২০৩০ বিশ্বকাপ ৬৪ দলে সম্প্রসারণের সম্ভাবনা যাচাই করছে ফিফা
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, ২০৩০ বিশ্বকাপ থেকে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বাড়িয়ে ৬৪ করার বিষয়টি খতিয়ে দেখবে সংস্থাটি। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের ক্রীড়া শাখা ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এ এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে ৪৮ দলের ফরম্যাটে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৯৯৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ৩২ দলের যে টুর্নামেন্ট চলত, এটি তার চেয়ে বড় সংস্করণ। ২০৩০ সালের আসরটি তিনটি মহাদেশের ছয়টি দেশে অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে মরক্কো, পর্তুগাল ও স্পেন অধিকাংশ ম্যাচ আয়োজন করবে। এছাড়া ১৯৩০ বিশ্বকাপের শতবর্ষ উপলক্ষে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে একটি করে উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজন করবে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ আমেরিকান নেতাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাওয়ার পর এই আলোচনা গতি পায়। সুইস সংবাদমাধ্যম ব্লুউইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো নিশ্চিত করেন যে, বর্তমান বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরপরই এই বিষয়ে আলোচনা শুরু হবে।
ফিফা সভাপতি বলেন, “বর্তমান বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর প্রাসঙ্গিক কমিটিগুলোতে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। প্রতিটি দেশেরই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের স্বপ্ন দেখার অধিকার রয়েছে। বিশ্বজুড়ে দলগুলোর খেলার মান অনেক উন্নত হয়েছে। ছোট দেশগুলোকে সুযোগ না দিলে তারা উন্নতির অনুপ্রেরণা পাবে না।”
ইনফান্তিনো বর্তমান ৪৮ দলের ফরম্যাটকেও শতভাগ সফল বলে অভিহিত করেছেন। ঘানার কোচ কার্লোস কুইরোজসহ অনেকে এই সম্প্রসারণের সমালোচনা করে বলেছিলেন যে, এতে বাছাইপর্বের গুরুত্ব কমেছে এবং টুর্নামেন্টটি তার আকর্ষণ হারিয়েছে। তবে ইনফান্তিনো এই সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন।
কাদের সমর্থন রয়েছে?
২০২৫ সালের মার্চ মাসে ফিফা কাউন্সিলের এক বৈঠকে উরুগুয়ের কর্মকর্তা ইগনাসিও আলোনসো এই ধারণার কথা প্রথম তুলে ধরেন। পরবর্তীতে নভেম্বরে কনমেবল সভাপতি আলেসান্দ্রো দোমিঙ্গেজ ৬৪ দলের টুর্নামেন্টকে তার ‘স্বপ্ন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তার মতে, এমন সম্প্রসারণ বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করবে।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, একটি মহাদেশ প্রতি তিন আসরের মধ্যে একবারই বিশ্বকাপ আয়োজন করতে পারে। ২০৩০ সালে ম্যাচ আয়োজনের ফলে দক্ষিণ আমেরিকা ২০৪২ সালের আগে আর মূল আয়োজক হতে পারবে না। তবে টুর্নামেন্ট ৬৪ দলের হলে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে কেবল একটি করে ম্যাচ নয়, বরং প্রতিটি দেশ একটি করে পূর্ণাঙ্গ গ্রুপের ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ পেতে পারে।
কারা বিরোধিতা করছেন?
৬৪ দলের বিশ্বকাপ মানে ফিফার ২১০টি সদস্য দেশের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি দলের অংশগ্রহণ। এতে আঞ্চলিক বাছাইপর্বের গুরুত্ব হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার কর্মকর্তারা এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
উয়েফা সভাপতি আলেকজান্ডার সেফেরিন এই প্রস্তাবকে ‘বাজে ধারণা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি মনে করেন, এটি টুর্নামেন্ট এবং ইউরোপীয় বাছাইপর্বের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের ক্ষতি করবে। কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্ট্যাগলিয়ানিও এই সম্প্রসারণের বিরোধিতা করে বলেছেন, এটি কোনো ভালো ধারণা নয়।
