পেনাল্টি নিয়ে কি ভাবছেন লিওনেল মেসি? বিতর্কের মুখে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক
২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল যত সামনের দিকে এগোচ্ছে, লিওনেল মেসি ততই নিজেকে ইতিহাসের সেরা ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছেন। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে নকআউট পর্বে পৌঁছে দিতে আবারও সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলটির অধিনায়ক।
মিশরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে এক গোল এবং এক অ্যাসিস্ট করে মেসি আবারও নিজের জাত চিনিয়েছেন। ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনাকে অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচে ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। এর মাধ্যমে নতুন কিছু রেকর্ডের মালিকও হয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে গোল এবং অ্যাসিস্ট করা সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় এখন তিনি। এছাড়া বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে পাঁচটি আলাদা ম্যাচে গোল এবং অ্যাসিস্টের কীর্তি গড়েছেন এই তারকা। একই সঙ্গে নয়টি অ্যাসিস্ট নিয়ে বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরা অ্যাসিস্টদাতার তালিকায় ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।
তবে এই উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের মাঝেও একটি অস্বস্তিকর রেকর্ড গড়েছেন মেসি। পেনাল্টি স্পট থেকে গোল করতে ব্যর্থ হওয়ায় এখন প্রশ্ন উঠছে, আর্জেন্টিনার পেনাল্টি নেওয়ার দায়িত্ব কি তার থেকে সরিয়ে দেওয়া উচিত? দীর্ঘ দুই দশকের ক্যারিয়ারে মেসি ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। গোল করার প্রায় সব কৌশলই তার নখদর্পণে। কিন্তু ১২ গজের দূরত্ব থেকে পেনাল্টি নেওয়ার ক্ষেত্রে পরিসংখ্যান তার পক্ষে কথা বলছে না।
পেনাল্টি নিয়ে মেসির দুর্বলতা
মিশরের বিপক্ষে ম্যাচে ১-০ গোলে এগিয়ে থাকা অবস্থায় পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। তবে মেসির শটটি ছিল লক্ষ্যহীন ও দুর্বল। গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর সহজেই সেই শট ঠেকিয়ে দেন। যদিও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে জয়লাভ করে, তবুও পেনাল্টি মিসের বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এবারের বিশ্বকাপে এটি মেসির দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস। এর আগে গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক আসরে দুইবার পেনাল্টি মিস করার নজির আগে আর কারো নেই।
নিজের পেনাল্টি মিসের দায় স্বীকার করে ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত মেসি বলেন, “আমি কেঁদেছিলাম কারণ পেনাল্টি মিস করায় মনে হয়েছিল দলের সতীর্থদের হতাশ করেছি।”
পেনাল্টির পরিসংখ্যান কী বলছে?
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বার্সেলোনা, পিএসজি, ইন্টার মায়ামি এবং আর্জেন্টিনার হয়ে মোট ১৫১টি পেনাল্টির মধ্যে মেসি গোল করেছেন ১১৭টিতে, অর্থাৎ ব্যর্থ হয়েছেন ৩৪ বার। শুধু পেনাল্টি শ্যুটআউট বাদ দিলে, ১৪৮টি প্রচেষ্টার মধ্যে ১১৪টিতে গোল করেছেন তিনি, যার সাফল্যের হার ৭৭ শতাংশ। হ্যারি কেন (৯০.৭%), ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (৮৫.২%) বা কিলিয়ান এমবাপ্পের (৮১.০%) তুলনায় এটি বেশ কম।
মেসির এমন পারফরম্যান্সের পেছনে একটি কারণ হতে পারে তার খেলার ধরন। তিনি সাধারণত গোলরক্ষকের নড়াচড়া লক্ষ করে শট নেন। গোলরক্ষক যদি আগেভাগে কোনো দিকে না ঝোঁকেন, তবে শট নেওয়ার সময় সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন তিনি।
স্ক্যালোনি কি সিদ্ধান্ত বদলাবেন?
আর্জেন্টিনার বর্তমান স্কোয়াডে লিয়ান্দ্রো পারেদেস, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ এবং জুলিয়ান আলভারেজের মতো দক্ষ পেনাল্টি শুটার রয়েছেন। পারেদেসের পেনাল্টি থেকে সাফল্যের হার প্রায় ৯২.৯ শতাংশ। কিন্তু মেসির মতো কিংবদন্তিকে পেনাল্টি নিতে মানা করা বেশ কঠিন কাজ।
আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি অবশ্য এ বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “লিও যখন চাইবে, সে নিজেই পেনাল্টি নেবে। আমাদের দলে অন্যরাও দক্ষ, কিন্তু ও চাইলে পেনাল্টি নেবেই।”
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টিকে থাকতে হলে আর্জেন্টিনার জন্য প্রতিটি সুযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা তিনটি পেনাল্টি পেয়েছে। সামনের ম্যাচগুলোতে ব্যবধান আরও কমে আসবে। তাই মেসির অমরত্বের জায়গাটিতে কোনো সংশয় না থাকলেও, পেনাল্টি নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে এখন নতুন করে আলোচনার সময় এসেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
