ইংল্যান্ডকে হারানোর পর মাঠের রাজনীতিতে আর্জেন্টিনা, বিতর্ক ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়রা মাঠে “মালভিনা আর্জেন্টিনা” লেখা একটি ব্যানার নিয়ে উদযাপন করেন। এই ঘটনাটি মূলত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে। আটলান্টায় বুধবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়ের পর টটেনহ্যামের প্রাক্তন মিডফিল্ডার জিওভানি লো সেলসোসহ দলের অন্য খেলোয়াড়রা মাঠের মধ্যে এই ব্যানারটি তুলে নাচানাচি করেন।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচের মাঠ বা খেলোয়াড়দের সরঞ্জামে কোনো ধরনের রাজনৈতিক স্লোগান প্রদর্শন নিষিদ্ধ।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও ব্রিটেনের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা বিরাজমান। ব্রিটেন থেকে প্রায় ৮ হাজার মাইল এবং আর্জেন্টিনা থেকে ৩০০ মাইল দূরে অবস্থিত এই দ্বীপগুলোর মালিকানা নিয়ে আর্জেন্টিনা বারবার নিজেদের সার্বভৌমত্বের দাবি জানিয়ে আসছে। ১৯৮২ সালে তৎকালীন আর্জেন্টাইন সামরিক জান্তা দ্বীপগুলো দখল করলে ফকল্যান্ড যুদ্ধ শুরু হয়। সেই যুদ্ধে মোট ৯০৭ জন প্রাণ হারান, যার মধ্যে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন সামরিক সদস্য, ২৫৫ জন ব্রিটিশ এবং তিনজন ফকল্যান্ড দ্বীপবাসী ছিলেন।
বর্তমান সময়েও এই দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। ফুটবল ম্যাচের সময় সমর্থকদের মধ্যে প্রায়ই এই নিয়ে পতাকা ও স্লোগান দেখা যায়। শেষ ষোলোয় মিশরের বিপক্ষে জয়ের পরও খেলোয়াড়রা গেয়েছিলেন, “মালভিনার জন্য, দিয়েগো (ম্যারাডোনা) এবং লিও (মেসি)-র শেষ যাত্রার জন্য।”
সেমিফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার ভাইস-প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিলারুয়েল ইংল্যান্ডকে “আক্রমণকারী” এবং “দখলদার জলদস্যু” বলে অভিহিত করে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছিলেন, “আগামীকাল আমরা দখলদার জলদস্যুদের বিরুদ্ধে খেলব।” তিনি আরও বলেন, “এটি কেবল একটি ম্যাচ নয়। আমি রাজনৈতিকভাবে সঠিক বা আবেগহীন হতে পারব না; ইংরেজদের বিরুদ্ধে খেলা মানেই বিশেষ কিছু। এটি মালভিনা, দিয়েগো ও লিও-র শেষ মুহূর্তের জন্য এবং আক্রমণকারীদের থামানোর লড়াই।”
আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাবলো কুইর্নো দাবি করেছেন যে, ফকল্যান্ড দ্বীপের বাসিন্দারা কৃত্রিমভাবে বসতি স্থাপনকারী। ‘লা ন্যাসন’ পত্রিকায় তিনি লেখেন, “যুক্তরাজ্য কর্তৃক একতরফাভাবে আয়োজিত কোনো গণভোটের আইনি কার্যকারিতা নেই। এই বিতর্ক সমাধানের ক্ষমতা কেবল আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের আলোচনার ওপর নির্ভর করে।”
ব্রিটেনের ডাউনিং স্ট্রিট সরাসরি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র জানান, ফকল্যান্ডের বাসিন্দারা ব্রিটিশ এবং তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার রয়েছে। মুখপাত্র আরও বলেন, “যুক্তরাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট। দ্বীপবাসীরা বারবার ব্রিটিশ ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার সর্বাগ্রে।”
আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামের ভেতরে তৈরি হওয়া এই উত্তেজনা স্টেডিয়ামের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। ম্যাচ শেষে সমর্থকগোষ্ঠীর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে এবং পুলিশ অন্তত তিনজনকে আটক করে।
