎ, তিনি মাত্র ৩১ শতাংশ ম্যাচে ক্লিন শিট রাখতে পেরেছেন, যেখানে ২০১৮-১৯ মৌসুমে এই হার ছিল ৫৫ শতাংশ। এছাড়া প্রতি ৯০ মিনিটে তার গোল হজম করার হার ছিল ১.১৯, যা তার প্রথম মৌসুমের ০.৫৮ হারের তুলনায় অনেক বেশি। যদিও লিভারপুলের রক্ষণভাগের দুর্বলতা এর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে, তবুও অ্যালিসনের চোটের রেকর্ড ইরাওলাকে তার বিকল্প গোলরক্ষকের ওপর নির্ভরশীল করে তুলতে পারে।
প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক হিসেবে মামারদাশভিলি
২০২৪ সালের গ্রীষ্মে ২৯ মিলিয়ন পাউন্ড দিয়ে জর্জিয়ার এই আন্তর্জাতিক গোলরক্ষককে দলে ভেড়ানোর মাধ্যমে লিভারপুল ভবিষ্যতের জন্য তাকেই মূল গোলরক্ষক হিসেবে গড়ে তোলার ইঙ্গিত দিয়েছিল। তবে ২৫/২৬ মৌসুমে সব ধরনের প্রতিযোগিতায় ১৯টি ম্যাচ খেললেও, তিনি এখনো নিজেকে পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি।
গত প্রিমিয়ার লিগে ১০টি ম্যাচে অংশ নিয়ে তিনি ১৮টি গোল হজম করেছেন এবং মাত্র দুটি ম্যাচে ক্লিন শিট রাখতে পেরেছেন। এসব পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, তার পারফরম্যান্স এখনো শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। বল ডিস্ট্রিবিউশন এবং মাঝেমধ্যে ভুল করার জন্য তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তবে প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক হিসেবে খেলার সুযোগ পেলে তিনি নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে পারেন এবং পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারেন। কারণ, বিকল্প গোলরক্ষক হিসেবে দীর্ঘসময় বেঞ্চে থাকা তার উন্নতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
